Home আঞ্চলিক মাছ ধরার ট্রলারে ভাঙচুর-লুটপাট, ৪ জেলে আহত

মাছ ধরার ট্রলারে ভাঙচুর-লুটপাট, ৪ জেলে আহত

12

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
সুন্দরবনে এফবি সোহেল নামে একটি ফিশিং ট্রলারে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষ জেলে বাবুল হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫-১৬ দুর্বৃত্ত ট্রলারটি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা চার জেলেকে মারধর করে প্রায় দেড় লাখ টাকাসহ মালপত্র লুটে নেয়।

রোববার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলার মালিক সোহেল হাওলাদার ও হামলার শিকার জেলেরা এ অভিযোগ করেন। এর আগের দিন শনিবার বিকেল ৪টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অফিসসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত জেলেরা হলেন ট্রলারের মাঝি আবদুর রহিম হাওলাদার (৩০), জেলে এমাদুল হাওলাদার (৪৫), আজিজুল (১৫) ও পান্না মুন্সী (৬০)।

তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত মাঝি রহিম ও জেলে এমাদুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দু’জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত জেলেদের বাড়ি শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে। ট্রলারের মাঝি আবদুর রহিম জানান, তাঁরা সুন্দরবনের শ্যালা নদী থেকে মাছ ধরে পাথরঘাটার মহিপুরে বিক্রি করতে যান। মাছ বিক্রি করে আবার শ্যালায় ফেরার জন্য রওনা হন। ট্রলার নিয়ে তাঁরা কটকার কাছাকাছি এলে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ রাজাপুরের জেলে বাবুল হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ দুর্বৃত্ব দুটি ট্রলারযোগে এসে তাঁদের ট্র্রলারে হামলা চালায়। তারা দুটি ট্রলার দিয়ে সজোরে একের পর এক আঘাত করতে থাকে তাঁদের ট্রলারে। এতে এফবি সোহেল ট্রলারের পেছনের অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে সাগরে ভেসে যায়। পরে ওই দুর্বৃত্তরা তাঁদের ট্রলারে উঠে জেলেদের এলোপাতাড়ি মারধর করে মাছ বিক্রির ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং মূল্যবান মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলার মালিক মো. সোহেল হাওলাদার বলেন, তাঁর ট্রলারের জেলে এমাদুল হাওলাদার হামলাকারীদের প্রধান বাবুলের কাছে এক লাখ টাকা পাবেন। সেই পাওনা টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হয়। কিন্তু তারা তাঁর ট্রলারে হামলা চালিয়ে ট্রলার ভাঙচুর ও জেলেদের মারধর করেছে। মাছ বিক্রি করা সব টাকা নিয়ে গেছে এবং লুটপাট চালিয়েছে। এতে তাঁর তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত বাবুল হাওলাদার মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে দুর্গম সুন্দরবনে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শরণখোলা থানার দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) এএসআই ইন্দ্রজিৎ জানান, ট্রলার মালিক সোহেল হাওলাদার এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।