ঢাকা অফিস।।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করেছে। এ কারণে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক এই মন্দা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চপ্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে দাতা সংস্থাটি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। তবে বৈঠকে আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয় কোনো আলোচনাই হয়নি। বৈঠকে চার ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও প্রধান অর্থনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন। আইএমএফ স্টাফ ভিজিট মিশন-২০২২ নামে প্রতিনিধি দলটি গত ১৪ জুলাই ঢাকা সফরে এসেছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের এশীয়প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ।
ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনে বিঘ্নতা, উচ্চ ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং ভোক্তা আস্থা কমে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়েই চড়েছে মূল্যস্ফীতির পারদ। তাই উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অনেক দেশই এখন সুদের হার বাড়াচ্ছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদের হার বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। একই পথ অনুসরণ করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডসহ অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও। এতে ব্যবসায় খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে পূর্ববর্তী সভাগুলোর ফলোআপসহ সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ বৈশ্বিক কারণে এ দুটি সূচক নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনীতে যে মন্দা ভর করছে, সেটি প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দাতা সংস্থাটি। তবে বৈঠকে আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে গভর্নর বলেন, এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার। চাহিদা কমিয়ে ও সরবরাহ চেইন বাড়িয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করা চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমাদের মূল্যস্ফীতি যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তেমনি জনগণের কর্মসংস্থানও ঠিক রাখতে হবে। আমরা সব ধরনের বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কঠোর হয়েছি। অন্যদিকে স্বল্পসুদে ঋণ দিতে বিভিন্ন তহবিল গঠন করেছি।
বৈঠকে করোনার কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণ শোধে যে মরেটরিয়াম দেওয়া হয়েছিল সেই ছাড় কবে তুলে নেওয়া হবে সেটিও জানতে চেয়েছিল আইএমএফ। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২০ সালে বকেয়া ঋণের কিস্তি শোধ স্থগিত রাখা হয়। ২০২১ সালে ববেয়া ঋণের ১৫ শতাংশ পরিশোধে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। আর চলতি বছর ৫০, ৬০ ও ৭৫ শতাংশ জমা দিলেই কেউ খেলাপি হবে না বলে ছাড় দেওয়া আছে। তবে আগামী বছর এই ছাড় সুবিধা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপরও নির্ভর করবে, এই ছাড়া ফের দেওয়া হবে কি, হবে না।









































