শামীম খান জনী,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি।।
বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লাবিবা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। চিকিৎসক বানানোর প্রবল ইচ্ছায় মেধাবী মেয়েকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করলেও এমন আনন্দে শামিল হতে পারেনি বাবা ফজলুল হক। মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ৩ মে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
লাবিবা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের মেয়ে ও দত্তনগর এসএম ফার্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এক ভাই বোনের মধ্যে লাবিবা বড়।
জিপিএ-৫ পাওয়া লাবিবা বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল ভালো লেখাপড়া করে চিকিৎসক হব। আমার ফলাফলে মা, আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা অনেক খুশি হয়েছেন। আজ বাবা বেঁচে থাকলে সব থেকে বেশি খুশি হতেন। বাবার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে ভালো লেখাপড়া করে আমি চিকিৎসক হতে চাই।
লাবিবার চাচা ইউপি সদস্য আবুবক্কর জানান, মেয়ের পরীক্ষা চলাকালে ভাই ফজলুল হক মারা যান। বাবার মৃত্যুত ভেঙ্গে না পড়ে স্বাভাবিক ভাবে পরীক্ষা চালিয়ে যান লাবিবা। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে গত শুক্রবারের এসএসসি ফলাফলে লাবিবা জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে আমরা সবাই অনেক খুশি হয়েছি। বাবার মৃত্যু দিনের ওই বিষয় ছাড়া বাকি সবগুলো বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে লাবিবা।
দত্তনগর এসএম ফার্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হোসাইন বলেন, বাবার মৃত্যুতে লাবিবা কিছুটা ভেঙ্গে পরলেও বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা অংশ নেয় সে। বাবার স্বপ্ন আর নিজের ইচ্ছা শক্তির ফলে লাবিবা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।











































