Home আঞ্চলিক খুলনার ডুমুরিয়ায় নোনাপানিতে ঘেরের মাছ ও ফসলের ক্ষতি

খুলনার ডুমুরিয়ায় নোনাপানিতে ঘেরের মাছ ও ফসলের ক্ষতি

36

 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।

 

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২৬ নম্বর পোল্ডারে দুই রাতেই নোনাপানিতে সাড়ে ৭০০ বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাদু পানির ঘেরের মাছ ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় ঘের মালিকদের অভিযোগ, কয়েকজন বাগদা চিংড়ি চাষি গত মঙ্গলরার রাতে উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের ২৬ নম্বর পোল্ডারের কাকমারি বিল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে দিলে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্তদের দাবি, দুর্বল বাঁধ গলিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

এই পোল্ডার অর্থাৎ কাকমারি বিলে ডুমুরিয়া, সাহস, নোয়াকাটি, শরাফপুর, কুমারঘাটা, শোভনা, জিয়েলতলা, উলা, ভাণ্ডরপাড়া, বসুন্দিয়া, ভুলবাড়িয়া, কাপালিডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। ওই বিলের বেড়িবাঁধের উত্তর-দক্ষিণ অংশে সাড়ে ৭০০ বিঘা জমিতে এরই মধ্যে নোনাপানি ছড়িয়ে পড়েছে। এসব জমিতে এখন মিষ্টি পানির গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছের চাষ হচ্ছে। রয়েছে আউশ ধানের বীজতলা। বিলজুড়ে রয়েছে চিংড়ি ঘেরের (অবশিষ্ট জায়গা) বেড়িবাঁধের ওপর বেগুন, পটোল, শসা, চিচিঙ্গা, ওল, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, পেঁপে, বরবটিসহ নানা সবজি।

এ অঞ্চলে সারাবছর প্রায় ৬৫ কোটি টাকার সুস্বাদু পানির মাছ এবং ৪০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হয় বলে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে।

কাকমারি বিলের ‘ঘের উন্নয়ন চাষি কল্যাণ সমিতির’ সভাপতি আব্দুল মজিদ, ইকবাল গাজী, আজিবুর সরদার জানান, এ বিলে তাঁদের প্রত্যেকের ৪ থেকে ৬ বিঘা করে জমি রয়েছে। ওই জমিতে তাঁরা খণ্ড খণ্ড করে গলদা ও সাদা জাতীয় মাছ ও বেড়িবাঁধে সবজি চাষ করেছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন বাগদা চাষি পাউবোর বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে নোনাপানি তোলায় ঘেরের মাছ ও বাঁধের ওপর লাগানো সবজিও পচে গেছে। তাতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পাউবোর বেড়িবাঁধ কেটে নোনাপানি তোলার ঘটনায় অভিযুক্ত আতাউর সরদার, নুর ইসলাম সরদার, আনিচ সরদার ও আশরাফ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে তাঁরা নোনাপানি তোলেননি। দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

সাহস ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মাহাবুর রহমান বলেন, পাউবোর বেড়িবাঁধ কেটে নোনাপানির বাগদা চিংড়ি চাষ অবৈধ। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

খুলনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরশাফুল আলম বলেন, ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।