ঢাকা অফিস।।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এই সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাদের পতন নিকটে। কারণ বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য। এই দেশে কোন স্বৈরাচারের স্থান নাই।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র পরিষদের উদ্যোগে ‘ভোটার অধিকার ফিরে পেতে চাই’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি সব কথা বলেন।
দুদু বলেন, যে জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেছে, এক সাগর রক্ত দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, অধিকারের জন্য এবং বিজয় লাভ করেছে। সে দেশের জনগণ স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে এসে আজ ন্যূনতম অধিকারও পাচ্ছে না। সে তার পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার ক্ষমতা রাখছে না।
বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এত বড় ঠক-মিথ্যাবাদী সরকার গত ৫২ বছরে এদেশের জনগণ আর প্রত্যক্ষ করেন নাই। আওয়ামী লীগ থেকে দাবি করা হয় তারা ক্ষমতায় আসলে দেশের জনগণ কিছু পায়। এদেশ থেকে লক্ষ-হাজার-কোটি টাকা বিদেশে প্রচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে টাকা পাচার, দুর্নীতি, গুম, খুন ছাড়া আর কিছুই হয় না।
দুদু বলেন, মিথ্যা তথাকথিত মামলায় চার বছর ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে সরকার। বেগম খালেদা জিয়া সত্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। মানুষের অধিকার আদায়ে, স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার স্বামী এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষক। এমন একজন নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় তারা বন্দী করে রেখেছে, এর চেয়ে স্বৈরাচারী আর কী হতে পারে?
তিনি বলেন, আমরা কর্মসূচি দিলেই সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কর্মসূচি দেওয়া হয়। বিরোধীদল যে সময়, যে জায়গায় কর্মসূচি ঘোষণা করে; ঠিক সেই জায়গায়, ওই সময় তারা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এত বড় স্বৈরাচারী আচরণ ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও দেখা যায়নি।
দুদু বলেন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে আওয়ামী লীগ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছে। এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে একদিন তাদের বেদনা দায়ক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তখন সব দায়ভার এ সরকারকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচন বলতে কিছু নাই। আমরা কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা করব। পার্লামেন্ট ইস্তফা দিবে। নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। যত অস্ত্র নামে বেনামী দেওয়া হয়েছে সমস্ত অস্ত্র রিকভারি করতে হবে। দলীয় পরিচয় যাদেরকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে সেগুলো রিকভারি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারালয়সহ সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই সরকারের পতন অনিবার্য। এ সরকারের পতন ঘটতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, জিনাফ এর সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, সংগঠনের সভাপতি মোখতার আকন্দ প্রমুখ।










































