Home আঞ্চলিক যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি মামলার ২ আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি মামলার ২ আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

21

যশোর অফিস।।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতির মামলার দুই আসামির স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গেল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা জজ) শেখ নাজমুল আলম।

অভিযুক্তরা হলেন- যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চাকরিচ্যুত হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম ও প্রেস মালিক সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের শেখ শরিফুল ইসলাম।

এ দুজনকে দুদক এ জালিয়াতি ঘটনার মূল অপরাধী বলে আখ্যায়িত করেছে। এ দুই জনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গেল ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দুদকের দায়ের করা মামলায় ৩৮টি চেক জালিয়াতি করে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আদালত আসামিদের উল্লিখিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের এই আদেশের নোটিশ সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। যাতে আসামিরা সম্পত্তি বিক্রি এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে না পারেন।

আদালতে দুদকের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তদন্তকালে দেখা যায় মামলার ৩ নম্বর আসামি আব্দুস সালাম ও ৪ নম্বর আসামি শেখ শরিফুল ইসলাম এ মামলার মূল অপরাধী। তারা জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে নিজ/স্ত্রী/আত্মীয়-স্বজনের নামে জায়গা জমি কিনে তার উপর অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন। ওই সম্পদ ক্রোক করা না হলে বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বর্ণিত স্থাবর সম্পদ জরুরি ভিত্তিতে ক্রোক ও আলোচ্য মামলার সংযোগপ্রাপ্ত অস্থাবর সম্পদ/ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা চাঞ্চল্যকর ওই মামলায় আব্দুস সালাম ও শেখ শরিফুল ইসলাম ছাড়াও যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমির হোসেন, তৎকালীন সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলী আর রেজা ও যশোর নতুন উপশহর এলাকার হাইকোর্ট মোড় জামরুলতলার শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলমকে আসামি করা হয়।

স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ওই আবেদনে ৩৮টি চেকের মাধ্যমে জালিয়াতির বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করা হয়, ২টি চেক সোনালী ব্যাংক বিআইএসই শাখা যশোর থেকে, ২টি চেক অগ্রণী ব্যাংক দড়াটানা যশোর শাখা থেকে মিম প্রিন্টিং প্রেসের নামে, তিনটি চেক মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক যশোর শাখার মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেস ও নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামের হিসাবে, ২টি চেক দি প্রিমিয়ার ব্যাংক যশোর শাখার সবুজ প্রিন্টিং প্রেস ও শরীফ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামের হিসাবে, ২টি চেক ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার শাহী লাল স্টোরের নামের হিসাবে, ২৭টি চেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক যশোর শাখার সানিয়া ইলেকট্রনিক্স, নুর এন্টারপ্রাইজ, প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেস, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামে জমা হয়ে ক্লিয়ারিং হয়। এভাবে উল্লিখিত ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।