নিজস্ব প্রতিনিধি।।
যশোরের মনিরামপুরে একটি সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজে নিম্নমানের খোয়া, বালু ও পাথর ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সড়কের কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার না হতেই পিচ উঠে যাচ্ছে। কোথাও দেবে যাচ্ছে সড়ক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকমতো দেখভাল না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নওয়াপাড়া-সুন্দলী সড়কের ৪ হাজার ৭৬৫ মিটার পুনর্নির্মাণের জন্য এলজিইডি ২০২৩ সালের অক্টোবরে ই-টেন্ডার দেয়। পৌর শহরের ঢাকুরিয়া মোড় থেকে শুরু হয়ে হরিদাসকাটি ঋষিপল্লির পূর্বপাশ পর্যন্ত সড়কটির জন্য তিনটি গ্রুপে দরপত্র দেওয়া হয়। এক নম্বর গ্রুপে ঢাকুরিয়া মোড় থেকে হোগলাডাঙ্গা মাদ্রাসার সামনে পর্যন্ত ১৫৭৫ মিটার অংশের কাজ পায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরের মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স। দুই নম্বর গ্রুপে সেখান থেকে হোগলাডাঙ্গা বাজার পর্যন্ত ১৫৭৫ মিটার কাজ পায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার মেসার্স ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। তিন নম্বর গ্রুপে ওই বাজার থেকে হরিদাসকাটি ঋষিপল্লির পূর্বপাশ পর্যন্ত ১৬৭৫ মিটার অংশের কাজ পায় চৌগাছার মেসার্স আসিফ এন্টারপ্রাইজ।
এদের মধ্যে এক ও দুই নম্বর গ্রুপের জন্য গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তাদের চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তিন নম্বর গ্রুপের কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত বছরের ১৯ নভেম্বর। এটি শেষ করার তারিখ ছিল চলতি বছরের ২৩ মার্চ। তবে গত ১৪ মে সব কাজ শেষ হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক ও তিন নম্বর গ্রুপের কাজটি কিনে নেয় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বনান্তর এন্টারপ্রাইজ। তারা সড়কের দুই পাশ সম্প্রসারিত করে মাটি কেটে খোয়া ও বালু ব্যবহার করে বক্স বা ম্যাকাডাম তৈরি করে। পাথর দিয়ে কার্পেটিং সার্ফেস তৈরির পর বিটুমিন ঢেলে সড়কের কাজ সম্পন্ন করে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজে নিম্নমানের খোয়া, বালু, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করেছে তারা। এ ছাড়া সড়কের মোড়ে মোড়ে আরসিসি গাইডপোস্ট স্থাপনে নকশার ব্যত্যয় ঘটেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে শরিফ ব্রিকফিল্ডের পূর্ব পাশে কয়েক জায়গায় কার্পেটিং উঠে থাকতে দেখা যায়। একই দৃশ্য চোখে পড়ে হোগলাডাঙ্গা মোড়ে। হোগলাডাঙ্গা মাদ্রাসার সামনে সড়কের মাঝখান দেবে গেছে।
স্থানীয় কৃষক আইয়ুব আলীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী করায় এমনই হওয়ার কথা ছিল। এলজিইডি কর্মকর্তারা দেখভালে অবহেলা করায় ঠিকাদার কাজে নয়ছয় করেছেন বলে দাবি করেন একই এলাকার আবদুল হামিদ।
হরিদাসকাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর কবির লিটন এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সঠিকভাবে কাজ করতে বারবার তাগিদ দিয়েছেন। তবু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তারা তাদের কথা শোনেনি।
ওই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের ভাষ্য, স্থানীয় লোকজন যে অভিযোগ করছেন, তার সব ঠিক নয়। তবে কিছু গড়িমসি হয়েছে। এ জন্য ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, বেজ ছাড়াই গাইডপোস্ট নির্মাণ ও কার্পেটিংয়ের সারফেস সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। এ কারণে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স আসিফ এন্টারপ্রাইজের বিল দেওয়া বন্ধ করেছেন। দ্রুত ঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়ে ১৪ মে তাদের চিঠি দিয়েছেন।
তবে গতকাল শনিবারও ওই চিঠি পাননি বলে দাবি করেন মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক জাকাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মেসার্স বনান্তর এন্টারপ্রাইজ ও আসিফ এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে মিলে ওই সড়কের কাজ করেছেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে মেরামত করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মেসার্স বনান্তর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদের মোবাইল ফোনে কয়েক দফায় কল দিলেও তিনি ধরেননি।









































