Home আঞ্চলিক অভয়নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধার অভিযান

অভয়নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধার অভিযান

34

তামিম আহমেদ মনির।।
যশোরের অভয়নগরে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে সুন্দলী বাজার সংলগ্ন ডুমুর বিল ও পাথারঘাটা খাল পুনরুদ্ধার ও কচুরিপানা অপসারণ শুরু হয়েছে। শনিবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে এরকম ব্যতিক্রম অভিযান দেখা যায়।

জানা গেছে, উপজেলার সুন্দলী, হরিদাসকাটি, রাজাপুর, আমডাঙ্গা, ডহরমশিহাটি, সড়াডাঙ্গা, গোবিন্দপুর, আড়পাড়াসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ধান আবাদসহ বিভিন্ন ফসলাদি উৎপাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ প্রায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডুমুর বিল ও পাথারঘাটা খাল পুনরুদ্ধার ও কচুরিপানা অপসারণ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালে কচুরিপনা জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এ উপজেলার ২নং সুন্দলী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে কৃষকরা ফসলাদি উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছিল। এছাড়াও আগামী বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম জলাবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছিল এলাকাবাসী।

খাল পুনরুদ্ধার অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম আবু নওশাদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) থান্দার কামরুজ্জামান, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান, অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তারু, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক, উপজেলা কৃষি অফিসার লাভলী খাতুন,প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক এস জেড মাসুদ তাজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহিম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আঞ্জুমনোয়ারা, ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল প্রমুখ।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয় এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক এ ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় সকল প্রকার কৃষি কাজ সফলভাবে করার লক্ষ্যে এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে খালে যারা ময়লা আবর্জনা ফেলবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম আবু নওশাদ বলেন, এই খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক শ্রেণির মানুষ খালের ভিতরে ময়লা আবর্জনা ফেলে খালের মুখ বন্ধ করে রেখেছে। তাছাড়া কচুরিপানা,বিভিন্ন আগাছাসহ অনেক জায়গায় নেট পাটা দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যে কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। যা খাল পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।