Home আঞ্চলিক সাহাপাড়ায় বাড়ি-মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

সাহাপাড়ায় বাড়ি-মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

10

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ।।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া সাহাপাড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও মন্দির পরিদর্শন করলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, বীরেন শিকদার এমপি, অসীম কুমার উকিল এমপি, পংকজ দেবনাথ এমপি ও নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজা।

মঙ্গলবার দুপুরে তারা ঢাকা থেকে সড়কপথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে মৌলবাদী গোষ্ঠী উঠে পড়ে লেগেছে। আর এই মৌলবাদী গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। যাদের বিরুদ্ধে সরকার এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিনগুলোতে শেখ হাসিনা সরকারও প্রশ্নবিদ্ধ এবং হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না, প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে। তিনিই আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। আপনাদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, নির্বাচন আসলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা, বাড়িঘর-দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মর্মাহত এবং এর তীব্র নিন্দা জানাই।

পরে দিঘরিয়া সাহাপাড়া রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে মতবিনিময়কালে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, শান্তি প্রিয় নড়াইলে যারা এ ঘৃণিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এসব ঘটনা দুর্বৃত্তদের উৎসাহ সৃষ্টি করে। আপনারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে মিলেমিশে বসবাস করবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন খান নিলু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র সৈয়দ মসিয়ূর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী বনি আমিন প্রমুখ।

সাহাপাড়া পরিদর্শন শেষে বিকালে মন্ত্রী ও এমপিসহ নেতৃবৃন্দ লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের হল রুমে প্রশাসনের উদ্যোগে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার্থে সকল অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুধীজন, শিক্ষক, সাংবাদিক, উপজেলা ইমাম পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিষ্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত, জাতীয় শ্রমিক জোটের জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা ওয়ার্কার্স পাটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

পরে অ্যাডভোকেট বিভাস চন্দ্র বিশ্বাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর ও মন্দির সংস্কার বাবদ ঢেউটিন, নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন জানান, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সাম্প্রদায়িক হামলা মামলায় সোমবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোমান মোল্যাকে (২৬) গ্রেফতার করেছে। রোমান কুমড়ি পশ্চিমপাড়ার আবু তালেব মোল্যার ছেলে।

লোহাগড়া থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, আটক রোমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ নিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ি ও মন্দির ভাঙচুর মামলায় মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই দিঘলিয়া সাহাপাড়ার ব্যবসায়ী অশোক সাহার ছেলে আকাশ সাহার ফেসবুক থেকে মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করে পোষ্ট দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ লোকজন সাহাপাড়ার ৫-৬টি বাড়িঘর ও ৬টি দোকান ঘরসহ চারটি পূজামন্ডপ ভাঙচুর করে ও একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে লাঠিপেটা করে এবং টিয়ারশেল ও শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে।