Home জাতীয় ঈদ ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে শোলাকিয়াসহ সারাদেশ

ঈদ ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে শোলাকিয়াসহ সারাদেশ

14

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারো অনুষ্ঠিত হবে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তাই শোলাকিয়াসহ সারাদেশেই বিশেষ নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ১৯৬তম জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় দুইশো বছরের পুরনো এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।
ঈদুল ফিতরের জামাতের প্রস্তুতি নিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা সম্পর্কে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেয়া হয়েছে শোলাকিয়া ঈদগাহ প্রস্তুতির কাজ। স্থানীয় হোটেল-মোটেলে অপরিচিত কেউ এসে থাকলে জেলা পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। মুসল্লিরা যখন ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে আসবেন তখন প্রত্যেককে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে (বিশেষ চেকপোস্ট ব্যবস্থা) সার্চ করে ভেতরে ঢোকানো হবে। এছাড়া যখন মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ করবেন তখন আর্চওয়ে গেটের মাধ্যমে প্রবেশ করবেন।

এদিকে শুধু শোলাকিয়া নয়, দেশব্যাপী কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে ঈদ জামায়াতের কেন্দ্রগুলো। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঈদের জামাতে পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে। এছাড়া র্যাব, ডিবি, এপিবিএন ও কমিউনিটি পুলিশিংসহ সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত চেকপোস্টের পাশাপাশি সব এলাকায় মোতায়েন থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ, থাকবে বিশেষ নজরদারিও।

জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব জেলা-উপজেলার মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তার কাজে ড্রোন ক্যামেরা, ওয়াচ-টাওয়ারসহ সিসি ক্যামেরা ব্যবহার হবে। এবার গত বছরের চেয়েও বেশি ফোর্স মোতায়েন থাকবে। জেলা পুলিশের সদস্যরা ইউনিফর্ম ও সিভিলে থাকবেন। এছাড়া জেলা গোয়েন্দা, পুলিশের বিশেষ শাখা, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনায় পুলিশের জঙ্গি প্রতিরোধ ইউনিট অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নও ( র্যাব) মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কূটনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন। পাশাপাশি নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা থাকে। তাই জাতীয় ঈদগাহের জন্যও নানা নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। র্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ। এছাড়া চুরি ও ছিনতাই ঠেকাতেও নেয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সঙ্গে থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরার কাভারেজ। যে কোনো নাশকতা-হামলা মোকাবিলায় পর্যাপ্তসংখ্যক টহল মোতায়েন ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে নাশকতাসহ যেকোনো ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১৯ এপ্রিল) ঈদ উপলক্ষে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, সারাদেশের ঈদগাহের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ঈদের জামাত একদিন আগে হয়, সেখানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ প্রায় দুইশো বছরের পুরনো। ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত।