স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয় শ্রীলঙ্কা। যুতসই প্রস্তুতি নিলেও বৈশ্বিক আসরে খেই হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপে টানা তিন ম্যাচ হারে ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। খাদের কিনারায় থাকা ‘দ্য লায়নস’রা অবশেষে জয় পেলো। রাউন্ড রবিন লীগে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারালো কুশাল মেন্ডিস-সাদিরা সামারাবিক্রমরা।
গতকাল লখনৌয়ের ভারতরত্ম শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ১৯তম ম্যাচে সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট ও লোগান ভ্যান বেইকের রেকর্ডগড়া জুটির নৈপুণ্যে ৪৯.৪ ওভারে ২৬২ রান তোলে নেদারল্যান্ডস। জবাবে পাথুম নিশঙ্ক-সাদিরা সামারাবিক্রমার আলো ছড়ানো ব্যাটিংয়ে ১০ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।
২৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। আরিয়ান দত্তের করা পঞ্চম ওভারের ৩য় বল খেলতে গিয়ে বাস ডি লেইডার তালুবন্দি হন লঙ্কান ওপেনার কুশাল পেরেরা। সাজঘরে ফেরার আগে ৮ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৫ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। দলীয় ৫২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফেরেন কুশাল মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কার আগের তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক ফিফটি হাঁকানো এই ব্যাটার এবার সুবিধা করতে পারেননি।
৯.৩ ওভারে আরিয়ানের শিকার হওয়ার আগে ১৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১১ রান করেন দাসুন শানাকার চোটে শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বভার পাওয়া মেন্ডিস। দলীয় ১০৪ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে শ্রীলঙ্কার। ১৬.১ ওভারে পল ভ্যান মেইকারেনের উইকেটে পরিণত হওয়ার আগে ফিফটি হাঁকান ওপেনার পাথুম নিশঙ্ক। ৫২ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৪ রান করেন তিনি। এরপর চতুর্থ উইকেটে চারিথ আসালাঙ্কার সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়েন সাদিরা সামারাবিক্রমা। ৬৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ রানে আসালাঙ্কা ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে আরো ৭৬ রান যোগ করেন সামারাবিক্রমা। ২৫৭ রানে পঞ্চম উইকেট হিসেবে ফেরার আগে ৩৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৩০ রান করেন ধনঞ্জয়া। ১০৭ বলে ৯১* রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন সামারাবিক্রমা। ম্যাচসেরা ইনিংসটিতে ৭টি বাউন্ডারি হাঁকান ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন দুশান হেমন্থ।
নেদারল্যান্ডসের আরিয়ান দত্ত ১০ ওভারে ৪৪ রানের খরচায় ৩ উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান পল ভ্যান মেইকারেন এবং কলিন অ্যাকারম্যান।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নেদারল্যান্ডস। মাত্র ৯১ রানে ৬ উইকেট হারায় দলটি। বিক্রমজিৎ সিং ৪, ম্যাক্স ও’দাউদ ১৬, কলিন অ্যাকারম্যান ২৯, বাস ডি লেইডা ৬, তেজা নিদামানুরু ৯ এবং অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ১৬ রানে আউট হন। এরপর বিপদ সামলে সপ্তম উইকেটে ১৩০ রানের জুটি গড়ে নেদারল্যান্ডসকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট এবং লোগান ভ্যান বেইক। নেদারল্যান্ডসের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপের রেকর্ড এটি। ১১০ রানের আগের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডটি গড়েছিলেন তেজা নিদামানুরু এবং শারিজ আহমেদ। দলীয় ২২১ রানে এঙ্গেলব্রেখট ৭০ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ৮২ বলের ইনিংসটি ৪ চার ও ১ ছক্কায় সাজান তিনি। ৭৫ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রান করেন ভ্যান বেইক। শেষে রোয়েল্ফ ভ্যান ডার মারউই ৭, আরিয়ান দত্ত ৯* এবং পল ভ্যান মেইকারেন ৪ রান করেন।
শ্রীলঙ্কার দিলশান মাদুশঙ্কা ৯.৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। ৪ উইকেট পান কাসুন রাজিথাও। ৯ ওভারে ৫০ রান খরচ করেন তিনি। ১০ ওভারে ৪৪ রানের খরচায় ১ উইকেট পান মহেশ থিকসানা।
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এক ধাপ উন্নতি করেছে শ্রীলঙ্কা। ৪ ম্যাচে ১ জয় ও ৩ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে লঙ্কানরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে আফগানিস্তান। নেট রান রেটে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। সাতে থাকা বাংলাদেশের পয়েন্টও ২। সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড এবং দুইয়ে ভারত।











































