Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

11

যশোরে মদ সেবনে মৃত্যুর ঘটনায় ৫ জন আটক

যশোর অফিস

কোতয়ালি মডেল থানা এলাকায় সম্প্রতি মদ সেবন করে বেশ কয়েকজন যুবকের মধ্যে খন্দকার শাহিন হোসেন (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে ৫ মদ বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে। এরা হচ্ছে, যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত দ্বীন আলী বিশ্বাসের  ছেলে আব্দুর রাজ্জাক,শহরের ১ নং হাটখোলা রোডের মৃত গোলাম বিশ্বাসের ছেলে আবু বক্কার রতন,সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের নরেন পালের ছেলে পিন্টু পাল,শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড(জামাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত জাফর খাঁর ছেলে চান খাঁ ও শহরের উমেশ চন্দ্র লেন হোমিও প্যাথিক কলেজের পিছনে মৃত কওছার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ। কোতয়ালি মডেল থানার এসআই হারুণ অর রশিদসহ একদল পুলিশ বৃহস্পতিবার ৭ মে গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উল্লেখিত আসামীদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে কোতয়ালি মডেল থানার মামলা নং ৪৩,তারিখ ২৫/০৪/২০ ইং ধারা-৩০৪-ক/৩৪ মামলার এজাহার নামীয় আসামী মাহমুদুল হাসান আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তারা পরস্পর যোগসাজসে মদ বিক্রি করে থাকে। উক্ত আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক শুক্রবার ৮ মে দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশিদ আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের চালানের কিছুক্ষন পর আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। রিমান্ডের আবেদন জানানোর পূর্বে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচার আকরাম হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে আসামী পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালে বিজ্ঞ বিচারক আসামীদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আসামী আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন আদালতে পৌছায়। একটি সূত্র বলেছে,কোতয়ালি মডেল থানায় সম্প্রতি মদ সেবন করে ৩ ব্যক্তি মারার অভিযোগে আলাদা ৩টি মামলা রুজু হয়। তার একটি মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা হারুণ অর রশিদ। তিনি ছাড়াও অন্যান্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের মামলায় শ্যোন এরেষ্ট দেখানোর পূর্বে আসামীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি হয়ে বের হয়ে যায়।

যশোরে গ্রেফতার আসামী ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় মামলা গ্রেফতার-১

যশোর অফিস

পুলিশের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে নগদ ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরো ২ হাজার টাকা দাবি করার ঘটনায় দু’জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন,বেনাপোল পোর্ট থানার অর্ন্তগত বড় আচড়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে রাজু আহম্মেদ। বৃহস্পতিবার তিনি বাদি হয়ে যশোর শহরের কারবালা রোড পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশে খোরশেদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে শাহারিয়া রাসেল ও সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের নেওয়াজ মোর্সেদকে আসামী করেছেন। দায়েরকৃত এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন,গত  ৫ মে রাত তার ভাই কাজল  হোসেন যশোর  চাঁচড়া টু পালবাড়ী সড়কের ইউনিক পেট্টোল পাম্পের সামনে প্রাইভেট কার দূর্ঘটনায় আহত হয়। প্রাইভেটের যাত্রী নিহত ও আহতর ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ তার ভাই  কাজল শেখকে গ্রেফতার করে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের  জরুরী বিভাগ থেকে গ্রেফতার করার পর ৬ মে সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার পর রাজু আহম্মেদ উক্ত দুই প্রতারকের স্মরনাপন্ন হন হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে। তারা প্রাইভেট চালক তার ভাই কাজল হোসেনকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে রাজু আহম্মেদ জানতে পারেন তার ভাইয়ের নামে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার কপি নিয়ে সে উক্ত দুই প্রতারকের কাছে গেলে তারা মামলার কপি কেড়ে নিয়ে আরো ২ হাজার টাকা দাবি করে। বিষয়টি তৎক্ষনিক জানালে পুলিশ শাহারিয়া রাসেলকে গ্রেফতার করে। সহযোগী নেওয়াজ মোর্সেদ পালিয়ে যায়। পরের দিন ৭ মে নেওয়াজ মোর্সেদ কে আদালতে সোপর্দ করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

যশোরে যুবক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোর অফিস

বৃহস্পতিবার ৭ মে সন্ধ্যায় শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডস্থ মাহমুদুর রহমান স্কুলের পূর্ব পার্শ্বে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামী করা হয়েছে ৫জনকে। এরা হচ্ছে, যশোর শহরের ঘোপ বৌ বাজার চাতালের পার্শ্বের আকর আলীর ছেলে ইমরুল,শহরের কাজী পাড়ার আনিচের ছেলে হানিফ,রেলগেট শাহারিয়ার হোটেলের পিছনে লিয়াকত আলীর ছেলে শানু, পাগলাদাহ গ্রামের ইরান ও ঘোপ নওয়াপাড়া সুইজ কোম্পানীর কাছে নদীর পাড়ের আহাদের ছেলে রকিসহ অপ্সাতনামা ৩/৪জন।

সদর উজেলার বাহাদুপুর হঠাৎপাড়ার মৃত মোকছেদ বিশ্বাসের ছেলে তোতা বিশ্বাস বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে উল্লেখিত আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন,তার ছেলে পারভেজ (২৬) কে আসামী রকি মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আসে। তাকে সন্ধ্যায় ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মাহমুদুর রহমান স্কুলের পুর্ব পাশে কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কথা বার্তা শেষ করে পারভেজ বাড়িতে ফেরার সময় পূর্ব শত্রুতার কারনে সেখানে উক্ত আসামীরা হঠাৎ পারভেজকে আক্রমন করে। তার শরীরে ছুরিকাঘাত করে।স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা দ্রুত সটকে পড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজকে যশোর জেনারেল হাসপাাতালে ভর্তি করা হয়।

যশোরসহ ৩ জেলায় আরো ১৪ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত

যশোর অফিষ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পরীক্ষা করে যশোরসহ তিনটি জেলায় আরো ১৪টি নমুনা করোনা পজেটিভ বলে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর ও মাগুরার তিনটি করে এবং চুয়াডাঙ্গার আটটি নমুনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, বৃহস্পতিবার এই ল্যাবে ৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে যশোর জেলার ১৪টি নমুনার মধ্যে তিনটি, মাগুরার ১৬টি নমুনার মধ্যে তিনটি এবং চুয়াডাঙ্গার ২৮টি নমুনার মধ্যে আটটিকে পজেটিভ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বাদবাকি ৪৪টি নমুনা নেগেটিভ রেজাল্ট দিয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার চার জেলার মোট ১০৭টি নমুনা এসেছিল। এর মধ্যে ঝিনাইদহের কোনো নমুনার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, গেল রাতে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। সেই কারণে সব নমুনা পরীক্ষা করা যায়নি। বিশেষ করে ঝিনাইদহের নমুনাগুলোর ফলাফল চূড়ান্ত করা যায়নি।

তিনি জানান, তাদের ল্যাবে জেনারেটর সাপোর্ট আছে। কিন্তু এসি-সহ বড় মেশিনগুলোকে সাপোর্ট দিতে পারে না জেনারেটরগুলো। তাই ১০৭টির মধ্যে ৫৮টি নমুনার ফল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অন্য নমুনাগুলোর প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের এই চেয়ারম্যান।

র‌্যাবের গুলিতে যশোরে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

যশোর অফিস

যশোরের অভয়নগরের চলিশিয়া ইউনিয়নের ডুমুরতলা ও হাটবিলা গ্রামের মধ্যবর্তী একটি বিলের ফাঁকা জায়গায় র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে একজন মাদক চোরাকারবারি নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয় ২ র‌্যাব সদস্য। নিহত মারুফ মোল্লা (২৬), অভয়নগরের বুইকারা গ্রামের ড্রাইভার পাড়ার মোসলেম মোল্লার পুত্র। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে৭ টার।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তজিুল ইসলাম জানান, চলিশিয়া ইউনিয়নের ডুমুরতলা ও হাটবিলা গ্রামের মধ্যবর্তী একটি বিলের ফাঁকা জায়গায় নিহত মারুফ মোল্লসহ আরও ৪/৫ জন মাদক কারবারি ফেনসিডিল ভাগাভাগি করছিল। র‌্যাবের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে জানতে ঘটনাস্থলে যায়। মাদক কারবারিরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে দুইজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে র‌্যাবসদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে মারুফ মোল্লার গায়ে একটি গুলি লাগে। সে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অন্য মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও কয়েক বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। নিহত মারুফ মেল্লার লাশ বর্তমানের অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রয়েছে। আহত র‌্যাবের দুইজন সদস্যকে খুলনায় নেভি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

যোগিপোলে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের প্রার্দূভাবে অসহায় মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেওয়ার অংশ হিসাবে যোগিপোল ইউনিয়েনের অন্তরভুক্ত সকল মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের কাছে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদুর রহমান লিংকন। তিনি গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ইউনিয়নে সকল মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের কাছে গিয়ে তাদের হাতে এ উপহার সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ৩৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ইউসুফ আলী খলিফা, মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমা খন্দকার মুন্নি, খানজাহান আলী থানা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমান রুপম, তরিকুজ্জামান মনির, ওয়ার্ড মেম্বর কাজী শহিদুল ইসলাম পিটো, সাবেক মেম্বর মোস্তাক আহম্মেদ, খায়রুল ইসলাম, ব্যাংকার শেখ জাহিদ ইকবাল, কুয়েটের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, ফকির নজরুল ইসলাম, সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা আল আমিনসহ বিভিন্ন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের উদ্যোগে ইফতারী বিতরণ

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

ছাত্রলীগ ফোরামের উদ্যোগে শেখ জাহাঙ্গীর আলম, রিপন, আবু হেনা বাবলু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কারণে  শিরোমণি,যোগিপোল, যাব্দীপুর, এ্যাজাক্স জুট মিল, ফুলবাড়ীসহ সকল মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমদের নিকট ইফতারী বিতরণ করেন। ৮মে শুক্রবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শিরোমণি,যোগিপোল, যাব্দীপুর, ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদিমদের মাঝে ইফতারী বিতরণ করেন। এসময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন নাসির উদ্দিন, মাসুম খন্দকারসহ খুলনা সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের নেতৃবৃন্দ ।

কেসিসি ১নং ওয়ার্ড মসজিদের ইমাম,মোয়াজ্জিন ও খাদিমদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের প্রার্দূভাবে অসহায় মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেওয়ার অংশ হিসাবে কেসিসি ১নং ওয়ার্ডের অন্তরভুক্ত সকল মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের কাছে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন কেসিসি ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আব্দুর রাজ্জাক ও মহানগর যুবলীগের সদস্য কাজী ইব্রাহীম মার্শাল । ৮ মে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় কেসিসি ১নং ওয়ার্ডের   অস্থায়ী কার্যালয়ে  খাদ্য সামগ্রী ইমামদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

মোড়েলগঞ্জে নিউইয়র্ক প্রবাসীর খাদ্য সহায়তা প্রদান

মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নিউইয়র্ক প্রবাসী হাওলাদার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাইনুল হাসান মহিদ এর সহযোগীতায় পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে করোনায় কর্মবিমুখ মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে মোড়েলগঞ্জ প্রেস কাবের আয়োজনে এসব খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসকাব সভাপতি মেহেদী হাসান লিপন, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মাসুমন, প্রেসকাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক পূর্বাঞ্চল মোড়েলগঞ্জ অফিস প্রধান নজরুল ইসলাম শরীফ, দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি গনেশ পাল, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাসুম, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি ফজলুল হক খোকন, দৈনিক জনতা প্রতিনিধি রাজীব আহসান রাজু, সময় জার্নাল ও ঢাকা প্রতিদিনের এম. পলাশ শরীফ, দিনকাল প্রতিনিধি মল্লিক আবুল কালাম খোকন, ভোরের কাগজ প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির প্রতিনিধি এস এম সাইফুল ইসলাম কবির প্রমুখ। খাদ্য সহায়তার মধ্যে ছিল চাল, ছোলা, চিড়া, চিনি, তেল ও সাবান।

অভয়নগর থানা ও পৌর যুবদলের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

অভয়নগর প্রতিনিধি

মহামারী করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে অভয়নগর থানা ও পৌর যুবদলের উদ্বোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গত ৮মে শুক্রবার বিকালে নওয়াপাড়া কাঁচা বাজারের নতুন ভবন চত্বরে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ফারাজি মতিয়ার রহমান, যশোর জেলা বিএনপির আহব্বায়ক কমিটির সদস্য কাজি গোলাম হায়দার ডাবলু, রেজাউল করিম মোল্যা, পৌর বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, অভয়নগর থানা যুবদলের আহব্বায়ক মো.মাসুদ রানা, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহব্বায়ক মোল্ল্যা হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা যুবদলের সহ সম্পাদক মো.আ:রশিদ বিশ^াস, মো.কামাল হোসেন, নওয়াপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহব্বায়ক মো.রিয়াজ উদ্দিন মিঠু, মাহাবুবুর রহমান, এমএমডি অপু, থানা কমিটির যুগ্ম-আহব্বায়ক সাইফুল ইসলাম অনিক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, অভয়নগর থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, সাবেক পৌর সহ-সভাপতি আল-মামুন বাবু, যুবনেতা জোবায়ের হোসেন, আলিয়ার রহমান, জালার হোসেন, ছাত্রদল নেতা নূর নাঈম সহ প্রমুখ।

চিতলমারীতে এক দরিদ্র বিধবার ধান কেটে দিলেন শিক্ষকরা

চিতলমারী প্রতিনিধি

বাগেরহাটের চিতলমারীতে মহামারি করোনা দুর্যোগের কারণে শ্রমিক সংকট থাকায় এক দরিদ্র বিধবার ধান কেটে তার ঘরে তুলে দিয়েছেন বাহির দশমহল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের  শিক্ষকম-লী। উপজেলার বাশবাড়িয়া গ্রামের মৃত-প্রসুন মল্লিকের বিধবা স্ত্রী অর্চণা মল্লিকের ১ একর জমির ধান পাকলেও তারকোন পুত্রসন্তান নাথাকায় ও শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি তা কাটতে পারছিলেন না। বাহির দশ মহল বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও মৃত- প্রসুন মল্লিকের মেয়ে নিবেদিতা মল্লিক এ বিষয়টি তার প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী সরকারকে জানালে তিনি স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮ টায়  ওই শিক্ষার্থীর ধান কেটে দেন।

এ ব্যপারে অর্চনা মল্লিক জানান, তার তিন মেয়ে । কোন ছেলে সন্তান নেই। স্বামী মারা গেছে বেশ কয়েক বছর আগে। দারিদ্র্যের সংসারে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার সামর্থ তার নেই। বিষয়টি জানতে পেরে বাহির দশমহল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী সরকার বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের নিয়ে আমার ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। বাহির দশমহল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী সরকার বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ধান কাটার শ্রমিক সংকট থাকায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশের আলোকে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ধান কেটে দিচ্ছেন। ধান কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে মহেশপুরে কৃষকের স্বপ্ন

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি

একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস, অন্যদিকে প্রচন্ড শ্রমিক সঙ্কট, তার ওপর গতকাল রাতে দুই-আড়াই ঘণ্টা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে মহেশপুর উপজেলার কয়েকশ’ একর’বোরো ধান। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানের সাথে সাথে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন।ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাওয়া মাঠের পাকা ধান নিয়ে কঠিন বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বোরো ধান কেটে বাড়ি আনতে তিনগুণ পরিশ্রমের পরও সোনালী ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার শত শত কৃষককে। হঠাৎ করে বৃষ্টির কারণে কেটে রাখা ভিজে ধান ঘরে তোলা, ধান মাড়াই করে শুকাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোদ বৃষ্টি মাথায় করে অনেক কষ্টে উৎপাদিত শত শত একর জমির ধান।

 সরেজমিনে কথা হয় উপজেলার নেপা গ্রামের কৃষক মোসলেম হোসেন, মিজানুর রহমান, ভৈরবা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই,পৌর এলাকার বগা গ্রামের কৃষক ইসানুর ইসলামের সাথে । তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তারা সবাই ২ থেকে ৩ বিঘা করে জমির ধান কেটেছেন। কিন্তু গত রাতের বৃষ্টিতে সবই পানির নিচে। এখন ধান বাঁচানোর জন্য বিচালি রেখেই ধান তুলতে হচ্ছে। বিচালীর বাবদ বিঘাপ্রতি ৩/৪ হাজার টাকা লোকসান হবে বলেও জানান তারা।

 এ অবস্থায় সঠিক সময়ে ধান শুকিয়ে ঘরে না তুলতে পারলে ওই ধান গবাদি পশুকে খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না বলে জানান অনেক কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মহেশপুর উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৭৪৮৫ হেক্টর জমিতে। তেমনি ভাবে ফলনও ভালো হয়েছে। তবে মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় অনেক জমির ফসলই তলিয়ে গেছে। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাছান আলী জানান, উপজেলায় প্রায় ৫০% ধান কাটা হয়েছে।প্রাকৃতিক সমস্যায় আমাদের কারোরই হাত নেই। বৃষ্টিতে যে সমস্ত বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে সে সমস্ত ক্ষেতের আইল কেটে দ্রুত পানি বের করে দিতে হবে। এবং যতদ্রত সম্ভব বিচালি রেখেই  ধান তুলতে হবে।

বাগেরহাটে মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ

মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় মসজিদ ও ওজু খানা নির্মাণে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিন্দু ধর্মালম্বী জনৈক গৌতম কর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু বাঁধা নয় মসজিদের সভাপতি ও নির্মান শ্রমিকদের গালিগালাজ এবং ওজুখানা ভেঙ্গে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন গৌতম। কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের আঠারগাতি গ্রামে এ বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি দিহিদার লিয়াকত হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগে জানা গেছে কচুয়া আঠারগাতি গ্রামের বাইতুন নূর নামে একটি পাকা মসজিদ নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। মসজিদের পাশেই একটি ওজু খানা নির্মান কাজ চলছিল। মসজিদ কমিটির সভাপতি লিয়াকত হোসেনের সাথে তার চাচাতো ভাই বিরাজ দিহিদারের সাথে মসজিদের পাশের পথ নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হয়। এসময় একই গ্রামের অধির করের ছেলে গৌতম কর এসে লিয়াকত হোসেনের উপরে চড়াও হয়। নির্মাণ কাজ বন্ধের হুমকী দিয়ে বলে হাতুরী বাটুল এনে মসজিদ এবং ওজু খানা ভেঙ্গে দিব। লিয়াকতসহ নির্মাণ শ্রমিকদের গালিগালাজ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।হিন্দু এলাকায় মসজিদ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকী ধামকি অব্যাহত রাখে। পরে লিয়াকত হোসেন কচুয়া থানায় অভিযোগ দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছেন।কচুয়া

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সরদার বলেন, এই মসজিদের পাশে গৌতমের কোন জায়গা নেই। এরপরেও গায়ের জোরে গৌতম যে কাজ করেছে তা খুবই নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গৌতম কোন প্রকার সমাধানে রাজি নয়। আমরা এলাকাবাসী এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরোজমিনে গিয়েছিলাম। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। গৌতমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাগেরহাটে এই প্রথম ডিজিটাল কার্ডে ত্রাণ পাচ্ছে  ৭৫ হাজার পরিবার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ করোনা ভাইরাস জনিত দূর্যোগে  মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায়   ৭৫ হাজার অসহায় পরিবার ডিজিটাল সফটওার মাধ্যমে রিলিফ কার্ড  পাচ্ছে। বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলা ৩ টি  পৌরসভায় হতদরিদ্র পরিবার  তালিকা তৈরি করা হয়েছে । দেশে এই  প্রথম  করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া এসব পরিবার কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোডযুক্ত রেশন কার্ডের মাধ্যমে  ত্রাণ পাচ্ছে।বাগেরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে জেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র ৭৫ হাজার পরিবার ডিজিটাল রেশন কার্ডে মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।   ।এই দেশে প্রথম ডিজিটাল সফটওার কার্ডে ১২টি তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হয়েছে। পরিবার প্রধানের নাম, বাবা বা স্বামীর নাম, জন্ম তারিখ, বয়স, লিঙ্গ, পেশা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যার (পুরুষ, মহিলা, হিজড়া, শিশু প্রতিবন্ধী আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে) তথ্য নেওয়া হচ্ছে। আগে কোন  সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকলে তার নাম, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।প্রত্যেককে কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোডযুক্ত কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডে তার বিস্তারিত তথ্য থাকবে। বিভিন্ন কর্মসূচির আলাদা রংয়ের কার্ড থাকবে। এক কর্মসূচির কার্ড দিয়ে অন্য কর্মসূচির সুবিধা নেওয়া যাবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে একটা সফটওয়্যার থাকবে। সেখান থেকে সারাদেশের সুবিধাভোগীদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে জানা যাবে সংশিষ্ট ব্যক্তি অন্যকোনও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা পাচ্ছেন কি না।বাগেরহাট জেলা  প্রশাসক মো.মামুনুর রশীদ বলেন, ‘জেলার ৭৫ হাজার দরিদ্র পরিবার কিউআর কোডযুক্ত রেশন কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা পাবে।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার মেয়রদের মাধ্যমে সুবিধাভোগী এসব দরিদ্র পরিবারের তালিকা করা হয়েছে।  তা অনলাইনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর এই ত্রাণ বিতরণ শুর“ করা হবে। প্রথম দফায় কার্ড প্রতি ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। যতদিন করোনার প্রভাব থাকবে ততদিন এই ত্রাণ সহায়তা চলবে।  এছাড়া জেলায় ১লক্ষ ৫ হাজার ৬শত হতদরিদ্র পরিবারকে সরকারিভাবে নগত অর্থ ও  খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর আওতায় ৮৯ হাজার ৪ শত ২ টি পরিবার কে ১০ টাকা   কেজি দামে হিসাবে ৩০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে।এবং মানবিক সহায়তা চলমান রয়েয়েছে।সূত্র জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৮শত, ফখিরহাট ৭ হাজার ৫ শত, মোল্লাহাট ৭ হাজার , চিতলমারি  ৭ হাজার ,কচুয়া  ৫ হাজার ৬শত, মোরেলগঞ্জ ১৪ হাজার ২শত, শরনখোল  ৪ হাজার , মোংলা ৫ হাজার ৪শত.রামপাল ৭ হাজার ৮ শত পরিবার  এই ত্রাণ সহায়তা পাবে। এছাড়া, মোংলা পোর্ট পৌরসভা ২ হাজার , বাগেরহাট পৌরসভা এক হাজার ৭ শত, মোরেলগঞ্জ পৌরসভা এক হাজার, পরিবার এই ত্রাণ সহায়তা পেতে যাচ্ছে।

পাইকগাছায় থানা পুলিশের মাঝে পুলিশ সুপার প্রেরিত স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি

পাইকগাছায় করোনা সংকটে যে সব পুলিশ অফিসার ও ফোর্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে-ময়দানে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ স্বাস্থ্য উপকরণের ব্যবস্থা করেছেন। শুক্রবার সকালে পাইকগাছা থানার ওসি মোঃ এজাজ শফী থানার সকল অফিসার ও ফোর্সদের মাঝে এসপি প্রেরিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাবস, সাবান, ব্লিচিং পাউডার, হারপিক সহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

১০ নং ওয়ার্ডে ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান

খবর বিজ্ঞপ্তি

১০ নং ওয়ার্ডে এক ওষুধ ব্যবসায়ির পক্ষ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ নিম্ম আয়ের ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেট সংলগ্ন মেডিসিন পয়েন্ট এর স্বত্তাধিকারি শেখ আসাদুজ্জামান সাগরের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম নূর হাসান জনি, হামীম মেডিকেল এর স্বত্তাধিকারি এস এম রুহুল কিবরিয়া, দৈনিক তথ্য’র স্টাফ রিপোর্টার হাসানুর রহমান তানজির,মাসুম হোসেন, মুরাদ হোসেন বড়কা সহ অন্যান্য ব্যবসায়ি বৃন্দ।

তালায় ইউপি সদস্য কর্তৃক  ভূমিহীন পরিবারের ৪ সদস্যকে কুপিয়ে জখম

ইলিয়াস হোসেন,তালা

তালায় ইউপি সদস্য কর্তৃক  ভূমিহীন পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে ঘর-বাড়ী উচ্ছেদ করার ঘটনা ঘটেছে । ঘটনাটি ঘটেছে, ৮ মে (শুক্রবার) সকালে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে। মারাত্বক জখম অবস্থায় ভূমিহীন পরিবারের ৪ সদস্য বর্তমানে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় তালা থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শাহপুর গ্রামের আলিম উদ্দিন খাঁ’র পুত্র পলাশ খাঁ (৩৬) ভূমিহীন হিসাবে  খাস খালের পাশে খাস সম্পত্তির উপর বসত বাড়ী করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছিল। উক্ত জমির উপর কু-নজর পড়ে একই এলাকার প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ও বর্তমান ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন গাজীর। সে উক্ত জমি দখল নিতে বিভিন্ন সময় পলাশকে নানা হুমকী-ধামকী সহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত ৮ মে সকালে ২৫ জন দুর্বৃত্ব নিয়ে ঘর-বাড়ী ভাংচুর সহ দখল নেওয়ার চেষ্টা করে । এ সময় বাঁধা দিতে গেলে পলাশ (৩৬), তার স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩০), পলাশের ভাই ফারুক খা (৩৩)  ও জাহাঙ্গীর খাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তালা হাসপাতালে ভর্তি পলাশ ও তার ভাই জাহাঙ্গীর জানায়, আমারা ভূমিহীন, আমাদের খাসটুকু জবর দখলে নিতে ভূমিদস্যু আলাউদ্দিন গাজী আমাদের উপর নানা নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে খেশরা ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন গাজী কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পানি নিষ্কাষনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় আমরা তা উচ্ছেদ করেছি। এ ছাড়া এ খাস খালটি আমাদের জমির মাথায় ও কেন দখল করবে ?  তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

ত্রাণ চোরদের শাস্তির দাবীতে সিপিবি’র মানববন্ধন

খবর বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিÑসিপিবি, খুলনা জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ত্রাণ বিতরণে বাস্তব ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে কেবল রাষ্ট্র তথা জনগণের অর্থেরই অপচয় হবে। করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণের শুরু থেকেই ত্রাণ চুরির বিষয়টি ওপেন-সিক্রেট, যা চলমান রয়েছে। ত্রাণ বিতরণের তালিকা তৈরিতেও রয়েছে অস্বচ্ছতা ও গোঁজামিল। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র দলীয়করণই নয়, হচ্ছে স্বজনপ্রীতি-আত্মীয়করণও। নেতার ঘনিষ্ঠ জন না হলে কিংবা এলাকার ভোটার না হলে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রকৃতি অর্থে উদ্দেশ্য হয়ো উচিত করোনা মহামারী থেকে জাতিকে বাঁচাতে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে দিন আনে দিন খায়, এমন মানুষকে ঘরের রাখার জন্য ন্যূনতম খাদ্য সহায়তা প্রদান করা। কিন্তু বাস্তবে তা ব্যাহত হচ্ছে। চলছে লুট-পাট আর ত্রাণ ত্রাণ উৎসব। একদিকে রাষ্ট্র তথা জনগণের বিপুল অংকের অর্থ খরচ হচ্ছে। আবার সংক্রমণ রোধেও তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে গতকাল ৭ মে বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত প্রতীকি মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ ফেস্টুন প্রদর্শন করে এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেনÑসিপিবি’র খুলনা খুলনা জেলা সভাপতি ডাঃ মনোজ দাশ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. রুহুল আমিন, মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, সিপিবি নেতা সুতপা বেদজ্ঞ, মিজানুর রহমান বাবু, নিতাই পাল, কিংশুক রায়, রুস্তম আলী হাওলাদার, জাহানারা আক্তারী, সাইদুর রহমান বাবু, এস এম চন্দন, মাহবুবুর রহমান মুকুল, রঙ্গলাল মৃধা, নীরজ রায়, শরীফুল ইসলাম সেলিম, যুব ইউনিয়ন নেতা আফজাল হোসেন রাজু, রবিউল ইসলাম রবি, অশোক ম-ল, ইনসাব নেতা রুহুল আমিন, হ্যান্ডলিং শ্রমিক নেতা মোঃ হোসেন আলী প্রমুখ।

হরিঢালীতে এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু’র পক্ষে কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

খবর বিজ্ঞপ্তি

করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের মাঝে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু’র পক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

বুধবার দুপুরে এক শ’ কর্মহীন মানুষের মাঝে এ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা যুবলীগ নেতা এম এম আজিজুল হাকিম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, যুবলীগ নেতা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইদ্রিস আলী, সাইফুল ইসলাম, সালাউদ্দিন, খুলনা জেলা ছাত্রলীগ নেতা মীর ছদরুল আমিন, পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান পারভেজ রনি, যুবলীগ নেতা শামীম গোলদার, আলমঙ্গীর, নুরুল, শফি, সিরাজুল ,মীর মারুফ, ছাত্রনেতা শেখ সাঈদ হোসেন, শহীদ, মীর ফাহাদ, রকি প্রমুখ।

খুলনা ও মোংলার বিভিন্ন স্থানে নৌবাহিনীর ইফতার ও ত্রাণ বিতরণ

খবর বিজ্ঞপ্তি

 করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে নৌবাহিনী। অসহায় ও দুস্থ পরিবারে ঘরে ঘরে ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী পৌছানোসহ জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌ ঘাঁটি তিতুমীর কর্তৃক জোড়াগেট সংলগ্ন নতুন বস্তি এলাকায় ২০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া নৌ ঘাঁটি সোলাম কর্তৃক জিরোপয়েন্ট এলাকায় ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় বানৌজা আবুু উবাইদাহ কর্তৃক মংলা উপজেলায় ২৫০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয় এবং বিএসও খুলনা কর্তৃক নাজিরহাট রোড বস্তি টুটপাড়া এলাকায় ৪৫০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। অপরদিকে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ও ২৫০টি জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় ১২৩৩টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা প্রদান করা হয়। সাধারণ জনগণকে কাঁচা বাজার, ঔষধের দোকান ও মসজিদ ব্যবহারে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সাথে অনুমোদিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকান নির্দিষ্ট রুটিন সময়ের পর বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, মংলা বন্দর, সোনাইতলা, আপাবাড়ি, বুড়িরডাঙ্গা ও চরকানাই এলাকায় টহল পরিচালনা করে।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের এক্সকুসিভ পরিবেশক সারাহ্ সুপার দিলো ২৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনায় বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের এক্সকুসিভ পরিবেশক সারাহ্ সুপার স্টোরের উদ্যোগে দুঃস্থ, অসহায় ও অস্বচ্ছল ২৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে খুলনার পূর্ব রূপসায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণ কাজের উদ্বোধন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার, রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন ও বিষ্ণু চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

সারাহ্ সুপার স্টোরের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাইদুর রহমান সাঈদ জানান, নৈহাটী ইউনিয়নের বাগমারা ও আশেপাশের গ্রামে করোনার প্রভাবে কর্মহীন ২৫০০ দুঃস্থ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাগমারা যুব কল্যাণ পরিষদের সহায়তায় বাড়িতে বাড়িতে এ খাদ্য সহায়তা পৌছে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে সড়কে বিনামূল্যে যানবাহন জীবানুমুক্তকরণ কাজ শুরু হয়েছে ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় সৎ ভাই-ভাইপোর ছুরিকাঘাতে চাচা জখম

ডুমুুরিয়া  প্রতিনিধি

ডুুমুরিয়ায় গলা কেটে হত্যার উদ্দেশ্যে সৎ ভাই ও ভাইপোর ছুরিকাঘাতে গুরত্বর জখম হয়েছে আরশাব আলী সরদার (৪৫) নামের এক কৃষক। এদিকে ওই কৃষককে বাঁঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের ্আরো দুু‘মহিলা রক্তাত্ব জখম হয়েছে। আহতরা ডুমুরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাসানপুর সরদার বাাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত’র পরিবার সুত্রে জানা যায় উপজেলার হাসানপুর এলাকায় মৃত হানেফ সরদারের ছেলে আরশাব আলী সরদারের সাথে তার সৎ ভাই আনোয়ার ওরফে আনার সরদার ও ভাইপো মহিদুল সরদারের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। তারই জেরধরে ঘটনার রাতে আরশাব আলী সরদার রাত অনুমান ১২ টার দিকে নিজ মৎস্য ঘের থেকে বাড়ী ফেরা পথে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে দা, ছুরি লাঠিসোঠা নিয়ে আরশাব আলীকে ধরে হত্যার উদ্দেশ্য তার গলা, মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে গুরুত্ব আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে আরশাব স্ত্রী নাসরিন বেগম ও শ্বাশুড়ী নাসিমা বেগম ঘটনা স্থলে এসে পৌছালে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা মা-মেয়েও গুরুত্বর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ওই রাতে ডুমুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।

বিএনপি’র বক্তব্যে আ’লীগের প্রতিবাদ ও নিন্দা

খবর বিজ্ঞপ্তি

মহানগর বিএনপি’র দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ কোন অনিয়ম ও দলীয় বিবেচনায় ত্রাণ বিতরণ করে না। বরং দলমত নির্বিশেষে নগরীর সকল ওয়ার্ডে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বিএনপি সর্বক্ষেত্রে দলীয় করণ ও অনিয়ম সৃষ্টি করে বলেই তারা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের দুর্যোগ শুরু হওয়া থেকে সিটি কর্পোরেশন এবং মহানগর আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত নগরীতে ৪ দফায় ত্রাণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে সরকারি ত্রাণ সকল কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ত্রাণ সংসদ সদস্য সেখ সালাহ্ উদ্দিন জুয়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ত্রাণ এবং আওয়ামী লীগের ত্রাণ তহবিল থেকে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া যুবলীগ, শ্রমিক লীগ সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্দলীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছে। এসব ত্রাণ দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে সরকারি ত্রাণ নীতিমালা অনুযায়ি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ২৪নং ওয়ার্ডে বিএনপি’র কাউন্সিলর অনিহা জ্ঞাপন ও অসহযোগিতা করায় সেখানে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি’র কাউন্সিলরের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। অন্য সকল কাউন্সিলররা ত্রাণ কার্যক্রমে স্বত্ব:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এখানে কোন দলীয় বিবেচনায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন এমন অভিযোগ কখনও আসেনি। এটা শুধু বিএনপি’র সৃষ্টি করা মিথ্যাচার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান এই ক্রান্তিকালে দলমত নির্বিশেষে সকলের মাঝে মানবিক সাহায্য পৌছে দেয়ার নিদের্শনা দিয়েছেন। আমরা তাঁর নিদের্শনা মেনেই যথাযথভাবে ত্রাণ বিতরণসহ সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। শুধুমাত্র ১৪ হাজারই নয় ; প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা মোতাবেক দলমত নির্বিশেষে সকল অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা করে চলেছি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নিদের্শনায় আওয়ামী লীগ খালিশপুরে জুট মিল শ্রমিকদের মাঝে তাদের বকেয়া বেতনসহ বদলি শ্রমিকদের মাঝে পযাপ্ত মানবিক সাহায্য বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোন দল বিবেচনা করা হয়নি। অথচ বিএনপি এসব ক্ষুধার্ত মানুষকে নিয়ে শুধু রাজনীতি করে চলেছে। কিন্তু তাদের পাশে মানবিক সাহায্য নিয়ে দাড়ায়নি। বিএনপি অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল দাবি করে। অথচ এ পর্যন্ত ফটো সেশন ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতার হাতও বাড়াননি। বিএনপি’র কেন্দ্রিয় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পত্রিকায় অসত্য বক্তব্য দেয়া ছাড়া মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ানোর মত কোন উদাহরণ নেই বললেই চলে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিএনপি ১৪ হাজার দুর্গত মানুষের ত্রাণ বিতরণের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তার পরে অবশ্যই আওয়ামী লীগ যত ত্রাণ বিতরণ করেছে তার সকল তালিকা প্রকাশ করবে। কারণ আওয়ামী লীগের কোথাও কোন দুর্বলতা নেই। তবে বিএনপি কত মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা করেছে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। বিএনপি দলীয় করণ করে বলেই তারা বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর শব্দ ব্যবহার করেছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনে সকল কাউন্সিলরকে সমান দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখে কাজ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ত্রাণ বন্টন ও ১০টাকা কেজি চাউলের কার্ড বিতরণ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে। এই ত্রাণ বিতরণ ও ১০টাকা কেজি চাউলের কার্ড বিতরণে কোন অস্বচ্ছতা সংবাদ কখনও প্রকাশিত হয়নি। এটা কোন পত্রিকার সংবাদ নয় ; বরং বিএনপি’র বানোয়াট অসত্য একটি তথ্যহীন বক্তব্য। ত্রাণ বিতরণে কোন অনিয়ম হয়েছে ; সেটি আমাদের জানা নেই। তবে যারা ওএমএস এবং টিসিবি’র ডিলার ; তাদের মধ্যে কতিপয় ডিলার যারা কোন দলের নয়, এরা শুধু নিজের কথা মাথায় রেখে চাল, আটা সহ অসহায় মানুষের মুখের খাবার কেড়ে নেয়। এরা সবাই চোর। এদের মধ্যে বিএনপি’র চোরও আছে। সুতরাং চোর চোরই, সেকোন দলের নয়। আওয়ামী লীগ সকল অন্যায়ের বিচার করেছে এবং আগামীতেও করবে। নেতৃবৃন্দ বিএনপি’র থেকে ভালো কাজের প্রসংশা এবং ভুলের গঠনমুলক সমালোচনা প্রত্যাশা করেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিএনপি’র থেকে আওয়ামী লীগকে শিষ্টাচার শিখতে হবে না। বরং বিএনপিকে আওয়ামী লীগের থেকে শিষ্টাচার শিখতে হবে। বিএনপি মিথ্যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে জন্ম। তাদের মুখে শিষ্টাচার শব্দ শুনতে বেমানান। আওয়ামী লীগ দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনীতি করে। দু’দলের মধ্যে পার্থক্য এখানে। সুতরাং বৈশ্বিক এই দুর্যোগের সময় কোন দল বিবেচনা না করে সকলে জাতির এই ক্রান্তিকালে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ানোর জন্য বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দরা হলেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা।

প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছেন: সিটি মেয়র

তথ্য বিবরণী

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় শুক্রবার দুপুরে খুলনার দৌলতপুর দেয়ানা ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় চত্বরে চারশত ২৮ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, ডাল, লবণ, পেঁয়াজ, সাবান ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান সিটি মেয়র।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম বন্দ, বিজেএ’র চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক হাওলাদার, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বন্দ, আকাঙ্খা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ মজনু, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ কবির হোসেন কবু মোল্লা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুর রউফ মোড়ল, শেখ দাউদ হায়দার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে সিটি মেয়র নগরীর চানমারী বাজারে আব্দুল বারিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধে তিনশত কর্মহীন, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, ডাল, লবণ ও পেঁয়াজ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, মোংলা কাস্টমস কিয়ারিং এন্ড ফরওয়াডিং এজেন্টস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ সুলতান হোসেন খান, আব্দুল বারিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে মেয়র ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা চত্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় পাঁচশত ৭১ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, ডাল, লবণ ও পেঁয়াজসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

দু’শতাধিক ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশে খুলনা ফুড ব্যাংক

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনার প্রায় দু’শতাধিক মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে প্রায় এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে মানবতার ফেরীওয়ালা বলে খ্যাত সংগঠন “খুলনা ফুড ও ব্লাড ব্যাংক”। শুক্রবার “খুলনা ফুড ও ব্লাড ব্যাংক” এর উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম চত্ত্বরে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় খুলনা ফুড ও ব্লাড ব্যাংক এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: সালেহ উদ্দিন সবুজ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সদর থানার ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাও: সিদ্দিকুর রহমান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: ইমরান খান ও ওসি (কন্ট্রোল) মো: আসাদ্দাজুম্মান।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা ফুড ও ব্লাড ব্যাংক সাধারণ সম্পাদক সৌরভ গাইন, কোষাধক্ষ্য আসাদ শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারদিন ইসলাম অনিক, শাহ জিয়াউর রহমান স্বাধীন, সুরভী লাইজু, তুহিন, শাহানুল, রমজান, আনিস, রাজু, লিমন, সাব্বির, স্বাধীন, তানভীর, ইমরান, আশরাফ, জুয়েল, ইন্দ্র, সাগর প্রমুখ। সভাপতি মো: সালেহ উদ্দিন সবুজ বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায়, মানুষকে সচেতন করতে এবং ধর্মীয়ভাবে আমাদেরকে দক্ষ ও যোগ্য হতে সব সময় সহযোগিতা করেন। একজন মুসলমানের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন ইমামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের কারনে তাদেরও দৈনন্দিন জীবনে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। যার কারনে তাদের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। যেটা আমরা পালন করছি।

সাধারণ সম্পাদক সৌরভ গাইন বলেন, করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে চোখে মুখে কান্তির ছাপ ও মনে তারণ্যের শক্তি নিয়ে মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগনের পাশে দিন রাত কাজ করে চলেছে আমাদের এই সংগঠন  খুলনা ফুড ও ব্লাড ব্যাংক। বিভিন্ন পেশার অসহায় ও দু:স্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে আসছি।

দাকোপে টর্নেডোর আঘাতে ৫২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি

ঘূর্ণিঝড় টর্নেডোর আঘাতে খুলনার দাকোপের বটবুনিয়া বাজারে ৫২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময়ে দুইজন ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে রাস্তায় লোকজন চলাচল বন্দো হয়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২৫ লাখ টাকার উর্দ্ধে বলে ভূক্তভোগি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় এঘূর্ণিঝড়ে আঘাত হানে। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিত্যরঞ্জন কবিরাজ জানান আকাশে কালো মেঘের সৃষ্টি হয়ে ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে মুহুর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় টিনসেডের তৈরী ৫২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ ২৫টি। এসময়ে ঘরচাপা পড়ে ব্যবসায়ী হামিদ সানা ও সুজাত আলী দেওয়ান গুরুতর আহত হয়। আহত হামিদের মাথায় ও সুজাতের হাতে কয়েকটি সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়। তিনি বলেন গতকাল শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। ঝড়ে ২৫ লাখ টাকার উর্দ্ধে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মন্ডল বলেন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান মেরামত কাজ শুরু করেছেন। তবে পরিষদে কোন ফান্ড না থাকায় ক্ষগ্রিস্থদের কোন সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

এঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ‘র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের পর সরকারী সহায়তা দেয়া হবে বলে তারা জানান। এদিকে প্রচন্ড ঝড়ো বৃষ্টিতে কৃষকদের তরমুজ ক্ষেতসহ রবি ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

২৭৭ মসজিদের ৮৩১ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম দের পাশে যুবলীগ

খবর বিজ্ঞপ্তি

২৭৭ মসজিদের ৮৩১ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশো দারিয়েছে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন। খুলনা তিন আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নির্দেশনায় যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের উদ্যোগে এই কর্মসূচী বাস্তবায়ম করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিম ও খাদেম দের বাড়ী বাড়ী গিয়ে এই খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন। খাদ্য সামগ্রীর মাঝে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, ছোলা, চিড়া, চিনি, দুধ, সেমাই, লাউ, কুমড়া, ইত্যাদি।

পর্যায় ক্রমে মহানগরীর অন্যান্য এলাকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাঝেও খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে বলে জানান, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক, শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা নগরী জুড়ে বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছি। যার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম চলছে।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান মেম্বাররা চাল তেল চুরি করতো না:মঞ্জু

খবর বিজ্ঞপ্তি

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতেও জনগণের টাকায় কেনা চাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ির মাটির গর্তে, খড়ের পালার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং খাটের নিচে পাওয়া যাচ্ছে তেল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এমনটি হতো না। যেহেতু জনগনের ভোটে চেয়ারম্যান মেম্বার নির্বাচিত হয়নি তাই জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি নেই বলেই অসহায় দুস্থ মানুষের ত্রাণ আত্মসাৎ করছে। কোনভাবেই চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। শুক্রবার ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে মুজগুন্নি এলাকার গৃহবন্ধি মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক সাংসদ মঞ্জু আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে খাবারের জন্য, ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে ক্ষুধার্ত মানুষ। কর্মহীন মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কোন কাজ নেই, তাদের বাড়িতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। সরকার দলীয়রাই শুধু ত্রান পাচ্ছে। এক ব্যক্তি বার বার পাচ্ছে অথচ যারা পাচ্ছে না তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রনায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মিরা অসহায় মানুষদের খুঁজে খুঁজে নিজেদের টাকা খরচ করে ত্রাণের ব্যবস্থা করছে। বিএনপির নেতীকর্মীরা কেউ ঘরে বসে নেই। প্রতিটা ওয়ার্ড ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতা-কর্মিরা কাজ করছে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে ত্রাণ সরবরাহ করে যাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে। প্রতি দিনই আক্রান্ত ও মৃত্যু’র সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করতে পারে। তাই সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মিদের সজাগ থেকে এই করোনা দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে।     

এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দীপু, ইউসুফ হারুন মজনু, শরিফুল ইসলাম বাবু, আহসানউল্লাহ বুলবুল, ইমতিয়াজ আলম বাবু, কাজী শাহনেওয়াজ নিরু, আব্দুর রহমান ডিনো, ম শ আলম, কাজী শামীম, মাসুদ মেহেদী সেন্টু, নকিবুর রহমান, সোহরাব মল্লিক, শেখ ফারুক আহমেদ, ইফতেখার জামান নবীন, শামীম আশরাফ, এম এ রউফ, হাবিবুর রহমান তোতা, আব্দুল হালিম, শেখ বাদশা, ইকবাল হোসেন, এ আর রহমান, মল্লিক জাহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম তুহিন, হাফিজুর রহমান, মোসলেম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান অভি, দেলোয়ার হোসেন, মফিজুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবলু, আশিক মাহমুদ নকিব, রমজান আলি, সোহেল হাওলাদার, শেখ হানিফ, সাগর  প্রমুখ।

ছাত্রলীগ নেতা তাজু’র পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে নগর ছাত্রলীগের দোয়া

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাজমুল হক তাজু’র পিতা সদ্যপ্রয়াত মরহুম ওহিদুল হক এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্টান করেছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। ৮মে শুক্রবার বাদ আসর খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার হাফেজবৃন্দ ও এতিম ছাত্রদের অংশগ্রহনে মাদ্রাসায় এ দোয়া অনুষ্টিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল সহ মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। দোয়া অনুষ্টানে মরহুম ওহিদুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা ও তার শোকাহত পরিবার যেন এ শোক কাটিয়ে উঠতে পারে তার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া প্রার্থনা করা হয়। উল্লেখ্য যে মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাজমুল হক তাজুর পিতা ওহিদুল হক গত ৪ মে ডায়াবেটিক ও হার্টের সমস্যা জনিত কারনে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।

ক্লিনিক নেওয়ার পথে সন্তান প্রসব, পুলিশের সহায়তায় সুচিকিৎসা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে কিনিকে নেওয়ার পথে ভ্যানে নিপা মন্ডল নামে এক নারীর সন্তান হয়েছে। ত্রিপল নাইনে ফোন দিলে দ্রুত পুলিশ এসে তাদের কিনিকে ভর্তি, নগদ অর্থ সহায়তাসহ সুচিকৎসার ব্যবস্থা করে।

শুক্রবার ভোরে বাগেরহাট শহরের পৌরসভা সড়কের অসীম সাহার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে বের হয়ে মুক্তি কিনিকে যাওয়ার পথে ভ্যানের উপর একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি ত্রিপল নাইনে ফোন দিলে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ এসে ওই নারীকে মুক্তি কিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে মা ও শিশু সুস্থ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন কিনিকের পরিচালক ডা. এস কে কাইয়ুম।

প্রসূতি নিপা মন্ডল মোরেলগঞ্জ উপজেলার লক্ষিখালী গ্রামের অমৃত মন্ডলের স্ত্রী। সে বাগেরহাট শহরে মা-বাবার সাথে ভাড়াটিয়া বাসায় থাকতেন। তার স্বামী অমৃত মন্ডল ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে ১৫ দিন আগে চিতলমারীতে গেছেন। নিপা মন্ডলের মা বিথি বাছার বলেন, ভোর ৫টার দিকে মেয়ে নিপার প্রসব বেদনা হলে ভ্যানযোগে আমরা তাকে পার্শ্ববর্তী মুক্তি কিনিকে নেওয়ার জন্য রওনা হই। সেখানে পৌছানোর আগেই ভ্যানের উপর কন্যা সন্তান প্রসব করে নিপা। পরে পুলিশ এসে আমাদেরকে মুক্তি কিনিকে নিয়ে যায়। তারা অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমরা এখন ভাল আছি।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহতাব উদ্দিন শিকদার বলেণ, ‘ত্রিপল নাইনে খবর পেয়ে এসআই কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনা স্থলে পৌছে নবজাতক ও তার মাকে মুক্তি কিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে পুষ্টিকর খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি।’

করোনাতেও গোপালগঞ্জের সেই বর্ষাগ্রামে থেমে নেই সংঘর্ষ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

একই গ্রামেই বাস তাদের। একই বংশের দুই প্রতিপক্ষের নেতার নামের পরে বিশ্বাস উপাধী, তারা থাকেন একটু দূরে। মনের দিক সেই দূরত্ব এতোটাই বেশি যে, প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ লেগে যায় প্রায়ই। গেল ছয়মাসে নয়টি মামলা হয়েছে আলিম বিশ্বাস আর হাসানা বিশ্বাস বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায়। এমন অবস্থা বিরাজ করছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের বর্ষপাড়া গ্রামে।

শুক্রবার সকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের হাসান বিশ্বাস ও আলীম বিশ্বাস গ্রুপের লোকজন উভয় পক্ষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্ষাপাড়া গ্রামের হাসান বিশ্বাসের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আলিল বিশ্বাসের বিরোধ চলে আসছিল।

গত বুধবার রাতে আলিল গ্রুপের জামশেদ বিশ্বাস ও কালা বিশ্বাস প্রতিপক্ষ হাসান বিশ্বাস গ্রুপের অনিক বিশ্বাসকে মারধর করে। এরই সুত্র ধরে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ফায়েক বিশ্বাস (৫৫) কালাম বিশ্বাস (৪৫) সরাফত মোল্লাকে (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে হাসান বিশ্বাসের লোকজন আজ শুক্রবার সকালে সংঘবদ্ধ হয়ে আলিল বিশ্বাস গ্রুপের নজরুল বিশ্বাস, বাচ্চু বিশ্বাস, আকবর বিশ্বাস, আলিল বিশ্বাসসহ অর্ধশত ব্যক্তির বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

গৃহবধূ রিনা বেগম ও মুনজিলা বেগম বলেন, হাসান বিশ্বাসের লোকজন আজ শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তারা আমাদেরকেও গালিগালাজ এবং মারধর করে। এ ব্যাপারে হাসান বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি লুটপাটের কথা অস্বীকার করে বলেন, আলিল বিশ্বাসের লোকজন আমার লোকজনকে মারধর করায় আমার লোকজন আলিল বিশ্বাসের লোকজনের বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে। তবে আলিল বিশ্বাস বলেন, আমার লোকজন হাসান বিশ্বাসের কোন লোকজনকে মারধর করেনি। হাসানের লোকজন এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য আমার লোকজনকে মারধর ও বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান বলেন, বর্ষাপাড়া গ্রামে গত ৬ মাসের সংঘর্ষের ঘটনায় ৯টি মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবারে ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষাপাড়া গ্রামের অবস্থা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্ষতির শিকার কুষ্টিয়ার গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষিরা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

করোনার কারণে এবার কুষ্টিয়ায়  গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ করে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বাঁধাকপি বিক্রি করে শ্রমিক খরচও উঠছে না। তাই বাঁধাকপি ক্ষেত থেকে ওঠাচ্ছেন না কৃষকরা। পচে যাচ্ছে ক্ষেতেই। কুষ্টিয়ার স্থানীয় বাজারে প্রতিটি বাঁধাকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ২-৫ টাকার মধ্যে। মাঠ থেকে যা বাজারে আনতেই খরচ হয়ে যায় ৩-৪ টাকা।

কৃষকদের দাবি, করোনাভাইরাসের কারণে বাঁধাকপি জেলার বাইরে পাঠাতে পারছেন না। বাইরে থেকে পাইকারী ক্রেতারাও আসছে না। তাই বাঁধাকপি না কাটার কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দামও পাচ্ছেন না। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ এলাকার কৃষক সিহাব উদ্দিন। তিন বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপির চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত একটি কপিও বিক্রি করতে পারেননি। ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার বাঁধাকপি। গতবছর বেশ ভালো ফলন পেলেও বাঁধাকপিতে এবার পুরো লসের আশঙ্কা করছেন তিনি। সিহাব উদ্দিন বলেন, ‘‘শীতকালে এই এলাকায় ব্যাপক হারে সবজির চাষ হয়। এর মধ্যে বাঁধাকপি বেশি। শীতের তুলনায় গ্রীস্মকালে বাঁধাকপির দাম একটু বেশি পাওয়া যায়। বাজারে এসময় চহিদাও বেশ ভালো থাকে।

‘গত বছর প্রতি পিস বাঁধাকপি আমি পাইকারী জমি থেকেই ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলাম। এবার দাম পাচ্ছি না। প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩-৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে কপি ২-৩ টাকা করে। জমি থেকে তুলে বাজারে নিতে যা খরচ তার চেয়ে কপির দাম কম। এমন থাকলে কপি কাটা শ্রমিকের দাম উঠবে না।”

কৃষক উসমান গণি জানান, জমির বাঁধাকপি বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে ৭-৮ দিন আগেই। এই করোনার জন্য এবং দামের যে অবস্থা এজন্য বাঁধাকপি কাটিনি। এর উপরে আবার দুদিন বৃষ্টি হলো। এতে ক্ষেতের কপি এখন ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। জেলার অন্যতম বৃহত্তর পাইকারী কাঁচা সবজির বাজার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি বাজার। করোনার কারণে সেখানেও ক্রেতার তেমন উপস্থিতি নেই। বাইরে থেকে ক্রেতারাও তেমন আসছে না।

খলিসাকুন্ডি কাঁচা বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম জানান, করোনার কারণে বাইরের ক্রেতারা ঠিকমতো আসছে না। আমরাই সবজি বাইরে পাঠাতে সমস্যায় পড়ছি। বাঁধাকপির ক্রেতা না থাকায় বাজারে দাম একদম কম। পাইকারী ৪-৬ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, গ্রীস্মকালীন বাঁধাকপি চাষটা বেশ লাভজনক হওয়ায় মিরপুরের বেশ কয়েকজন কৃষক বাঁধাকপির চাষ করে থাকেন। প্রতিবছর তারা বেশ ভালো দাম পান। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে একটু অসুবিধা হচ্ছে। দাম অনেকটাই কম। তবে কৃষকরা যাতে ন্যায্য দামে বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ঢাকার পাইকারী বাজারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারেন, সে ব্যপারে কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তর থেকেও আমাদের নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। সে মোতাবেক আমরা কাজ করছি।’