Home আঞ্চলিক পুলিশি বাঁধায় পণ্ড বিএনপি নেতার কাপড় বিতরণ, খালি হাতে ফিরলেন দরিদ্ররা

পুলিশি বাঁধায় পণ্ড বিএনপি নেতার কাপড় বিতরণ, খালি হাতে ফিরলেন দরিদ্ররা

43

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাগেরহাটে অসহায়দের মাঝে যাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম। আজ শুক্রবার সকালে শহরের সরুই এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে কাপড় নিতে হাজিরও হয়েছিলেন কয়েকশ অসহায়, দরিদ্র নারী-পুরুষ। তবে পুলিশের বাধায় তাঁদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

অভিযোগ করে বিএনপি নেতা এম এ সালাম বলেন, ‘যাকাত দিতে আসলাম, তাও দিতে দিলো না। তাহলে কি যাকাত দেওয়া যাবে না?’। তবে বিএনপি নেতার কাপড় বিতরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, প্রতি বছরের মত রোজায় কাপড় বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের ছোট ভাই বিএনপি নেতা এম এ সালাম। এজন্য আজ সকাল ৯টা থেকে বাগেরহাট সদর ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ আসতে থাকেন শহরের সরুই এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে। তবে সকাল সোয়া ১০টার দিকে সাদা পোশাকে আসা একদল পুলিশ ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করে ‘আজ কাপড় দেওয়া হবে না’ বলে উপস্থিত নারী-পুরুষদের বের করে দেয়। কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি পথ থেকেও অনেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে দূরদুরান্ত থেকে এসে কাপড় না পেয়ে ফিরে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। শহরের নাগেরবাজার এলাকার কুলসুম বেগম ও শানু আক্তার বলেন, ‘শাড়ি দেবে বলে স্লিপ পাইছিলাম। তাই সকাল থেকে রোদে বইসে ছিলাম। পরে কয়েকজন এসে বের করে দিলো। পরে শুনি, তারা পুলিশের লোক। আমরা গরিব মানুষ, একখান শাড়ি নিতে দিলি কি হতো।’

কাড়াপাড়া এলাকার রহিমা বেগম জানান, ‘সিলিপ নিয়ে কাপড় নিতে এসেছিলাম। হঠাৎ করে কিছু লোক এসে বলল, আজকে কাপড় দেওয়া হবে না। শুনলাম তারা পুলিশের লোক। আমি গরিব মানুষ, রাজনীতি বুঝি না। রোজা থেকে একটি নতুন কাপড় নিতে এসেছিলাম কিন্তু পেলাম না।’

সরুই এলাকার স্থানীয় দু’জন বাসিন্দা জানান, সকাল থেকে বিএনপি অফিসে অনেক লোক জড়ো হয়েছিল। পরে অনেক হইচই শুনছি। লোকজন একসঙ্গে বের হয়ে গেছে। রাস্তায় অনেক পুলিশ ছিল।

এম এ সালাম বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কাপড় বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের একটি দল আমার বাসায় এসে বলতেছে। কাপড় দেওয়া যাবে না। এবার বন্ধ করেন, এখন শাড়ি-লুঙ্গি দেওয়া যাবে না। অফিসে যাকাত নিতে আসা লোকজনদেরও পুলিশ বের করে দিছে।’

তিনি বলেন, পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর তার বাসায় গেছিলেন। তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন। বাইরে পুলিশের গাড়ি ছিল এবং তাতে পোশাকধারী পুলিশের সদস্যরা ছিলেন। ওই সাব-ইন্সপেক্টর এসে ওসি’র বরাত দিতে বলছে, ‘ওসি স্যার বলছে, দেওয়া যাবে না শাড়ি-লুঙ্গি।’

এর আগে সদর মডেল থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ফোন করেও কাপড় বিতরণ করতে নিষেধ করছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার পরও দীর্ঘক্ষণ গাড়ি নিয়ে পুলিশ তার বাসার সামনে ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, এমন কোনো কিছুই তো আমি জানি না। সাদা পোশাকে কে গেছে না গেছে, তা আমার জানা নেই। কাপড় দিলে উনি দিতে পারেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।’