Home আঞ্চলিক কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা

17


সোহাগ হোসেন, কলারোয়া প্রতিনিধি||
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলারও সময় নেই কামার শিল্পীদের। আর মাত্র ১৫ দিন পরেই পবিত্র কোরবানীর ঈদুল আজহা। তাই এই ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার কামার শিল্পীরা। দিনরাত সমান তালে বাজনায় লোহার ঠুং ঠাং, ঝন-ঝনাৎ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে এলাকা।
কলারোয়ার বোয়ালিয়ায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামার শিল্পীরা দা, বটি, চাকু, চাপাতি ছুরি, খঞ্জরসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি তৈরি করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাজের চাপ থাকলেও মজুরি ও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা। সাতক্ষীরা জেলাসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বটি, চাকু, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন কামার শিল্পীরা। এসব ব্যবহার্য জিনিস জেলা শহরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন হাটবাজারের পাইকারি বিক্রি করতে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো পুড়ে দা, বটি, চাপাতি, চাকুসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করছেন কামাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ কারিগর শিল্প।


রোববার কলারোয়ার বাজারে কামারপট্টিতে গেলে রনোজিত কর্মকার বলেন, মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে। হয়তো বা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না। তবে কুরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই। আমাদের বাপ দাদার পেশা বলে শত কষ্টের মধ্যেও ধরে রেখেছি। সারা বছর তেমন কোনো কাজ না থাকলেও কুরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর নতুন কাজ কম হলেও বেশীরভাগ পুরানো যন্ত্রপাতি রিপিয়ার করতে আগ্রহ, কিন্তু যন্ত্রপাতি রিপিয়ার ও নতুন কাজ মোটামুটি হচ্ছে। কুরবাণীর এখোন ১৫ দিন বাকী দেখি ঈশ্বর কি মঙ্গল করেন। কামার দোকানের দিনমজুর গোবিন্দ কর্মকার বলেন, আমরা সারা বছর অলস সময় পার করলেও কোরবানীর ঈদ আসলেই অধিক শ্রম দিয়ে বেশি আয়ের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেশি হওয়ায় আমাদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে বসেছে। ছুরি, বটিসহ লোহার বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি তৈরীতে আমাদের ব্যায় বেশি হলেও উপযুক্ত মূল্যে কিনছেন না ক্রেতারা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকী থাকলেও আমাদের তৈরী যন্ত্রপাতির বিক্রি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি আমরা।


কলারোয়া হরিতলার মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, প্রতি কুরবানী ঈদ আসলেই কিছু লাভের আশায় আমরা এই কাজে ব্যবসায় একটু জোর দেই। আমাদের এই সব যন্ত্রপাতি বানানোর জন্য আমরা বাইরে থেকে লোহা ও কয়লা কিনে আনি। আমরা লোহা কিনি ৯০ টাকা কেজি ধরে আর কয়লা কিনি প্রতি বস্তা ৮০০ টাকায়। কিন্তু আমরা দিন রাত এতো পরিশ্রম করেও আমরা লাভের মুখ দেখি কম। এবার লোহা ও কয়লার দাম বৃদ্ধি ও সংকট হওয়ায় এসব সরজ্ঞম তৈরি সামগ্রীর দামও বেড়ে গেছে। কিন্তু তৈরি যন্ত্রপাতি বেশি দামে কিনতে রাজি হয় না ক্রেতারা। তাড়াছা কিছু চায়না ছুরি, চাকু বাজারে এসেছে, এতে করে আমাদের বাজার আরো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে এ কাজ হোক আর না হোক বাব দাদাদের এই পেশা আমাদের ধরে রাখতে হবে। কারন আমরা অন্য কোন কাজও পারি না, না খেয়ে হলেও বাব দাদারা আমাদের এই পেশা শিখেছেন।