শাহ তানভীর আহমেদ।।
খুলনা নগরীর ১নং গোবরচাকা ক্রস রোডস্থ তেতুলতলা জনৈক রাজুর বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসা থেকে এক নারীর দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ওই বাসার বাড়াটিয়া স্বামী আবু বক্কার ও স্ত্রী সপ্না খাতুন নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ধারণা হত্যার পর শরীর থেকে মাথাটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রবিবার ভোরে অথবা গভীর রাতে কোনো এক সময় নৃশংস এই হত্যাকান্ডটি ঘটে। তবে কী কারণে ওই নারীকে খুন হয়েছেন প্রাথমিকভাবে পুলিশ তা জানাতে পারেনি। স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে নিয়ে আবু বক্কর। ভাড়া থাকতেন সোনাডাঙ্গা থানাধীন গোবরচাকার রাজু খাঁর বাড়িতে। স্বপ্না খাতুন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ভাগা গ্রামের আইয়ুব আলী সরদারের মেয়ে এবং আবু বক্কার একই গ্রামের জাকির মোল্লার ছেলে। দুই থেকে আড়াই বছর আগে আবুবক্কার সোনাডাঙ্গা থানাধীন ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন এবং ৫নং ঘাট এলাকার আল আকসা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী স্বপ্না ছিলেন সাতরাস্তা মোড়স্থ প্রিন্স হাসপাতালে কর্মরত।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, লাশ উদ্ধার হওয়া ঘরের ভাড়াটিয়া জনৈক আবু বক্কার মোল্লা কদমতলা স্টেশন রোডস্থ নিউ আল আকসা নামে একটি ট্রান্সপোর্টে কর্মরত ছিল। রবিবার সকালে কর্মস্থলে এবং তার ফোন বন্ধ থাকায় ট্রান্সপোর্ট থেকে তাকে খুজতে আসে কয়েকজন। ঘরে তলাবদ্ধ থাকায় বাড়ির মালিক রাজুকে জানানো হয়। অনেকক্ষণ পার হওয়ার পর বাড়ির মালিক স্থানীয় কাউন্সিলরকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি থানায় ফোন দিয়ে বাড়িতে পুলিশ এনে ঘরের তলা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর গিয়ে মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করে। মৃত নারীর মাথা পলিথিন দিয়ে আবৃত ও দেহটি খাটের ওপর ফেলানো ছিল।
বাড়ির মালিক রাজু জানান, মৃত. ওই নারীকে কখনও তিনি বাড়িতে দেখেননি। তিনি আবু বক্কার মোল্লার স্ত্রী নন। হত্যাকন্ডটি গভীর রাতেই হয়েছে বলে তার ধারণা। আবু বক্কারের স্ত্রী প্রিন্স হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতিদিন সকালে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু আজ তিনি আসেন নি। তবে হত্যাকান্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সোনালী সেন জানান, আবু বক্কর একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন। রবিবার সকালে তিনি কর্মস্থলে না যাওয়ায় ও মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় সহকর্মীরা তাকে খুঁজতে বাসায় যান। বাসাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখার এক পার্যায়ে তারা জানালা দিয়ে বিছানায় একটি বাক্স ও বিছানার আশপাশে রক্ত দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের মোড়ানো মাথা ও একটি কাঠের বাক্সের ভেতর থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় সেখান থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।










































