Home আঞ্চলিক গোপন টর্চার সেল থেকে ১৩ দিন পর ব্যবসায়ি উদ্ধার, সদর থানায় মামলা

গোপন টর্চার সেল থেকে ১৩ দিন পর ব্যবসায়ি উদ্ধার, সদর থানায় মামলা

68

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরা ভোমরায় সিএন্ডএফ ও আ’লীগ নেতা মাকসুদের গোপন টর্চার সেল থেকে ১৩ দিন পর ব্যবসায়িকে উদ্ধার করেছে সদর থানার পুলিশ। এ বিষয় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। সম্প্রতি গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ভোমরা স্থল বন্দর এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যবসায়ি সাঈদ মোহাম্মদ সাদাতকে উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খানের ম্যানেজার মহসিনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাঈদ মোহাম্মদ সাদাত চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ গ্রামের মৃত সামছুল আলম চৌধুরী ছেলে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার এএসএম মাহফুজুর রহমানের ছেলে ও ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খান। অন্যদিকে তিনি সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গত ১০মে ২০২২ খ্রিঃ তারিখে তিনি সিলেকশনের মাধ্যমে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হন। এর কিছুদিন পর সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদলাভ করেন। তবে ওই দুইটি পদ লাভের পর থেকে অনেকটাই বে-পরোয়া হয়ে ওঠে এএসএম মাকসুদ খান। শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোমরা স্থলবন্দরে ট্রাক প্রতি বিল অব এন্ট্রি ২০০ টাকা করে। কিন্তু ভোমরা স্থল বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনে কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু সভাপতি ও এ এস এম মাকসুদ খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করার পর থেকে বন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে ট্রাক প্রতি বাড়তি ২০০ টাকা করে আদায় করে। এ ঘটনায় বার বার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও নেওয়া হয়নি কার্যকরী ব্যবস্থা। এ ছাড়াও যে টর্চার সেল থেকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাউদ সাদাতকে উদ্ধার করা হয়, সেই টর্চার সেলটি ভোমরা বন্দরে মাকসুদের সালিশখানা নামে পরিচিত। নিজের দেওয়া সুদের টাকা ও অন্যান্য ব্যবসায়ীর টাকা কমিশনের মাধ্যমে আদায় করে দেওয়া সহ বন্দর কেন্দ্রীক কোন ব্যক্তি মাকসুদ খানের বিরুদ্ধে গেলেই সালিশখানার টর্চার সেলে আটকিয়ে নির্যাতন করে দমন করা হয়।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার বেলা ১২টা১২মিনিটে এ এস এম মাকসুদ খান মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সাইদ সাদাত আমার ম্যানেজারের দোস্ত। তারা একসাথে জুম্মার নামাজ পরে হোটেলে খেয়ে দুপুরে একসাথে ঘুমিয়েছে। ’ ‘তবে সাদাতের শরীরে নির্যাতনের চিহ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আপনাকে ডকুমেন্টস পাঠাচ্ছি। অন্যদিকে বন্দর থেকে ট্রাকপ্রতি বাড়তি ২০০ টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।’বন্দরে ব্যবসায়ী নির্যাতনের ঘটনায় সাতক্ষীরা যুবলীগের বর্তমান আহবায়ক ও ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান জানান, বন্দরে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা দুঃখজনক। ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে আমিও মাকসুদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেই। তবে ৬ লাখের বেশি সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও সে আমার নামীয় একটি চেক ১৬ লাখ টাকায় ডিজঅনার করে। তখন আমি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলাম। আমাকে যদি সে এই রকম হয়রানি করে তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের যে পরিমান দূর্ভোগ তা অকল্পনীয়। মূলত বন্দরে ব্যবসায়ীদের কাছে সে চড়া সুদের ব্যবসা করে। আর সেই টাকা আদায় বা কমিশনে অন্য ব্যবসায়ীদের টাকা আদায় করে দেয়ার জন্য এই টর্চার সেল ব্যবহার করে।’ মি. মিজান আরও বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসতে গেলে যে রকম দলীয় কার্যক্রম বা পূর্বের পদ পদবীর প্রয়োজন হয় তার কোনটিই মাকসুদের নেই। সে কীভাবে এ পদে আসলো তা আমার বোধগম্য নয়।’ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ী ও সিনিয়র সাংবাদিক রাম কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে ব্যবসায়ী সাউদ সাদাত প্রতারনা করেছে। কিন্তু সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাকসুদ খান তাকে আটকে রেখেছে তা সেটা ভুল করেছে।ভোমরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ‘গত কয়েকদিন ধরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খানের অফিসে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রাখে নির্যাতন করা হয়েছে এমন গুঞ্জন শুনে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক শুক্রবার বিকেলে সেখানে গিয়ে ঘটনা সত্যতা পায়। এরপর খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ এসে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে।