স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনের ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনই এবারই প্রথম ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীকেই চেনে না নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা। নির্বাচনকে ঘিরে তৎপর হয়েছে কিংস পার্টিগুলো। ৪টি কিংস পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন। কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না আসায় অনেক ‘অপরিচিত মুখ’ প্রার্থী হয়েছে বলে মনে করছেন নাগরিক নেতারা।
খুলনার ৬টি আসনের ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন ইতোপূর্বে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৪ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকিরা জামানত হারিয়েছিলেন। কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত বিএনএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন।
খুলনা-১ আসনের ৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিককে চেনেন না এলাকার লোকজন। তারা এবারই প্রথম ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।
খুলনা-২ আসনের ৮ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গণতন্ত্রী পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভীন, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বিএনএম’র মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, স্বতন্ত্র মো. সাঈদুর রহমান ভোটের মাঠে নতুন মুখ।
খুলনা-৩ আসনের ৩ প্রার্থীর মধ্যে জাকের পার্টির এসএম সাব্বির হোসেন গত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত এসএম কামাল হোসেন এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন। জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচিতি নেই এলাকায়।
খুলনা-৪ আসনের ৬ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী দুইবার সংসদ সদস্য। জাকের পার্টির শেখ আনসার আলী গত নির্বাচনে জামানত হারিয়েছিলেন। বিএনএম’র এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র এম ডি এহসানুল হককে চেনে না ভোটাররা।
খুলনা-৫ আসনের ৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ৩ বার সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার এবারই প্রথম প্রার্থী হয়েছেন। জাকের পার্টির সামাদ শেখ নির্বাচনী এলাকায় অপরিচিত মুখ।
খুলনা-৬ আসনের ৬ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান মোড়ল ইতোপূর্বে একবার সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি সিপিবি’র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন গত নির্বাচনে জামানত হারিয়েছিলেন। এনপিপির মো. আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বিএনএম’র এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদির উদ্দিন খানের পরিচিতি নেই এলাকায়।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসেনি। সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে তখন কিংস পার্টিগুলোর প্রার্থীদের আবির্ভাব ঘটে। খুলনায় এই নির্বাচনে তা-ই ঘটেছে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে অপরিচিত কয়েকটি দল প্রার্থী দিয়েছে। আবার যারা প্রার্থী হয়েছে তাদের অধিকাংশই খুলনায় অপরিচিত মুখ। এসব দল বা প্রার্থী জনগণের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারবে না।









































