Home আঞ্চলিক আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর, ভ্যান গাড়ি ও চিকিৎসা সহায়তার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ

আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর, ভ্যান গাড়ি ও চিকিৎসা সহায়তার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ

20

রূপসা প্রতিনিধি।।
রূপসা থানা গৃহনির্মাণ ইমারাত শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর, উপজেলা পরিষদ হতে সরকারিভাবে ভ্যান গাড়ি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল হতে চিকিৎসা সহায়তা ও জন্ম নিবন্ধন করার কথা বলে প্রায় শতাধিক শ্রমিকের নিকট থেকে বিভিন্ন অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্ণীতির প্রতিবাদ করায় সংগঠনের সভাপতি কালাম মৃধাকে একক সিদ্ধান্তে বহিস্কার করায় সাধারণ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা শ্রম অধিদফতর, রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার বাগমারা গ্রামে বসবাসকারী আলম সরদারের স্ত্রী রূপসা থানা গৃহনির্মাণ ইমারাত শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মঞ্জিলা বেগম জানায়, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম তাকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৯ হাজার টাকা নেয়। পরে ঘর দিতে না পারায় ৩ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকী টাকা নিয়ে নানা তালবাহানা করছে।
শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সংগঠনের সদস্য নাসরিন বেগম বলেন, আমাকে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে সেক্রেটারী কামরুল ২০ হাজার টাকা ও আমার স্বামীকে উপজেলা থেকে ভ্যান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নেয়। লিপিয়া বেগম বলেন আমার ছেলেকে ভ্যান দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয় কামরুল। আজ পর্যন্ত ভ্যানও দেয়নি টাকাও দিচ্ছে না। আঞ্জু বেগম বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা বলে কামরুল আমার স্বামীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার সময় বলে আমি তোমাদের ২ লাখ টাকা এনে দিতে পারবো। আমি চিকিৎসা সহায়তাতো পাইনি। এমনকি আমাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকাগুলিও ফেরত দিচ্ছে না। সদস্য হেলেনা বেগম বলেন, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা বলে সেক্রেটারী কামরুল আমার কাছ থেকে এক হাজার ২৩০ টাকা নিয়েছে।
শুধু মঞ্জিলা, নাসরিন, লিপিয়া বেগম, আঞ্জু বেগম ও হেলেনা বেগম নয় এই কামরুল খুলনার নতুন বাজার এলাকার মৃত সামছু শেখ এর ছেলে সেলিম শেখকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সদস্য অর্ন্তভুক্ত করে ঘর দেয়া বাবদ ৪ হাজার টাকা, নিকলাপুরের বিল¬ালের স্ত্রী নুরুনাহারকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা, শ্রীরামপুর গ্রামের উজির মোল্ল¬াকে ভ্যান দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা, তাসলিমা বেগমের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, শ্রম কল্যাণ তহবিল হতে চিকিৎসা সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নাসিমা বেগমের কাছ থেকে ১২৩০ টাকা, ফেরদৌসী বেগমের কাছ থেকে ৬০০ টাকা, হালিমা খাতুনের কাছ থেকে ৯০০ টাকা, মোছাম্মাৎ নুরুন্নাহার বেগমের কাছ থেকে ১৯০০ টাকা, মেহেরুন বেগমের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, আসমা বেগমের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা, তানিয়া খাতুনের কাছ থেকে ৮৫০ টাকা, সবুরুন বেগমের কাছ থেকে ১২৩০ টাকা, হালিমা বেগমের কাছ থেকে ১২৩০ টাকাসহ প্রায় শতাধীক শ্রমিকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যামে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা।
রূপসা থানা গৃহনির্মাণ ইমারাত শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল শেখ বলেন, অনেক সদস্যদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে সাধারণ সম্পাদক কামরুলের টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। উনি কখন কাকে সদস্য বানান আর কার কাছ থেকে টাকা নেন তা আমাদের জানিয়ে করেননা। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং এর দ্বায়ভারও তার। তিনি আরো বলেন, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ছাড়াও অফিস কক্ষের একাংশ ভাড়া দেওয়া, অফিসে জুয়ার আসর বসানোসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি কালাম মৃধা বলেন, সাধারণ সম্পাদকের অনিয়ম দুর্ণীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় সে আমাকে বহিষ্কার করার চক্রান্ত করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
ইমারাত শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার আমি কে? আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেয়নি এবং কাউকে ঘর দেওয়ার কথাও বলিনি। এর সবই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।