Home আঞ্চলিক রাস্তা নাকি চষা জমি

রাস্তা নাকি চষা জমি

23


কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
তিন বছরের বেশি সময় ধরে খুলনার কয়রায় কয়েকটি সড়কে ইটের খোয়া বিছিয়ে রাখা হয়েছে। খোয়া বিছানো এই সড়কগুলো যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো জায়গায় খোয়া সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার বলছেন, অর্থের সংকুলান নেই, তাই কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়কগুলোতে শুষ্ক মৌসুমেই চলাচল করা যায় না। বর্ষায় এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ওই পথে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা। কাদা-পানিতে পোশাক নোংরা হয়ে যায় তাদের।
সড়কের পাশের বাসিন্দারা জানান, সড়কে নিম্নমানের খোয়া দেওয়ায় গত দুই বছরে তা ধুলা-কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে ভারী যান চলাচলও সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বছরের পর বছর এভাবে কাজ ফেলে রাখায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাড়ে ৫ কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে বাগালি ইউনিয়নের বামিয়া থেকে বাঁশখালী, মালিখালী, বগা বাজার হয়ে নারায়ণপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কে কাদা-মাটির ওপর খোয়া বিছিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কটির কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। একইভাবে সোয়া ২ কোটি টাকার বগা-মালিখালী হয়ে নারায়ণপুর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, ২ কোটি টাকার মহারাজপুর ইউনিয়নের হায়াতখালী থেকে রোনবাগ শ্যামখালী হয়ে দেয়াড়া গোপালের মোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়ক খোয়া বিছিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা সরকারি পুকুর পাড় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়ক মেরামত কাজ তিন বছরেরও বেশি সময় ফেলে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা দেউলিয়া বাজার থেকে কাশিয়াবাদ অভিমুখী দেড় কিলোমিটার সড়কের। একই ইউনিয়নের কাশিয়াবাদ বিসি সড়ক থেকে উত্তরচক মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কের ইট তুলে বালুর বদলে কাদা-মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা চুক্তি মূল্যের এ সড়ক মেরামতের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে এক বছর আগে। একই অবস্থা আমাদি ইউনিয়নের খিরোল-বেজপাড়া সড়কের।
এলজিইডি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব সড়ক মেরামত কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে কোনোটির এক বছর, কোনোটির দুই বছর আগে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদও বাড়ানো হয়নি। কাজের অগ্রগতি কোনোটির ৬০ শতাংশ, কোনোটির ৬৫ শতাংশ, আবার কোনোটির ৫০ শতাংশ কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবিক অবস্থা ভিন্ন।
কাজের ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা হলে তারা কেউই সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। অনেকেই বরাদ্দ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়েছেন। আবার অনেকেই নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে কালক্ষেপণের কথা বলেছেন।
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী দারুল হুদা বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। এতে কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।