Home আঞ্চলিক ফকিরহাটে প্রবল বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

ফকিরহাটে প্রবল বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

13

“জালপাটা ভেশাল অপসরনের জোর দাবী”



পি কে অলোক.ফকিরহাট


বাগেরহাটের ফকিরহাটে গতকয়েক দিনের প্রবল বর্ষনে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বিপুল সংখ্যাক মৎস্য ঘের পানের বরজ ও ফসলি জমিতে রোপনকৃত ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশাংখা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ নদ নদী ও ছোট ছোট জোলা খালে জাল পাটা ভেশাল ও নেটজাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে উপরে জমে থাকা পানি নিচেই নামতে না পেরে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জালপাটা অপসরণ করে দ্রুত পানি সরবরাহ করার ব্যাবস্থা গ্রহন করা না হলে জমে থাকা পানি বন্যার রুপ ধারন করে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


জানা গেছে, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষনে উপজেলার মুলঘর, নলধা-মৌভোগ, বাহিরদিয়া-মানসা, লখপুর, পিলজংগ, শুভদিয়া ও বেতাগা ইউনিয়নের অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বর্ষনের ফলে অধিকাংশ এলাকার মৎস্য ঘের পানের বরজ ও সদ্য রোপনকৃত (কিছু কিছু এলাকায়) ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোন কোন এলাকায় বেশ কিছু মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে মাছ গুলি বেরিয়ে গেছে। প্রবল বর্ষন যে ভাবে শুরু হয়েছে তাতে করে এই বর্ষন আরো কয়েকদিন হলে ডুবু ডুবু মৎস্য ঘের গুলি পুরো তলিয়ে গিয়ে চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির আশাংখা রয়েছে। শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ইউপি সদস্য প্রদীশ কুমার অধিকারী জানান, সরকার কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে এই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নদী পুনঃ খনন করলেও সেই নদী খালে শতশত ব্যাক্তিরা জালপাটা নেটজাল দিয়ে আটকিয়ে রাখার কারনে জমে থাকা পানি নিচেই সরবরাহ হতে পারছে না। যে করনে মৎস্য ঘের গুলি এখন ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। শুভদিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও সমাজসেবক প্রবীর কুমার বিশ^াস বলেন ৮৪ মোড়, তেকাটিয়া, ভাংগনপাড়, ঘনশ্যামপুর কচুয়া ও বড় শুভদিয়া এলাকার অধিকংশ মৎস্য ঘের এখন ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে।

উপরে জমে থাকা গত কয়েক দিনের পানি নিচেই সরবরাহের ব্যাবস্থা গ্রহন করা না হলে মৎস্য চাষিদের ঘের ডুবে তারা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। লখপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আরিদ হোসেন বলেন মাসকাটা সাব প্রজেক্টের খালে দীর্ঘকাল ধরে প্রায় ২ শতাধিক ব্যাক্তি জালপাটা ও ভেশাল দিয়ে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। যে করনে উপরে জমে থাকা পানি নিচেই নেমে যেতে পারছে না। আর না পারার কারনে প্রবল বর্ষনে বন্যার রুপ ধারন করার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রা বলেছেন সরকারী নদী খালে এমন ভাবে জালপাটা ভেশাল দিয়ে রাখা হয়েছে যে উপরে জমে থাকা পানি নিচেই সরবরাহ হতে পারছে না। আর না পারার কারনে প্রবল বর্ষনে বিল খাল গুলি তলিয়ে গিয়ে বিশেষ করে মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মুলঘর ইউনিয়নের গুড়গুড়িয়া এলাকায় বসবাসরত সংবাদকর্মি আকাশ বিশ^াস বলেন তার এলাকার বানিয়াখালি বিল, কলকলিয়া বিল ও কাকডাঙ্গা বিল সহ বেশ কয়েকটি বিলের মৎস্য ঘের গুলি ডুবু অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধ্যান করে দেখা গেছে, বেতাগা ইউনিয়নের ৬০তলা বিঘা কুমোরখালী মাসকাটা ধনপোতা চাকুলী,লখপুর ইউনিয়নের জাড়িয়া ভবনা ভট্টেখামার খাজুরা, পিলজংগ ইউনিয়নের বৈলতলী টাউন নওয়াপাড়া শ্যামবাগাত বালিয়াডাঙ্গা, শুভদিয়া ইউনিয়নের তেকাটিয়া, ভাংগনপাড়, ঘনশ্যামপুর কচুয়া ও বড় শুভদিয়া,বাহিরদিয়া ইউনিয়নের বাহিরদিয়া লালচন্দ্রপুর সাতবাড়িয়া হুচলা ও মুলঘর এবং নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নে অবস্তিত অধিকাংশ বিল গুলি এখন ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। আর এর মধ্যদিয়ে যে নদী খাল গুলি প্রবহমান রয়েছে, সে নদী খালে স্থানীয়রা অবৈধ ভাবে বিপুল পারিমানে জালপাটা ও ভেশাল পেতে পানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে। যার ফলে পানি নিষকাশনে চরম বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। নদী ও খাল গুলি হতে অতিদ্রুত জালপাটা ভেশাল ও অন্যান্য সামগ্রী দ্রুত অপসরণ করা না হলে প্রবল বর্ষনের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেলে তা বন্যার রুপ ধারন করার অশাংখা রয়েছে বলে সচেতন মহলের ধারনা।