Home জাতীয় পরিপক্ক ইলিশ ধরা পড়বে প্রচুর

পরিপক্ক ইলিশ ধরা পড়বে প্রচুর

9

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট>>

গত বছরের মতো এবারও চাঁদপুরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই। ইলিশ শিকারে পদ্মা-মেঘনায় নামলেও জেলেরা ফিরছেন হতাশা নিয়ে। এর একটি কারণ হলো ইলিশের এ অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিলে অসাধু জেলেরা অবাধে মা ইলিশ ও পোনা ইলিশ নিধন করে। করোনা মোকাবিলায় প্রশাসন ব্যস্ত থাকায় নদীতে নজরদারি ছিল তুলনায় কম। তবে মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত জুন-জুলাইয়ে বরাবরই মিঠা পানির ইলিশ উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি থাকে। জাটকা নিধন ইলিশ উৎপাদন বা আহরণের ক্ষেত্রে খুব বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। বরং তারা বলছেন, এবার এ অঞ্চলে পরিপক্ক ইলিশ ধরা পড়বে প্রচুর এবং সেগুলো হবে অন্যসব বছরের তুলনায় বেশি সুস্বাদু।

চাঁদপুর মৎস্য ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক আনিছুর রহমান জানান, করোনার জন্য এবার কয়েক মাস লঞ্চসহ নানা ধরনের যান্ত্রিক নৌযান একেবারই চলেনি। ফলে পদ্মা-মেঘনার পানি দূষণ থেকে রক্ষা পেয়েছে। নদীতে ইলিশের জন্য নানা প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়েছে। তারা স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়িয়েছে। ফলে করোনা আমাদের জন্য অভিশাপ হলেও ইলিশের জন্য একরকম আশীর্বাদ।

তিনি বলেন, আশা করা যায় এই সুস্বাদু ইলিশ আগস্টের শুরু থেকেই ধরা পড়তে শুরু করবে। তিনি আরও জানান, গত বছর মোট পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার টন ইলিশের মধ্যে দুই লাখ ৪৪ হাজার টনই ছিল মিঠা পানির তথা নদীর। যার বেশিরভাগই ছিল চাঁদপুরসহ এর আশপাশের দক্ষিণের জেলাগুলোর। এবার এই উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় এখন রাজত্ব করছে পড়শি ইলিশ। অর্থাৎ সাগর বা তার আশপাশের একজাতের লোনা ছোট ইলিশ। বরিশাল, ভোলা, সন্দ্বীপসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশেই সয়লাব এখন চাঁদপুরের ইলিশের বাজার।

সরেজমিনে চাঁদপুর মাঠঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিনই চাঁদপুরের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা থেকে ট্রলারবোঝাই করে আসছিল বিভিন্ন আকারের ইলিশ। সড়ক পথেও ট্রাক, মিনি ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোলা, হাতিয়া, চর আলেকজান্ডার, চরফ্যাসন, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থেকে আসে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। বেশিরভাগ খুচরা ক্রেতারা চাঁদপুরের ইলিশ ভেবে এসব ইলিশ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

বাজার ঘুরে ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘাটে ওঠা অধিকাংশ ইলিশের সাইজ এক কেজির নিচে। এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা, ৮০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০-৮০০ টাকা ও ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ কেজিপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহসভাপতি আবদুল বারী জমাদার মানিক ও সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ট্রলারে গড়ে দেড়-দুই হাজার মণ ইলিশ চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছে। তবে গত বুধবার থেকে এই মাছও আসছে কম। কারণ সাগরে চলছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। আসছে ২২ জুলাই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং মাছ আসতে শুরু করবে।