Home জাতীয় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার দিয়ে জোনভিত্তিক লকডাউন শুরু

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার দিয়ে জোনভিত্তিক লকডাউন শুরু

9

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজার দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে সরকার ঘোষিত এলাকাভিত্তিক লকডাউন কর্মসূচীর বাস্তবায়ন। তবে শুরুতেই এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। করোনা সংক্রমণের শুরুতে পাওয়া ভবন ও এলাকাভিত্তিক লকডাউনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শাপাশি লকডাউনে দোকান ও বাসা ভাড়া সমস্যা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে যাতে কাউকে বেতন ও চাকরি হারাতে না হয় তারও নিশ্চয়তা চেয়েছেন তারা। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার জন্য কোন এলাকা লকডাউন ঘোষণার দুই থেকে তিন দিন আগে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে জানানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। লকডাউন বাস্তবায়নে সংক্রামক ব্যাধি আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হবে। এখনও দেশজুড়ে লকডাউন এলাকার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়নি। মঙ্গলবারও বিষয়টি নিশ্চিত করাসহ লকডাউনের নানা দিক চূড়ান্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন বিভাগের অংশগ্রহণে অভ্যন্তরীণ জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক (রেড, ইয়েলো এবং গ্রীন) লকডাউন ঘোষণা সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু লকডাউন বাস্তবায়নের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে সাধারণ ছুটি ঘোষণার মধ্য দিয়েই কার্যত লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এবার প্রথম থেকেই এটা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজাবাজার দিয়ে শুরু হলেও পরে কোন এলাকা রেড, ইয়েলো বা গ্রীন জোন চিহ্নিত করা হয়েছে, তা কেউ প্রকাশ করছেন না। কবে কোন এলাকা অবরুদ্ধ করা হবে, তা বলা হচ্ছে না। এর আগে জোনভিত্তিক লকডাউনের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অথচ অন্যান্য সংস্থা থেকে এলাকা নির্ধারণ করে গত রবিবার থেকে লকডাউন শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে গত রবিবার ঢাকায় এ সংক্রান্ত কিছুই হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইটে জোন চিহ্নিত করে তালিকা দেয়া হয়। পরে বলা হয় ওই তালিকা পুরনো। কিন্তু নতুন তালিকা ঘোষণার বিষয়ে কিছুই বলছেন না সংশ্লিষ্টরা। জোনভিত্তিক মানচিত্র প্রকাশের পর থেকেই দেশব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই ম্যাপ দেখে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে যোগাযোগ শুরু করে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দেয়। কেউই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে মানুষের দাবি- কোন এলাকা অবরুদ্ধ করা হলে দুই থেকে তিন দিন আগে যেন ঘোষণা দেয়া হয়। এতে তারা বাজারসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো গুছিয়ে নিতে পারবেন। করোনা সংক্রমণের শুরুতে পাওয়া ভবন ও এলাকাভিক্তিক লকডাউনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

লকডাউন বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা:

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে লকডাউন বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এর একটি হলো সিটি কর্পোরেশনের উপযোগী। আর অন্যটি সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকার জন্য। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিস, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সম্পৃক্ততার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রেড জোনে দিনের বেলা কোন পরিবহন চলাচল করবে না। তবে রাতের বেলা মালামাল পরিবহন করা যাবে। শপিংমল বন্ধ থাকলেও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকবে। ইয়েলো জোনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলতে পারবে। রিক্সায় চলতে হবে একজন করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা রাখা যাবে। রেস্তরাঁ খোলা থাকলেও সেখানে ভিড় না জমিয়ে খাবার কিনে বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে। গ্রিন জোনে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রেড জোনে শুধু ফার্মেসি, হাসপাতাল, নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকবে। কাঁচাবাজার, রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, শপিংমলসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং আক্রান্ত রোগীর পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে রাখাও নিশ্চিত করা হবে। রেড জোনে জনসমাগম রুখতে কাঁচাবাজার বন্ধ রেখে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ও মাথায় ঢুলি নিয়ে চলা ফেরিওয়ালাদের পণ্য বিক্রি করতে দেয়া হবে। ১৪ অথবা ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হবে। লকডাউন নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা দেখভাল করবে পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং কমিটি। রেড জোনে থাকা কেউ যাতে ওই এলাকার বাইরে যেতে না পারেন এবং বাইরের লোকজন যাতে সেখানে ঢুকতে না পারেন তার জন্য সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নেবে। বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের করোনা উপসর্গ দেখা দেবে, তাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হবে। রোগী বেশি হলে একাধিক বুথ স্থাপন করা হবে। নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র বা পাশে থাকা আবাসিক হোটেলে টেকনোলজিস্টদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর টেকনোলজিস্টদের রেড জোন থেকে বের হতে হবে।

ইয়েলো জোনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে। এখানে পুরো এলাকা লকডাউন না করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে লকডাউন নিশ্চিত করা হবে। তবে নির্ধারিত নিয়মকানুন কড়াভাবে পালন করতে হবে বাসিন্দাদের। যেমন একসঙ্গে দু-তিনজনের বেশি হাঁটা যাবে না। বাসার বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। যে কোন ধরনের জনসমাগম রোধে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বা ওয়ার্ড কমিটি পর্যায়ক্রমে টহল দেবে। কোন বিষয় তাদের আয়ত্তের বাইরে থাকলে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করবে। প্রয়োজনীয় জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এখানে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও অন্য সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লকডাউন নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া গ্রীন জোনেও কিছু বিষয়ে কঠোরতা বজায় রাখা হবে, যাতে করোনা আক্রান্ত কোন রোগী এই এলাকায় ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হবে। গ্রীন জোনের কেউ আক্রান্ত হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হবে। যাতে এই এলাকার কেউ আক্রান্ত না হয়।

সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করা হবে:

সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে প্রেস বিফ্রিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এটা প্রশংসা করেছেন যে, আইনটি ব্যবহার করে যেভাবে জোনিং করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে এটা সারা পৃথিবীতে করা হচ্ছে। এটাতে সুবিধা আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য এক্সিকিউটিভ মিনিস্ট্রি, তারা বসেই যদি মনে করে কোন জায়গাটাকে রেড জোন ঘোষণা করলে সবার জন্যই ভাল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, কোন এলাকায় যদি অধিক সংক্রমণ থাকে সেই এলাকাকে যদি স্পেশালি নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গতকালই (রবিবার) সম্মতি দিয়েছেন। কারণ সবাই তখন সতর্ক হতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়নি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমার আলোচনা হয়েছে। দেশে সংক্রামক ব্যাধি আইন রয়েছে। এটা সেই আইনের মধ্যে দেয়া আছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের এখতিয়ার রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন:

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারকে লকডাউন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় ডিএনসিসি এলাকার জন্য গঠিত কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কর্পোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব রাজাবাজারে নাজনিন স্কুল এ্যান্ড কলেজে ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, এটুআই, ই-কমার্স অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। এলাকায় একটি মাত্র প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ (গ্রীন রোডে আইবিএ হোস্টেলের পাশে) খোলা থাকবে। পূর্ব রাজাবাজার এলাকার কর্মহীন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের তালিকা করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান। তালিকা অনুযায়ী তাদের ডিএনসিসি থেকে ত্রাণ দেয়া হবে। অসুস্থ রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু থাকবে। এলাকার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লকডাউন নিয়ে সোমবার থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। নাজনিন স্কুল এ্যান্ড কলেজে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ থাকবে। এটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক। এলাকায় পুলিশের টহল থাকবে, মোবাইল কোর্টও পরিচালিত হবে। গুরুতর রোগীদের জন্য এ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারবে। এছাড়া জরুরী সেবা যেমন পানি, বিদ্যুত, গ্যাসের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীগণ এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া ডিএনসিসির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা টিম সেখানে কাজ করবে। গ্রাউন্ড কোঅর্ডিনেশন টিম মেম্বার ও ডিএনসিসির ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরানকে ০১৯১১-৩৮০৬৩৩ নম্বরে পাওয়া যাবে। কাউন্সিলরের পিএ মাসুদ হোসেনের নম্বর ০১৭১১-৯৩৯৭৯৬। এছাড়া ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন ০১৭১৫-৪০৭১৩৯ এবং শেরেবাংলা নগর থানার ওসি ০১৭১৩-৩৯৮৩৩৫, ব্র্যাক প্রতিনিধি ডাঃ ফারহানা ০১৭১৩-০৯৫২৭৯, আইইডিসিআরের ডাঃ ফারজানাকে ০১৭১৯-২১২৫৯১ নম্বরে পাওয়া যাবে।

যে কোন পরিস্থিতিতে সহযোগিতার দ্বার খোলা রাখার দাবি:

করোনাভাইরাসের ঘনত্ব বিবেচনায় মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকা লকডাউন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পূর্ব রাজাবাজার এলাকা ঘুরে এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ ও দাবি পাওয়া গেছে। রাজাবাজারবাসী দাবি করেন, লকডাউনে জনসাধারণের চলাচলসহ নানা বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকবে। তবে লকডাউনে দোকান ও বাসা ভাড়া নিয়ে বেকায়দায় থাকা নাগরিকদের বিষয়টি সমাধানের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। আর কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে যাতে কাউকে বেতন ও চাকরি হারাতে না হয় তারও নিশ্চয়তা চেয়েছেন তারা। পূর্ব রাজাবাজার মসজিদের পাশেই বাসা মোঃ মনসুর আলী (৪২)। তিনি একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি জানান, দেশে করোনা শুরু হওয়ার পর দেয়া লকডাউনের অভিজ্ঞতা ভাল না। লকডাউন দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনে ডাকলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অনেক দিন সাধারণ ছুটি কাটানোর পর অফিসে যাওয়া শুরু করেছিলাম। কিছুদিন অফিস করতেই আবার লকডাউনে পড়ে গেলাম। অফিস বিষয়টা কিভাবে দেখবে তা বুঝতে পারছি না। চাকরির সমস্যা দেখা দিলে সহযোগিতা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মোঃ মনসুর আলী।- জনকণ্ঠ

লকডাউন পালনের জন্য মুদি দোকান থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করছেন মোঃ বাবুল বিশ^াস (৪৮)। পেশায় তিনি চাকরিজীবী। একটি বেসরকারী ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। তিনি জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। এই পেশায় বাসায় বসে থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত এলাকাগুলো ঘুরে প্রতিষ্ঠানের বেঁধে দেয়া ডিমান্ড পূরণ করতে হয়। বুঝতে পারছি না কিভাবে অফিস সামাল দেব। তিনি দাবি করেন, লকডাউনে দোকান ও বাসা ভাড়া নিয়ে বেকায়দায় থাকা নাগরিকদের বিষয়টি সমাধানের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। আর কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে যাতে কাউকে বেতন ও চাকরি হারাতে না হয় তারও নিশ্চয়তার দাবি জানান মোঃ বাবুল বিশ^াস। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান জানিয়েছেন, লকডাউন গাইডলাইন অনুযায়ী, যে এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হবে ওই এলাকা থেকে কেউ বের হতে পারবে না এবং কেউ প্রবেশও করতে পারবে না। সাধারণ যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সবকিছু হবে নিয়ন্ত্রিত। আর অসহায় এবং দরিদ্রদের জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। মানুষ চাইলে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, লকডাউন গাইডলাইন অনুযায়ী চাকরিজীবী হোক আর যেই হোক কেউই এই এলাকা থেকে বের হতে পারবেন না। দোকানপাটও বন্ধ থাকবে। যারা ভাসমান দোকানদার রয়েছেন তারাও থাকতে পারবেন না। রাস্তাঘাটে কোন যান চলাচল করবে না। কারও যদি খাবার প্রয়োজন হয় আমরা সেটা সরবরাহ করব। আমাদের প্রশিক্ষিত লোক থাকবে। নিয়মিত কর্মহীন মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করব। বাসার ময়লাও আমরা নেব। তারা বাসা থেকে বের হতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আসলে প্রথম ধাপে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এবার আর ব্যর্থ হওয়া যাবে না। যে করেই হোক এটাকে সফল করতে হবে বলে জানান ফরিদুর রহমান খান। বাসা ভাড়ার বিষয়ে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, অনেকদিন ধরেই আমরা বিষয়টি বলে আসছি। লকডাউনে থাকা মানুষের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা থাকে না। যখন খাবার জোগাড় করাই কঠিন, তখন ভাড়া কীভাবে দেবে? তাই লকডাউন থাকাকালে সরকারকে বাড়িভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করার দাবি জানান বাহরানে সুলতান বাহার।

সংক্রামক ব্যাধি আইনের দন্ডবিধিসমূহ:

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতির আলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’-এর কতিপয় ধারা প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে। এই আইনের ধারা-২৫ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপনের অপরাধ ও দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কোন ব্যক্তি -(ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং (খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি দন্ডনীয় অপরাধ। (২) যদি কোন ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনুর্ধ ৩ (তিন) মাস কারাদন্ড, বা অনুর্ধ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

ধারা-২৬ অনুযায়ী মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কোন ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ। যদি কোন ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনুর্ধ ২ (দুই) মাস কারাদন্ডে, বা অনুর্ধ ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। ধারা-২৭ অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপীল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।