স্টাফ রিপোর্টার ।।
নগরীর বয়রা এলাকার মোটরগ্যারেজ ব্যবসায়ী মো. বিপ্লবের লাশ ময়নাতদন্তের কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর রবিবার (২৪ জুলাই) সকালে খালিশপুরস্থ গোয়ালখালী কবরস্থান থেকে ভিকটিমের লাশ উত্তোলন করা হয়। এরপর লাশের অংশ বিশেষ ময়নাতদন্ত করার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব। এছাড়া নিহত ব্যবসায়ী বিপ্লবের ছেলে মামলার বাদী মেহেদী হাসান তুহিন, মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি ও খালিশপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তসহ সকল প্রকার পরিক্ষা-নিরিক্ষা শেষে মৃতদেহটি ফের ওই স্থানে দাফন করা হবে। লাশ উত্তোলনের জন্য গত ৩ জুন আদালতে আবেদন করা হয়েছিলো। ১০ জুন খুলনার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আহমেদ এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরনী থেকে জানা গেছে, মোটরগ্যারেজ মালিক ব্যবসায়ী মো. বিপ¬ব গত ৭ মে রাত দেড়টার দিকে মারা যান। ঢাকায় অবস্থানরত তার ছেলে মেহেদী হাসান তুহিনকে মোবাইলে গ্যারেজের এক কর্মচারী জানান তার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। ওই কথা শুনে সে পরদিন সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা করে দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনায় আসেন। তিনি যখন খুলনায় বাবার বাড়িতে আসেন তখন গোয়ালখালী কবরস্থানে লাশ দাফনের সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তার অনুপস্থিতিতে মৃত বাবার দাফন, জানাজা সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদনও করা হয়। যিনি ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি বাদীর পরিবারের কেউ নন। তাছাড়া বাদী লোকমুখে শুনেছেন মারা যাওয়ার পর তাঁর বাবার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল ও জিব্বাহ বের হয়ে ছিল। বাদীর বাবা মারা যাওয়ার পর সকালে গ্যারেজ থেকে তাঁর মোবাইল, মোটরসাইকেল ও গ্যারেজের কাগজপত্রও নিয়ে আসেন আসামিরা। এসব কারণে বাদীর সন্দেহ হয়েছে তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী বিপ্লবের ছেলে মেহেদী হাসান তুহিন গত ২২ মে পিতার হত্যার অভিযোগে খুলনার নালিশী আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬জনকে বিবাদী করা হয়। ২৪ মে শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আহমেদ। সিআর খুলনা- ৯০৮/২২ এ মামলাটি আগামী ৭ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেন আদালত।










































