Home Uncategorized বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

15

ঢাকা অফিস।।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের (তিন মেয়ে) বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত রবিবার অনুসন্ধানে দুদক বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে তাদের অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়।

ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে দুদকের প্রতিবেদনটি তুলে ধরে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। বেনজীর আহমেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান নিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে দুদককে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে বলেছেন। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ফের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। আর অভিযোগের প্রমাণ মিললে দুদককে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষও উচ্চ আদালতের এ আদেশ নিশ্চিত করেন।

এর আগে, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধনে দুদকের গঠন করা কমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জানতে চান হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে কমিটিকে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

ওইদিন আদালতে বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন রিটকারীর আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, দুটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দুদক স্বউদ্যোগে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে গত ৪ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে স্বউদ্যোগে অনুসন্ধানের অনুরোধ করা হয়। সাড়া না পেয়ে গত ২১ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করি। এরপর ২২ এপ্রিল দুদক একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। কিন্তু আমরা দেখেছি দুদক অনেক অভিযোগ অনুসন্ধান না করে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিয়েছে। যে কারণে দুদকের অনুসন্ধানে আমরা বিচারিক তদারকি (জুডিশিয়াল সুপারভিশন) চাচ্ছি।

‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে গত ৩১ মার্চ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। এর দু’দিনের মাথায় গত ২ এপ্রিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে দ্বিতীয় দফার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।