মো: তাহের, নড়াইল প্রতিনিধি।।
কম খরচে, স্বল্প সময়ে, অধিক ফলন পাওয়ায় নড়াইলে জনপ্রিয় হচ্ছে ভুট্টা চাষ। ধানের তুলনায় স্বল্প সেচ ও বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে আকৃষ্ট হচ্ছে এ জেলার কৃষকেরা। এদিকে ভুট্টা চাষে কৃষকদের আরো বেশি আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন প্রণোদনা ও প্রকল্পের প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে এবং পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকছে কৃষি বিভাগ। পতিত জমি চাষে আনতে কৃষি বিভাগের নেয়া পরিকল্পনায় জেলার বিভিন্ন অনবাদি জামিতে এখন চাষ হচ্ছে ভুট্টার।
সরেজমিন নড়াইল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামে দেখা যায়, এক সময় যেখানে মাটি, কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে ইট। সেখানে এখন চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ভুট্টা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান তার পরিত্যক্ত ইটভাটার জায়গায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ভুট্টা ক্ষেত। এ ব্যাপারে কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, তার ইটভাটার জমি পতিত ছিল। পরে কৃষি অফিস থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং ভুট্টা চাষের পরামর্শ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী জিল্লুর রহমান তার ইটভাটার পতিত ১৬৫ শতক জমিতে ভুট্টার আবাদ শুরু করেন। চাষাবাদে সার, বীজ, পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে কৃষি অফিস। তিনি আশাবাদি এ ভুট্টার ক্ষেত থেকে বাম্পার ফলন পাবেন এবং আগামীতে ভুট্টা চাষ অব্যহত রাখবেন।
শুধু জিল্লুর রহমানই নয়, ভুট্টা চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আরো অনকে কৃষক। পার্শ্ববর্তী এলাকার ভুট্টা চাষী মফিজুর রহমান বলেন, কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে ১ একর জমিতে কোহিনূর জাতের ভুট্টা চাষ করছেন। ভুট্টা চাষ খুবই সহজ৷ পানি সেচের পরিমাণ কম লাগে। ভুট্টার মোচা থেকে গরুর খাবারও পাওয়া যায়। তিনিও আশা করছেন শতকে দেড় মণ করে ফলন পাবেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষ ভালো। আগামী বছর তিনি আরো ১ একর বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ করবেন। ভুট্টা চাষীদের এমন সাফল্যের সম্ভাবনা দেখে আগ্রহী হচ্ছেন আরো অনেকে। সদ্য প্রবাস থেকে ফেরা শম্ভুডাঙ্গা গ্রামের মো: উজ্জ্বল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বাড়ি ফিরে জীল্লুর রহমানের ভুট্টার ক্ষেত দেখে তার ভালো লেগেছে৷ তিনি আগামীতে ভুট্টার আবাদ করতে চান।
এদিকে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করিয়ে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় নিয়ে এসেছেন দাবি করে নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: রোকনুজ্জামান বলেন, পরিত্যক্ত ইটভাটার এই জমি অনবাদি অবস্থায় ছিলো। সেখানে প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই অনাবাদি জমিটাকে ভুট্টা চাষের আওতায় নিয়ে এসেছেন। অন্যান্য যেসব জায়গা পতিত আছে পর্যায়ক্রমে তা আবাদের আওতায় আসবে বলে তিনি মনে করেন।










































