Home আঞ্চলিক কালীগঞ্জের ফুলে রাঙাবে সারাদেশ

কালীগঞ্জের ফুলে রাঙাবে সারাদেশ

26

সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি ॥
আজ পহেলা ফাল্গুন। মনোরম পরিবেশে উৎসবে উৎসবে বাঙালী জাতি বরণ করবে ঋতুরাজ বসন্তকে। ১৪ ই ফেব্রুয়ারী হওয়ায় বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও একই দিনে। দিনটিতে তরুণ-তরুনীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার প্রিয়জনকে ফুল দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করবেন। আবার কয়েকদিন পরেই ফুলনির্ভর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিনে শহীদদের স্মরনে বাঙালী জাতি শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে স্মরণ করবে। যে কারনে উৎসব তিনটি পালনে ফুল ছাড়া একেবারে চলেই না। ফলে ফুলের বাজার থাকবে সরগরম। পাশাপাশি ফুল নির্ভর এ উৎসবগুলোতে অতিরিক্ত লাভের আশায় ফেব্রুয়ারী জুড়েই ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততার কমতি নেই। তারা চলতি সপ্তাহে কয়েকদিন আগে থেকেই দুরপাল্লার গাড়ি ভরে ফুল পাঠিয়েছেন ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ সারাদেশের ফুলের পাইকারী বাজারের আড়তগুলোতে। বর্তমানে ফুলের দামও ভালো। যে কারনে ফুলচাষীদের এ বছর মোটা অংকের লাভের হাতছানি দিচ্ছে।
কালীগঞ্জ কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে, চলতি বছর এ উপজেলাতে মোট ৭৫ হেক্টোর জমিতে কৃষকেরা গাঁদা,গোলাপ,জারবেরা,রজনীগন্ধ্যা,চন্দ্র মল্লিকা,কয়েক রঙের কালার ষ্ট্রিকসহ বিভিন্ন জাতের ফুলচাষ করেছেন।

সরেজমিনে, গত ১২ ই ফেব্রুয়ারী উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঠে গেলে দেখা,কৃষকেরা ফুল বাজারজাত করতে মহাব্যস্ত। তারা ক্ষেত থেকে ফুল তুলে সংরক্ষনযোগ্য বিশেষ সুরক্ষার বান্ডিল বা কার্টুন করছেন। যা ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন গাড়ি ভরে দুরপাল্লার বাসের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরের বাসস্ট্যান্ডে।
এলাকার ফুলচাষীদের ভাষ্য,দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফুলচাষ হয় যশোরের গদখালিতে। এর পরেই কলীগঞ্জের স্থান। তবে গাঁদাফুল উৎপাদনে এ অঞ্চলই দেশসেরা। তারা বলেন, সারাবছর তাদের ক্ষেতের ফুল বিক্রি করলেও ফেব্রুয়ারী মাস ঘিরে আগে থেকেই তাদের আলাদা প্রস্ততি থাকে। এ মাসের ১৪ তারিখ পালিত হয় বিশ^ ভালোবাসা দিবস। বসন্ত বরনও একই দিনে। আবার ২১ তারিখে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবস তিনটি পালনে চারপাশে থাকবে ফুলের ছড়াছড়ি। তাই ফুলের চাহিদা ও দাম বেশি থাকে। গত ১২ ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকার শাহাবাগ পাইকারী ফুল বাজারে প্রতিপিচ গোলাপ সর্বোচ্চ ৩৫ টাকায়, গাঁদা ৩০০ টাকা ঝোপা,জারবেরা প্রতিটি ১২ থেকে ১৫ টাকায়, রজনীগন্ধ্যা ১০ টাকা,চন্দ্রমল্লিকা ৪ টাকায় বিক্রি করেছেন। যা অন্য বছরের তুলনায় বেশি। ফলে কৃষকেরা আশা করছেন এ মৌসুমে বিগত করোনার যাবতীয় লোকসানের কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় ফুলচাষী ত্রিলোচনপুরের টিপু সুলতান জানান, এ বছর ২২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করেছেন। কয়েকদিন আগেই ঢাকার শাহাবাগ, আগারগাঁও, চট্রগ্রামের চেরাগী পাহাড় বাজার, ফেনি, দিনাজপুর, রংপুর, কুমিল্লা, নওগাসহ দেশের বড় বড় শহরের পাইকারী ফুলের বাজারে এ উৎসবের বাজার ধরতে উৎপাদিত ফুল বড় বড় গাড়ি ভরে পাঠিয়েছেন। এভাবে চলবে ২০ ফেব্রুয়ারী রাত পর্যন্ত। এ ফুল কিনতে মুখিয়ে থাকবেন সারাদেশের তরুন তরুনীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তিনি আরও বলেন, গত ২ দিনে যারা ফুল বিক্রি করেছেন গোলাপের দাম পেয়েছেন অন্য যে কোন বছরের তুলনায় অনেক বেশি। দিবস তিনটির মধ্যে পহেলা ফাল্গুন ও বিশ^ ভালোবাসা দিবসে বেশি বিক্রি হবে গোলাপ, রজনীগন্ধ্যা, সন্ধ্যা মালতি, কালার স্ট্রিক ও জারবেরা ফুল। আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চাহিদা ও বিক্রির বাজারে খানিক আধিপত্য বিস্তার করবে এ অঞ্চলের গাঁদা ফুলে।

উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুলচাষী শাহাদত হোসেন ও মহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে সারাদেশের ফুলচাষীদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। এ সময়ে অনেকে দায়দেনার স¤ু§খীন হয়েছেন। এ বছর ফেব্রুয়ারীর ৩ দিবসের উৎসব ঘিরে ফুলের দাম কয়েকগুন বেশি। ফলে তাদের আশা অতীতের ক্ষতি পোশাতে পারবেন
ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান,দেশের দক্ষিণাঞ্চালের ফুলেই সারাদেশের বাজার দখল করে আছে। ফুল উৎপাদনের দিক দিয়ে সারাদেশের মধ্যে ঢাকার সাভার ও যশোরের গদখালির পরেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের অবস্থান। তবে গাঁদা ফুল উৎপাদনে সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে কালীগঞ্জ। প্রায় ৩ যুগের ব্যবসার অভিজ্ঞতায় গোলাপের দাম তার জানা মতে এ বছরই সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান রনি জানান, এ উপজেলার মাটি ফুল উৎপাদনে সহায়ক। বর্তমানে এ এলাকায় দেশী বিদেশী জাতের ভিন্ন ভিন্ন রঙের লিলিয়াম, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, চন্দ্র মল্লিকা, ভুট্রাফুল, গাঁদাসহ বর্তমানে এ উপজেলায় প্রায় ৭৫ হেক্টোর জমিতে ফুলচাষ করা হয়েছে। যা সারাদেশের ফুলের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। লাভজনক তাই দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফুলচাষ বলে যোগ করেন এ কৃষিবিদ।