Home আঞ্চলিক নবদ্বীপের চুইঝাল-শজনে পাতা গুঁড়ায় দারুণ সাড়া

নবদ্বীপের চুইঝাল-শজনে পাতা গুঁড়ায় দারুণ সাড়া

11

স্টাফ রিপোর্টার।।
শজনে পাতা ও চুইঝালের গুঁড়া তৈরি করে চমক দেখিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়ার বরাতিয়া গ্রামের কৃষক নবদ্বীপ মল্লিক। পরিকল্পনা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় রপ্তানি করতে পারছেন না। তবে দেশের বাজারে তাঁর পণ্য দারুণ সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন ক্রেতারা অনলাইন ও সরাসরি সংগ্রহ করছেন।

নবদ্বীপ মল্লিক জানান, প্রচুর পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ শজনে এবং শজনে পাতা। স্থানীয় বাজারেও দিন দিন বাড়ছে চাহিদা। এ জন্য তিনি বারো মাসি ৪০০ শজনে চারা সংগ্রহ করে গত বছরের শুরুতে দেড় বিঘা জমিতে লাগান। আট মাসে গাছগুলো বড় হওয়ার পর এ মৌসুমে শজনে বিক্রি করেছেন। শজনে শেষ হলে সাধারণত গাছের ডাল কেটে দিতে হয়, প্রচুর পরিমাণে পাতা নষ্ট হয়। ভারতের তামিলনাড়ু ঘুরতে গিয়ে শজনে পাতা গুঁড়ার চাহিদা দেখে আগ্রহী হন নবদ্বীপ। এর পর পাতা কেটে বাছাই করে চার-পাঁচ দিন শুকিয়ে পরীক্ষামূলক ১০ কেজি গুঁড়া দুবাই পাঠান। কিন্তু দুবাইয়ের ক্রেতা মেশিনে মিহিভাবে গুঁড়া করাসহ কয়েকটি শর্ত দেন। মিহি করার যন্ত্র কেনার সামর্থ্য না থাকায় রপ্তানির পরিকল্পনা বাদ দেন নবদ্বীপ। দেশেই বিক্রির উদ্যোগ নেন। বর্তমানে মাসে ২০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত শজনে গুঁড়া বিক্রি করছেন। পাইকারি ও খুচরায় কেজিতে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা রাখছেন তিনি।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নবদ্বীপ গুঁড়া ছাড়াও শজনের শুকনো পাতা বিক্রি করছেন। ঢাকায় তিন দফায় একজনকে পাঁচ টন শুকনো পাতা দিয়েছেন, দাম রেখেছেন ৩০০ টাকা কেজি।

চুইঝালের গুঁড়ার বিষয়ে নবদ্বীপ জানান, ১০ হাজার টাকা দরে মাসে চুইঝালের তিন থেকে পাঁচ কেজি গুঁড়া বিক্রি করছেন। কৃষি অফিসের সহায়তায় ২০১৮ সাল থেকে চুই গাছের চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। চুই লতা কাটার পর বেশি দিন রাখা যায় না। এ জন্য চুইঝাল নষ্ট ঠেকাতে গুঁড়া তৈরির পরিকল্পনা করেন এবং বিক্রি করে দারুণ সাড়া পাচ্ছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, চুইঝাল চিবিয়ে খেয়ে যে স্বাদ পাওয়া যায়, গুঁড়ায় সম্ভব হবে না। কিন্তু শজনে গুঁড়ার স্বাদও অসাধারণ। চুইঝালের শিকড়, বাকল ও ডাল রোদে শুকিয়ে ব্লেন্ডার মেশিনে গুঁড়া করে মসলা করছেন। মিহি করার মেশিন কিনতে পারলে দুটি পণ্যই রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত উপপরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন জানান, শজনে পাতার গুঁড়া খুবই পুষ্টিকর। ঔষধি গুণ থাকায় অনেকে পানিতে ভিজিয়ে পান করেন। দুই থেকে ছয় ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পান করলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয়। শজনে পাতা ও চুইঝালের গুঁড়া তৈরিতে কৃষি বিভাগ নবদ্বীপকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।