Home আঞ্চলিক জাল ভাউচারে এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ, অধ্যক্ষ কারাগারে

জাল ভাউচারে এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ, অধ্যক্ষ কারাগারে

14

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের মামলায় মাদসার অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল মান্নানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এসময় জামিন নামঞ্জুর করে বাগেরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওসমান গনি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ২০১৭-১৮ এবং ১৮-১৯ অর্থবছরে কারামতিয়া এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ব্যয় বাবদ এতিমখানার ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করা হয়। ওই সময়ে এতিমখানায় কোনো এতিমই ছিল না। অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মাদরাসা অধ্যক্ষ সমাজসেবা অধিদপ্তরে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন, এমন অভিযোগ এনে ২০১৯ সালে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ফকিরহাট উপজেলার মোল্লা আনিসুর রহমান রাসেল নামে এক ব্যক্তি।

এ সময় আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ফকিরহাট থানা-পুলিশ বাদীর অভিযোগ সত্য নয়, মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরবর্তীতে পুনরায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বাগেরহাটকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভুয়া ও জাল ভাউচার তৈরি হয়েছে মর্মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় বাগেরহাট পিবিআই। এই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে আদালত মামলার একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। জামিন শেষে মঙলবার নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী ইয়াছিন  বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তে জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া ভাউচার তৈরির বিষয়ে সত্যতা পাওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে ওয়ারেন্ট জারি হয় অধ্যক্ষের নামে। জামিন নিতে আসলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।