Home আঞ্চলিক কয়রায় মেরামতের মাস না যেতেই ধস

কয়রায় মেরামতের মাস না যেতেই ধস

15


কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
‘মেরামতকাজ করার সময় যন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে ফেলা হয়েছে। সেই মাটি দিয়ে খানিকটা উঁচু করা হয়েছে বাঁধ। কয়েক দিন যাতি না যাতি সেই মাটি আবার গোড়ার গর্তে ধসে পড়েছে। কনট্রাক্টরের লোকজন যেভাবে কাজের নামে অকাজ করি গেছে, তাতে সামনে কোনো দুর্যোগ আসলি এই বাঁধই আমাগের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের হড্ডা এলাকায় সদ্য মেরামত করা বাঁধ ধসে পড়ায় এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল দপ্তরি। এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোম্পানির লাইসেন্সে শিমুল বিশ্বাস নামে ডুমুরিয়া উপজেলার এক ব্যক্তি ওই বাঁধের মেরামত কাজ করেন। এরই মধ্যে মেরামত করা বাঁধের ৩০ শতাংশ ধসে গেছে।
জানা গেছে, বাঁধ মেরামত করার সময় কয়েকটি খননযন্ত্র দিয়ে ওই বাঁধের ঢালের মাটি কেটে নেওয়া হয়। নদীর পাশের চরে মাটি থাকলেও সেখান থেকে মাটি আনেননি তারা। বাঁধসংলগ্ন স্থান থেকে যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় হাজারখানেক গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অনিয়মে বাধা দিলে ঠিকাদারের লোকজন মামলা করার ভয় দেখায় বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

সোলায়মান সরদার, ভবাশীষ মণ্ডল, আফজাল শিকারিসহ এলাকার অর্ধশতাধিক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, বাঁধটি নির্মাণের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক নির্দেশনা মানেনি ঠিকাদারের লোকজন। বাঁধের উচ্চতা ও ঢাল নিয়মমাফিক হয়নি কোথাও। বাঁধের মেরামতকাজ যেভাবে শেষ করা হয়েছে, তাতে বাঁধটি টেকসই হবে না বলেই ধারণা করছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৭ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে হড্ডা থেকে বানিয়াখালী পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫০ মিটার বাঁধ মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোম্পানিকে গত মার্চে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কাজের মেয়াদ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, শিমুল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বাঁধ মেরামতের কাজ দেখাশোনা করেছেন। মেরামতকাজের সময় পাউবোর একজন কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে প্রকল্প এলাকায় আসা-যাওয়া করলেও তাঁকে ঠিকাদারের লোকজনকে কাজের ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়নি। গাছ কাটা ও বাঁধের পাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ওই কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু হাওলাদারের ভাষ্য, কাজের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। যেসব স্থানে কাজের মান খারাপ হয়েছে, তা ঠিক করতে বলা হয়েছে। গাছ কাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
সহঠিকাদার শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাঁধের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন ঢাল এবং ওপরে ড্রেসিং করা হবে। মেরামতকাজ নিম্নমানের হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি যতটুকু কাজ করেছেন, মাপজোক করে সে পরিমাণ বিল দিলেই তিনি সন্তুষ্ট। এর বেশি তিনি দাবি করবেন না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, বাঁধ মেরামতকাজে বেশির ভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বিক্রি করে দেয়। যারা সাব-কনট্রাক্ট নেয়, তারা এসব কাজে পারদর্শী নয়। যে কারণে মানসম্মত কাজ হয় না।
পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম রিফাত বিন রফিক বলেন, কাজের মান কিছুটা খারাপ হয়েছে ঠিক, তবে ঠিকাদারকে ধসে যাওয়া স্থান ঠিক করে দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।