Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

98

অফিস সহায়ককে চড়থাপ্পড় মারলেন প্রভাষক!
সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের বিএম শাখার প্রভাষক আব্দুল লতিফ চড়থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাপস সাধু খাঁ নামের ওই কলেজের এক অফিস সহায়ক। রবিবার দুপুরে কলেজে ক্যাম্পাসে এই ঘটনাটি ঘটে। এদিকে অভিভাবকদের দাবি ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায়ই নানা ধরনের ঝামেলার সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যা দুঃখজনক।
জানাগেছে, রোববার কলেজের বিএম শাখার এক ছাত্রী কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় একই কলেজের নিশান ও শহীদ নুর আলী কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন তার পিছু নেই। এরপর নিশান মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওযায় ওই দিন মেয়েটিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে দিতে থাকলে কলেজ পাড়ার স্বপন মুখার্জীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে কলেজের ইংরেজি অধ্যাপক মনোজ কুমার বিশ^াস ও কলেজের অফিস সহায়ক তাপস সাধু খাঁ মেয়েটিকে উদ্ধার করে কলেজে নিয়ে আসে এরপর তাপস সাধু খাঁ নিশানকে মারলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কলেজের প্রভাষক আব্দুল লতিফ তাপস সাধু খাঁ কে পাল্টা চড়থাপ্পড় মারেন।
এ বিষয়ে প্রভাষক আব্দুল লতিফ জানান, নয়ন আমাদের কলেজে ছাত্র সে কলেজে এসেছিলো ফরমপুরন করতে। সে সময় সকলের সামনে অফিস সহায়ক তাপস সাধু খাঁ নয়নকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে আমি তাপস কে সেখান থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিই। মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মোশারফ হোসেন জানান, কলেজের এক ছাত্রী নিয়ে ঝমেলার কথাটি সঠিক। তবে মারামারির বিষয়টি তিনি জানেন না।
উল্লেখ্য, সরকারী এম.ইউ কলেজ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সময়ে প্রায়ই ঘটছে নানা ধরনের প্রশাসনিক ঝামেলা। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবকদের দাবি, সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ভ’মিকা রাখবেন।

ডুমুরিয়ায় ডায়মন্ড সদৃশ্য ২টি মূদ্রাসহ দুই পাচারকারী আটক
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডায়মন্ড সদৃশ্য ২টি মূদ্রা সহ দুই পাচারকারী কে আটক করেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার খর্ণিয়া বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। থানা পুলিশের এস আই বিশ্বজিত কুমার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনা¯’লে অভিযান চালিয়ে শ্যামনগর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার মৃত জামাত আলী মোল্যার ছেলে আঃ হাই মোল্যা (৫০) ও একই উপজেলার মাজাট গ্রামের আবুল হোসেন খানের ছেলে মাহবুর রহমান (৪২) কে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে ২টি ডায়মন্ড সদৃশ্য বার উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন, ধারনা করা হ”েছ প্রতারনার উদ্দেশ্যে তারা এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সব বেরিয়ে আসবে।

পাটকেলঘাটা ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়নে ইটের সলিং এর উন্নয়ন
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে সহায়তা বরাদ্দের আওতায় পাটকেলঘাটা ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়নের ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ২য় কিস্তিতে ৪ লক্ষ ৯২ হাজার ৯শত টাকা বরাদ্দ পেয়ে চেয়ারম্যান মাষ্টার শেখ আব্দুল হাই ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের জনসাধারনের সুবিদার্থে ইটের সলিং রাস্তার উন্নয়ন করেন।
উন্নয়নের মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে সরুলিয়া তুহিনের বাড়ী হইতে আলতাফের বাড়ী, একই ওয়ার্ডের হাই’র বাড়ীর মোড় হইতে হায়দার আলীর বাড়ী। ২নং ওয়ার্ড বড়বিলা ইমান আলীর বাড়ী হইতে শেখ আরশাদ আলীর বাড়ী, বড়বিলা সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ইটের রাস্তা। ৩নং ওয়ার্ডের বড় কাশিপুর জব্বারের বাড়ীর মোড় হইতে দক্ষিন পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত, বড় কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আসবাব পত্র সংগ্রহ। ৪নং ওয়ার্ডের পারকুমিরা জব্বারের দোকানঘর হইতে হায়দার মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত। ৫ নং ওয়ার্ডের পাটকেলঘাটা বাইগুনি সঞ্জয় বিশ্বাসের বাড়ী হইতে ফজর আলীর বাড়ী পর্যন্ত, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের প্রাচীরের গা ঘেঁসে আবুল কালাম আজাদের বাড়ী পর্যন্ত ও পল্লী বিদ্যুৎ রোডের প্রবীর ডাক্তারের চেম্বার পর্যন্ত। ৮নং ওয়ার্ডের আমতলাডাঙ্গা খাঁর বাড়ীর মোড় হইতে আজিজ সরদারের মিলঘর পর্যন্ত। ৯নং ওয়ার্ডের ভারসা খালিদের বাড়ী হইতে রাজ্জাক মুহুরির বাড়ী পর্যন্ত। সর্বশেষ সরুলিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা নামের স্মৃতি ফলক বিজয় কলরব নির্মান করেন।

ডুমুরিয়ার গুটুদিয়ায় কৃষকদলের কমিটি গঠন
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে ¯’ানীয় গাজীর মোড়ে নুর মোহাম্মদ শেখের সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক মাষ্টার আইয়ুব হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মোল্ল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা কৃষকদলের সভাপতি মোল্ল্যা কবির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষকদল সাধারন সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক শেখ সরোয়ার হোসেন, শেখ শাহিনুর রহমান,উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব জিএম সাইকুল ইসলাম। বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শহিদুল ইসলাম মোড়ল, সদস্য সচিব মোনায়েম গাজী, বিএনপি নেতা মোল্ল্যা ইকরামুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, মাষ্টার সেলিম হালদার, মাহাবুর রহমান পিকুল, জাহাঙ্গীর, সাদেক বিশ্বাস, জিএম হান্নান, কাজী জিয়াউর রহমান, ইনামুল ইসলাম, রশিদ, রিজাউল, কাশেম, হাফিজুর রহমান, মফিজ, ওলিয়ার খান, নাদিম,আতিয়ার রহমান, দেলোয়ার হোসেন,ইলিয়াজ, রাজ্জাক মোল্ল্যা, ইব্রাহিম গাজী, মাহাবুর, ওমর, জুলফিকার, জাফর, জিয়াউর, আনোয়ার, বাদল হোসেন, জনি মোড়ল, তানফির, প্রমুখ। সম্মেলন শেষে নুর মোহাম্মদ শেখ কে সভাপতি, মো: রিজাউল হোসেন কে সাধারণ সম্পাদক ও গাজী ওলিয়ার রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

দাকোপের খুটাখালী বাজারে লাউডোব বিট পুলিশ এর উদ্যোগে উঠান বৈঠক
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপের খুটাখালী বাজারে লাউডোব বিট পুলিশ এর উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিকাল ৫ টায় বিট পুলিশ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) রাশেদ হাসান বলেন এলাকায় চুরি, ডাকাতির ঘটনাগুলো অহরাহ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মাদকের ও ছড়াছড়ি তবে আমাদের অভিযান চলছে অপরাধী যতই শক্তিশালী হোকনা কেন তাকে ধরা পড়তেই হবে। মাদক মুক্ত দাকোপ গড়তে চাই এব্যাপারে পুলিশকে সকলকে সাহায্য করতে হবে তবেই আমরা সফল হবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ উজ্জ্বল দত্ত, ওসি তদন্ত মাহবুব হাসান, বাজুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মানস কুমার রায়, লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, ব্যবসায়ী দেবাশীষ মন্ডল, অচিন্ত্য সাহা, অশোক দাস, প্যানেল চেয়ারম্যান ও লাউডোব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিহার মন্ডল, প্যানেল চেয়ারম্যান নিতাই জোয়াদ্দার, লিপিকা মন্ডল, ইউপি সদস্য প্রদীপ সরদার, তাপস হালদার, সুব্রত সরদার, আনিসুর গাজী বাবলু, দেবাশীষ মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডল লক্ষণ, সহ এলাকার ব্যবসায়ী মহল ও সুধীজন।

কালীগঞ্জে গভীর রাতে ৪ টি ইজিবাইক চুরি
সাবজাল হোসেন.বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহ-কালীগঞ্জে চার্জের গ্যারেজ থেকে ৪ টি ইজিবাইক চুরি গেছে। রোববার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে শহরের আয়েশা খাতুন তেল পাম্পের কাছে অচিন্ত প্রামানিকের গ্যারেজ থেকে। এ ব্যাপারে গ্যারেজ মালিক সোমবার সকালে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। চুরি হওয়া ইজিবাইকগুলোর মধ্যে সোমবার ভোরে ঝিনাইদহের চুটুলিয়ার মোড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ইজিবাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
যাদের ইজিবাইক চুরি গেছে তারা হলেন, কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া গ্রামের শুশান্ত চক্রবর্তী, একই গ্রামের জিল্লুর রহমান, ফয়লা মাষ্টারপাড়ার নিমাই দাস, চাপালী গ্রামের রিপন হোসেন। তাদের মধ্যে রিপন হোসেনের ইজিবাইকটি ঝিনাইদহের যশোর- ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুটুলিয়া মোড়ে বিকল অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে অচিন্ত প্রামানিক উল্লেখ করেছেন, প্রতিদিন রাতে তার গ্যারেজে কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ টি ইজিবাইক বানিজ্যিকভাবে চার্জ দেয়া হয়। চার্জ হয়ে গেলে পরদিন সকালে এসে মালিকেরা নিয়ে যান। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার রাতে ইজিবাইকগুলো চার্জে বসিয়ে গ্যারেজ তালাবদ্ধ করে বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরদিন সকালে গিয়ে দেখেন সামনের দরজার হুক কাটা এবং ৪ টি ইজিবাইক নেই।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুর রহিম মোল্যা জানান, ইতোমধ্যে এক গ্যারেজ মালিকের দেয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তারা ইজিবাইগুলো উদ্ধার ও চোরচক্রকে ধরতে অভিযান জোরদার করেছেন।

রামপালে ইমাম-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে চেয়ারম্যানের মতবিনিময়
স্টাফ রিপোর্টার
রামপালে ইমাম ও মাদরাসা প্রধানগণের সাথে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকল ১০ টায় পরিষদ মিলনায়তনে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শরাবপুর কারামতিয়া ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ ওলিউর রহমান, ইসলামী ফাউন্ডেশন রামপালের সুপারভাইজার হাদিউজ্জামান আকুন্জী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কুরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

শরণখোলা থেকে খুলনা-যশোর-বেনাপোলগামী পরিবহন আটকে দিল মালিক সমিতি
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে খুলনা-যশোর-বেনাপোলগামী দুরপাল্লার পরিবহন আটকে দিয়েছে শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ বাস মালিক সমিতির শ্রমিকরা। ৪ জুলাই বিকাল ৩টার পর রায়েন্দা রাজৈর বাসষ্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া নিউ হানিফ পরিবহন, ইমা পরিবহন ও পদ্মা এন্টারপ্রাইজের গাড়ী যাত্রীসহ কেয়ারবাজার এলাকায় আটকে রাখা হয়। এতে রোগীসহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে।
নিউ হানিফ পরিবহনের রায়েন্দা কাউন্টারের পরিচালক মনিরুজ্জামান জোমাদ্দার জানান, শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ বাস মালিক সমিতির নামে শরনখোলা এক্সপ্রেস নামের একটি ব্যানার ব্যবহার করে রায়েন্দা-খুলনা রুটে গাড়ি চলাচল শুরু করে। রুট পারমিট না থাকায় মোড়েলগঞ্জের ছোলমবাড়িয়া বাসষ্ট্যান্ডে ওই গাড়িটি আটকে দেয় মোড়েলগঞ্জ-বাগেরহাটগামী পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ক্ষুব্দ হয়ে শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ নিজে দাড়িয়ে থেকে শ্রমিকদের সহযোগীতায় রাস্তার উপরে বাস আড়াআড়ি ভাবে দাড় করিয়ে নিউ হানিফ পরিবহন, ইমা পরিবহন ও পদ্মা এন্টারপ্রাইজের গাড়ী যাত্রীসহ কেয়ারবাজার এলাকায় আটকে রেখে যাত্রীদের জোর পূর্বক নামিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা বাগেরহাট খুলনা মালিক সমিতির সাথে সমন্বয় করে গাড়ি ছেড়েছি কিন্তু মোড়েলগঞ্জ-বাগেরহাটগামী পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের গাড়ি আটকে দিয়েছে ও মারধর করেছে তাই আমাদের শ্রমিকরাও তাদের গাড়ি আটকে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের গাড়ী চলতে না দিলে তাদের গাড়ির চলতে দেয়া হবেনা।
শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ মালিক সমিতির সভাপতি শামিম আহসান পলাশ বলেন, খুলনা ও বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাথে কথা বলে শরণখোলা এক্সপ্রেস নামে একটি গাড়ি রায়েন্দা থেকে যাত্রী নিয়ে মোড়েলগঞ্জের ছোলমবাড়িয়া পৌছালে মোড়েলগঞ্জ-বাগেরহাটগামী পরিবহন শ্রমিকরা গাড়িটি আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং ওই গাড়ির ষ্টাফদের মারধর করে।
বাগেরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকী জানান, রায়েন্দা, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর ও বেনাপোল রুটে ছয়টি মালিক সমিতির গাড়ী চলে। তারা সমিতির সাথে কোন কথা না বলে গত ৩ জুন পিয়নের মাধ্যমে বাগেরহাট মালিক সমিতির অফিসে মধু ও মিষ্টি পাঠিয়েছে। যেখানে আমরা উপস্থিত ছিলাম না। আলোচনা ছাড়া নতুন কোন পরিবহনের অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই ।

শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি’র দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পরিদর্শন
ফুলতলা প্রতিনিধি
শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি সোমবার দুপুরে ফুলতলার দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শ^শুরবাড়ি ভবন ও রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কমপ্লেক্স ভবনে রবীন্দ্র সংগ্রহশালায় বিভিন্ন সময়ের চিত্র, তৈজষপত্র, পান্ডলিপিসহ গ্যালারি ঘুরে দেখেন। পরে তিনি পাশর্^বর্তী পায়গ্রাম কসবাস্থ রহমানিয়া এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (সার্বিক) মোঃ সাদিকুর রহমান খাঁন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শেখ আকরাম হোসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিপা রানী সরকার, রহমানিয়া এলিমেন্টারি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ গোরা, ওসি (তদন্ত) মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে কর্মশালা
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদকদ্রব্য’র অপব্যবহার রোধে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার সকালে উপজেলা কমপ্লেক্সের হল রুমে আয়োজিত কর্মশালয় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান। খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মিজানুর রহমান’র সঞ্চালনায় বক্তব্যদেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুনুর রশীদ, স্বা¯হ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ শেখ সুফিয়ান রুস্তম, ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার, শেখ হেলাল উদ্দিন, থানা অফিসার ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মানিক, হরিনটানা থানা পুলিশের প্রতিনিধি এস,আই দ্বৈপায়ন বিশ্বাস সহ মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সুশীল সমাজ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন, সম্পাদক রঞ্জু, কোষাধ্যক্ষ মনি
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (কেসিআরএ)’র নতুন দ্বি-বার্ষিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে দৈনিক খুলনা টাইমস এর সুমন আহমেদকে সভাপতি, দৈনিক পূর্বাঞ্চল এর আহমদ মুসা রঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রবাহ এর কামরুল হোসেন মনিকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৪ জুলাই’২২) সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (কেসিআরএ)’র জরুরি সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন সহ-সভাপতি ডিএম রেজা সোহাগ (দৈনিক প্রবর্তন) ও শিশির রঞ্জন মল্লিক (মাই টিভি), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর (দৈনিক সময়ের খবর) ও মামুন খান (দৈনিক জন্মভূমি), দপ্তর সম্পাদক জয়নাল ফরাজী (দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন), কার্যনির্বাহী সদস্য এইচএম আলাউদ্দিন (দৈনিক পূর্বাঞ্চল), সোহাগ দেওয়ান (দৈনিক সময়ের খবর) ও আব্দুল জলিল (দৈনিক খুলনাঞ্চল)।
সাধারণ সভায় ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল সংগঠনের সভায় গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ উক্ত কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া সংগঠনের অচলায়তন দূরীকরণে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দাকোপের একটি রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপের বাজুয়া চুনকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় অভিমুখে রাস্তা নির্মান কাজের শুভ সূচনা ও বাজুয়া কাকড়া বুনিয়া থেকে বেড়েরখাল অভিমুখে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু। এলাকাবাসি জানায় বাজুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মানস কুমার রায় তার দায়িত্ব ভার গ্রহনের পর থেকে এলাকার রাস্তা-ঘাট নতুন ভাবে তৈরি ও সংস্কারের কাজ চলছে ব্যাপক ভাবে। রাস্তার কাজ উদ্বোধনের সময় ইউপি চেয়ারম্যান নিজে ও ইউপি সদস্যদের সাথে নিয়ে লেবারদের সাথে সাফল হাতে কাজ করতে দেখা যায়। সত্যি এটা প্রশাংসার যোগ্য তিনি যে ইউনিয়নকে নিজের মনের মতো সাজাতে চান তার একটা নির্র্দশন। ইউপি চেয়ারম্যান মানস কুমার রায় রাস্তার কাজ উদ্বোধনের সময় বলেন আমার ইউনিয়নকে আমি দাকোপের ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসেবে রুপান্তরিত করতে চাই যদি ইউনিয়ন বাসী আপনারা আমার সাথে থেকে আমাকে সহযোগিতা করেন। তাহলে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করার যে স্বপ্ন তা বাস্তবে রুপ দিতে পারবো। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য বিশ্বজিত মন্ডল, জয়দেব রায় সহ এলাকার সুধীজন।

দাকোপ থানা ওসির সাথে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সৌজন্য স্বাক্ষাত
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ উজ্জল দত্তর সাথে ৪ জুলাই ২০২২ সোমবার দুপুর ২ টায় দাকোপ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাকোপ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শিপন ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাফ্ফার হোসেন, সাবেক সভাপতি শচীন্দ্র নাথ মন্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন ছাব্বির, সাবেক সহ সভাপতি স্বপন কুমার রায়, সহ সভাপতি কুমারেশ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ খান মনিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক জি এম আজম, নির্বাহী সদস্য মজনু ফকির, পারুল বেগম, সিনিয়র সাংবাদিক বিধান চন্দ্র ঘোষ, দীপক সরদার, এস এম মামুনুর রশিদ, জি এম জাকির হোসেন, জাহিদুর রহমান সোহাগ, গাজী সরোয়ার হোসেন, প্রবীর রায় বাপ্পি প্রমুখ।

শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে ৭৪৯৫ কেজি লবণ সহনশীল ধানবীজ বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
সোমবার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর সহযোগিতায় লিডার্স প্রধান কার্যালয়ে আমন মৌসুমে মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা, ঈশ^রীপুর ও কাশিমাড়ী ইউনিয়নে ৭৮৬জন কৃষকের মাঝে ৭৪৯৫ কেজি লবণ ও খরা সহনশীল ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে।
লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল এর সভাপতিত্বে উক্ত ধান বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বীজ বিতরণ এর শুভ উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আক্তার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম এনামূল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসীম কুমার মৃধা, আরও উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন, লিডার্স এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ ইকবাল ফারুক প্রমূখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিডার্স এর মনিটরিং অফিসার রনজীৎ কুমার মন্ডল।
প্রধান অতিথি বলেন, আমরা যদি নিজেরা বাড়িতে বীজ সংরক্ষণ করি তাহলে বীজের সংকট কমবে। ভালো মানের বীজ পাওয়া অনেক দূর্লভ। আমরা সকলেই লবণ ও খরা সহনশীল ধান চাষ করলে কৃষি ক্ষেত্রে আরো সমৃদ্ধ হবে। লিডার্স এমন কৃষকদের খুঁজে বের করবে। লিডার্স এর এ ধরণের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হোক। সরকারের কৃষি বিভাগের পাশাপাশি লিডার্স এর মত বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিতে সম্পৃক্তকরণ আরও বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসাবে উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ততা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারনে সেচের পানির স্বল্পতা রয়েছে। এমন বহুবিধ সংকটের মধ্যে কৃষিকে টেকসই করার লক্ষ্যে লিডার্স লবণ ও খরা সহনশীল ধানবীজে ভর্তুকি প্রদান করে কৃষকদের লবণ ও খরা সহনশীল ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। এসব ধান বীজের মধ্যে রয়েছে বিআর-২৩, ব্রিধান-৫২, ব্রিধান-৬৭, ব্রিধান-৭৩, ব্রিধান-৭৮ ও ব্রিধান-৮৭। উল্লেখ্য যে, লিডার্স আমন মৌসুমে শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলায় মোট ১০৫৫ জন কৃষককে ৯৭৫০ কেজি লবণ ও খরা সহনশীল ধান বীজ বিতরণ করবে।

দৌলতপুরে তাহমিদ হত্যায় খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
খবর বিজ্ঞপ্তি
নগরীর দৌলতপুররস্থ খুলনা-যশোর মহাসড়ক সংলগ্ন নতুনরাস্তা কবরস্থান জামে মসজিদ সমুখে সোমবার বেলা সারে ১১ টায় পাবলা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও রায়ের মহল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সৈয়দ তাহমিদুন্নবী তাহসিনকে নির্শংস ভাবে হত্যা এবং এই নারকীয় হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে পাবলা এলাকাবাসীর উদ্যোগে কেসিসি’র সংরক্ষিত কাউন্সিলর মোসাঃ সাহিদা বেগম এর সভাপতিত্বে ও মোঃ সিরাজুল ইসলাম অপুর পরিচালনায় এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদী মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন, সার্চ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এম, এ, মান্নান বাবলু, রায়ের মহল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, নিহত তাহমিদের বড় দুলাভাই মোঃ রবিউল গাজী উজ্জল, একমাত্র বোন সৈয়দা আমেনা তন্নি, দৌলতপুর বেবীটেক্সী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শান্ত ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা আবুতালেব বন্দ, সুধি সমাজের জাবেদ ইকবাল রনি, রূপম, সিরাজুল ইসলাম অপু, অমিত কুমার সাহা সহ এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ। বক্তারা বলেন, পাবলা সাহাপাড়ার কলেজ ছাত্র সৈয়দ তাহমিদুন্নবী তাহসিনকে যে নির্মম ও নিষ্ঠুর ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার মুল আসামি বাটালি পলাশকে এখনো গ্রেফতার করতে ব্যর্থ প্রশাসন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সহ এর খুনের প্রধান আসামী পলাশ এবং নেপথ্যে থাকা রাঘব-বোয়ালদের গ্রেফতার পূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়, তা না হলে এলাকাবাসী নির্মম এ হত্যা কান্ডের সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে আরো বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচি পালনের হুশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য গত ৩০ জুন দুপুরে দুর্ধষ খুনিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্বক জখমের শিকার হয় রায়ের মহল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সৈয়দ তাহমিদুন্নবী তাহসিন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ঘটনার রাতেই তার মৃত্যু হয়।

মোংলা বন্দরে জাহাজে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে ঈদুল আজহা উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোংলা বন্দরে জাহাজে কর্মরত অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন ও মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর এসোসিয়েশনের আয়োজনে ও মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘের সহযোগিতায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা সংঘের ২ হাজার ৯৩০ জন শ্রমিক-কর্মচারী পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মুসা। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভবন চত্বরে শ্রমিক-কর্মচারীদের হাতে এ খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মুসা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এস,এম মোসতাক মিঠু, শেখ আব্দুস সালাম, সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন, সহ-সভাপতি এম,এ বাতেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন, সদস্য ও বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল, মশউর রহমান ও মাহবুবুর রহমান টুটুল ও মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সেন্টুসহ অন্যান্যরা। সংঘের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সেন্টু বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দরে জাহাজে কর্মরত ২৯৩০ জন শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি পোলাও চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি আলু, ১ লিটার তেল ও ১ কেজি লবণ।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মুসা বলেন, মোংলা বন্দরে এখন স্বর্ণ যুগ চলছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়াতে চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলা বন্দরের ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে গেছে। এখন ঢাকার সবচেয়ে কাছাকাছি হচ্ছে মোংলা বন্দর। এখন মাত্র তিন সাড়ে তিন ঘটনায় মোংলা বন্দর থেকে পণ্য ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। গাড়ী আমদানীতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আয়সহ জাহাজের আগমন ও পণ্য হ্যান্ডেলিংও বেড়ে গেছে। এছাড়া রেল লাইনের কাজও প্রায় শেষের পথে। রেল চালু হলে বন্দরের কর্মযজ্ঞ আরো বেড়ে যাবে। সরকারের সদিচ্ছায় বন্দরকে ঘিরে নানা প্রকল্পের কাজ চলছে। সকলে মিলে এ বন্দরকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ শ্রমিক কর্মচারীই এই বন্দরের বড় শক্তি। বিগত ও বর্তমান সময়ের মত আগামীতে শ্রমিক কর্মচারীদেরকে সকল সাহায্য ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

খুবিতে পবিত্র ঈদ-উল আযহার নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদ-উল আযহার নামাজের জামাত আগামী ১০ জুলাই (রবিবার) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে ইমামতি করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল কুদ্দুস। উক্ত নামাজে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

খুবির একাডেমিক অগ্রগতি উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামোগত অগ্রগতিসহ অর্জন ও গৃহীত পরিকল্পনা উপস্থাপনা অনুষ্ঠান রবিবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ ভবনের উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শিল্প, পর্যটনসহ নানামুখী সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এদিকে আসতে চাচ্ছেন, কিন্তু কি ধরনের শিল্প এখানে উপযোগী, কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ লাভজনক হবে, সে ধরনের তথ্য-উপাত্ত তারা চাচ্ছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার মাধ্যমে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণায় ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ জোরদার করে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
বক্তব্যকালে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন ইকো সিস্টেম তৈরি করতে হবে। এছাড়াও ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ করার জন্য আরও নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম, সফট অবকাঠামো প্রকল্পসহ কয়েকটি বিষয়ে যথাসম্ভব শীঘ্র অনুমোদনের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গবেষণা পরিকল্পনাসহ গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়েল উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যাপারে যে গুরুত্ব দিয়েছেন, সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির গাইডলাইন অনুসরণ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় উৎসাহী করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। পাওয়ার পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও অগ্রগতি উপস্থাপন করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। এসময় ডিন ও বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন।

রাজাকারের শাস্তি দাবীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মাতার নিরব আর্তনাদ
স্টাফ রিপোর্টার
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খুলনা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ও তৎকালীন ছাত্রলীগ কর্মী আবুল হোসেনকে রাজাকার কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন এর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে পাকিস্তানি আর্মির হাতে তুলে দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ এনে ১৪/১, শহীদ আবুল সড়ক বাগানবাড়ী রোড শেখপাড়া নিবাসী শহীদ আবুল হোসেনের বৃদ্ধা মাতা ছকিনা বেগম গত ইং ০৩/০১/২০১৭ সালে খুলনার আদালতে খুলনা থানাধীন শেখপাড়া বাগানবাড়ী এলাকার ইয়াজউদ্দিনের পুত্র রাজাকার কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৪৩৬/৩০২ ও ৩৪ তৎসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ এ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্ট ১৯৭৩ এ্যাক্ট নং ঢওঢ ড়ভ ১৯৭৩ ধারা মতে মামলা করেন। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত গ্রহণপূর্বক পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিষ্ট্রার বরাবর প্রেরণের আদেশ দেন। ২০১৯ সালে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলাটি তদন্তও করেন। উক্ত মামলায় অভিযুক্তরা হলেন ১। গিয়াস উদ্দিন, ২। মমতাজ উদ্দিন, ৩। জানে আলম, ৪। নুর মোহাম্মদ, ৫। হাজী সোলায়মান, ৬। মোঃ আঃ রশিদ, মৃতঃ সিরাজ উদ্দিনের ২ ছেলে ৭। আমির উদ্দিন ও ৮। মোঃ ফারুক, ৯। জয়নাল আবেদীন, ১০। মোঃ ফজলুর রহমান, ১১। হারান সাহা, ১২। সুখরঞ্জন বাড়ৈ, ১৩। আব্দুল মান্নান খলিফা, ১৪। আঃ খালেক আজিজি, ১৫। তাহের খান, ১৬। নিজাম উদ্দিন বিহারী, ১৭। মোঃ আতাউর রহমান, ১৮। আব্দুল লতিফ। বাদী ছকিনা বেগম তার মামলায় উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আসামীগণ গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুন্ঠন বসতবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ সহ নানা অপরাধ করেছে। ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বাদিনীর ছেলে আবুল হোসেন ও তার মামা দাউদ ও বাড়ীর কাজের লোক আলী হোসেনকে রাজাকার কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন সহ অন্যান্য আসামীরা পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দেন। ১৩ সেপ্টেম্বর গল্লামারী ব্রীজের নিচে পাকিস্তানী আর্মির নির্দেশে আবুল হোসেনকে গিয়াস উদ্দিন নিজে গুলি করে ও বেওনেট দিয়ে খুচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মামা দাউদ ও কাজের লোক আলী হোসেনকে ১৫ সেপ্টেম্বর অর্ধমৃত অবস্থায় ছেড়ে দেয়। সামজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাদিনী দীর্ঘদিন মামলা করতে সাহস পাননি। উক্ত মামলায় কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন বর্তমানে যশোর জেলার অভয়নগর থানাস্থ নোয়াপাড়া বাজারের হক প্লাজার মালিক উক্ত গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন ও মেয়ে জামাই নাসিমুল হকের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে থেকে বাদিনী ও তাহার অন্যান্য সন্তানদের প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করছে এবং উক্ত রাজাকার কমান্ডার গিয়াস উদ্দিনের দোষর গুন্ডা বাহিনী শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। বাদিনী ছকিনা বেগমের জোর দাবী দেরীতে হলেও তিনি যেন তার সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন এবং সরকার যেন তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

শিক্ষামন্ত্রীকে শেখ হারুনের ফুলেল শুভেচ্ছা
খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা. দিপু মনি সরকারী কাজে খুলনা সফরে আসেন। গতকাল দুপুর ১২.৩০ টায় খুলনার সার্কিট হাউজে মাননীয় মন্ত্রীর সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ সহ নেতৃবৃন্দ। এসময় মন্ত্রী নেতৃবৃন্দের উদ্দ্যেশে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশ আজ পূর্বের থেকে অনেক বেশী উন্নত। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ জনগনের ভাগ্যের উন্নয়ন ও তাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন চলমান। আগামীতে শিক্ষা হবে দেশের আরো একটি মেগা প্রকল্প। তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার হাতে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ এবং তিনি ক্ষমতায় থাকতে এদেশে উন্নত রাষ্ট্রে রুপান্তিত হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদকদ্বয় যথাক্রমে মো: সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. নব কুমার চক্রবর্তী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শাহ আলম, সদস্যদ্বয় যথাক্রমে পাপিয়া সরোয়ার শিউলী, মোঃ জামিল খান, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবু নিতিশ মিস্ত্রী, যুবনেতা সরদার জাকির হোসেন, জলিল তালুকদার, মাহাফুজুর রহমান সোহাগ, রাশেদ সরোয়ার(সুমন), তাপস জোয়াদ্দার, দ্বীপ পান্ডে বিশ্ব, ছাত্রনেতা চিশতি নাজমুল বাসার, ইসমাইল মৃধা ইমন, রুবেল ইসলাম, সুরাজ বাবু, মোহাম্মাদ মিলু, আজবর রাজ, বিপ্র (এন.এম) প্রমুখ।

দাকোপ প্রেসক্লাবের সাধারন সভা
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপ প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত। সোমবার সকাল ১০ টায় প্রেসক্লাবের হল রুমে প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মহিদুল ইসলাম শিপন ভুইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাফ্ফার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি শচীন্দ্র নাথ মন্ডল, সাবেক আহবায়ক গোবিন্দ বিশ্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম রেজা, আজগর হোসেন ছাব্বির, সাবেক সহ সভাপতি স্বপন কুমার রায়, সহ সভাপতি কুমারেশ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ খান মনিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক জি এম আজম, নির্বাহী সদস্য মজনু ফকির, পারুল বেগম, সিনিয়র সাংবাদিক বিধান চন্দ্র ঘোষ, দীপক সরদার, এস এম মামুনুর রশিদ, জি এম জাকির হোসেন, দীপক রায়, জাহিদুর রহমান সোহাগ, গাজী সরোয়ার হোসেন, প্রবীর রায় বাপ্পি প্রমুখ।

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ফসলি জমি
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় নিষিদ্ধ বরিং ড্রেজার (স্থানীয় নাম আত্মঘাতী ড্রেজার) দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

সমতল ফসলি জমি, পুকুর, খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বাগেরহাটের পরিবেশ-প্রতিবেশ।

শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য নলবুনিয়া গ্রামে সোমবার দিনভর অন্যের ফসলি জমি থেকে জোর করে বরিং ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। সেই বালু দিয়ে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরের একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে।

ওই গ্রামের প্রভাবশালী রমজান হাওলাদার ও সোহাগ হাওলাদার অন্যের জমি থেকে জোরপূর্ব বালু তুলছেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির প্রকৃত মালিকরা।

আত্মঘাতী এই ড্রেজার দিয়ে সমতল মাটির তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি দেবে যাওয়াসহ আশপাশের পরিবেশেরও ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জমির মালিক ইব্রাহীম হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, লুৎফর হাওলাদার ও লোকমান হাওলাদার জানান, যে জমি থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেই জমিসহ আশপাশের সমস্ত জমি তাদের। সেই জমিতে ১০-১২ দিন আগে স্থানীয় প্রভাবশালী রমজান ও সোহাগ জোরপূর্বক আত্মঘাতী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা শুরু করেন। পরে শরণখোলা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আইন অমান্য করে আজ সকাল থেকে আবার বালু উত্তোল শুরু করেন।

জমির মালিকেরা জানান, তাদের জমি থেকে বালু তুলে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরের বিশাল পুকুর ভরাট করছেন তারা। বালু তোলার কারণে জমির তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বিশাল এলাকা নিয়ে জমি দেবে যেতে পারে। বালু তোলা বন্ধ করতে বললে তারা কোনো কথাই শুনছেন না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বালু উত্তোলকারী রমজান হাওলাদার জানান, যেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেই জমির মালিক তারা। তাদের জমি থেকেই তারা বালু তুলে পুকুর ভরাট করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, বরিং ড্রেজার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে কম্পন সৃষ্টি করে বালু তোলার ফলে মাটির তলদেশে ফাঁকা হয়ে যায়। এতে বড় ধরনের ভূমি ধসের আশঙ্কা দেখা দেবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী এই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এসব ড্রেজার দ্রুত বন্ধ করা উচিত।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, বরিং ড্রেজার দিয়ে ভুগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে অবৈধ ড্রেজার মালিক ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিতু হত্যা: দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই
মাগুরা প্রতিনিধি
সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাদের দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই।

রোববার মাগুরায় গিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ডেকে এনে শিশু দুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম পিবিআইর পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক।

বর্তমানে ১২ ও ৭ বছর বয়সী শিশু দুটিকে সেখানে নিয়ে যান বাবুলের বাবা পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক আব্দুল ওয়াদুদ। তাদের সঙ্গে পরিবারের আরও কয়েকজন নারী সদস্যও ছিলেন।

টানা তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোটের নির্দেশে জেলা সমাজসেবা অফিসারের কক্ষে শিশু দুটির দাদা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রবেশন অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বাবুল আক্তারের ভাই আইনজীবী হাবিবুর রহমান লাবু অভিযোগ করেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বাইরে গিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি অতিরিক্ত লোক প্রবেশ করিয়েছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরশাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হাইকোর্টের নিদের্শনা মেনেই জিজ্ঞাসাবাদে সহায়তা করেছেন।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন শিশু দুটির দাদা ওয়াদুদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ছোট বাচ্চাদের টানা তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা অমানবিক।

এর আগে গত মার্চে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাদের দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। শিশু আইনের ধারা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলা হয়।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহিকে স্কুল বাসে তুলে দিতে বের হলে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে মিতুকে। এ ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসাবে মাহি এবং মেয়ে তাবাসসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অনাগত সন্তানের মুখ দেখা হলো না প্রকৌশলী জুয়েলের
যশোর অফিস
স্ত্রীর সিজার হওয়ার কথা সকাল ৯টার দিকে। অথচ আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট রয়েছে পাঁচ কিলোমিটার দূরের গ্রামের বাড়িতে। সেই রিপোর্ট আনতে যাচ্ছিলেন জাহিদ হাসান জুয়েল (৩২) নামের টেক্সটাইল প্রকৌশলী।

কিন্তু শহর থেকে বাড়ি পর্যন্ত আর পৌঁছাতে পারেননি তিনি। চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া নামক স্থানে একটি পরিবহণ সাইড দিতে গিয়ে সড়কের পাশে পুঁতে রাখা কংক্রিটের খুঁটিতে আঘাত লেগে মারাত্মক আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। রোববার (৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। জাহিদ হাসান জুয়েল যশোরের চৌগাছার সিংহঝুলী ইউনিয়নের মাজালি গ্রামের আব্দুল মালেকের একমাত্র পুত্র।

স্বজনরা জানান, ঢাকার তেজগাঁও টেক্সটাইল কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে তিনি ফ্রিল্যান্সিং পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

জানা গেছে, জাহিদুলের একটি তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চৌগাছা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন। রোববার সকাল ৯টার দিকে তার সিজার করা হবে। তবে রোগীর সঙ্গে আলট্রাসোনো রিপোর্ট না থাকায় স্বামী জাহিদ হাসান সকালে চৌগাছা শহরের ওই ক্লিনিক থেকে নিজের বাড়ি যাচ্ছিলেন রিপোর্ট আনতে। বাড়িতে যাওয়ার মাঝামাঝি অবস্থান চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসকে সাইড দিতে যেয়ে সড়কের পাশে (বাঁকে) পুঁতে রাখা নিরাপত্তা খুঁটিতে মেরে দেন।

এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের করেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে জাহিদুল মারা যাওয়ায় তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করেনি স্বজনরা। চিকিৎসকের পরামর্শে সোমবার (৪ জুলাই) করা হবে বলে পরিবারের সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহ বলেন, আঘাতের ফলে তার বাম হাত ও পা ভেঙে যায়। এছাড়া বুকে গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ব্যাঙ হত্যায় ২ শিকারির অর্থদণ্ড
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালায় ব্যাঙ হত্যার দায়ে দুই যুবককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস এ আদালত পরিচালনা করেন।

উপজেলার আটারই গ্রামের ছিদাম দাশের ছেলে আশুতোষ দাশ এবং দুলাল দাশের ছেলে সরজিৎ দাশ পার্শ্ববর্তী ঢেঙ্গার বিলে ঘটনার দিন সকালে কোলাব্যাঙ শিকার করছিল। এ সময় স্থানীয় কৃষকরা তাদের বাধা দিলে উল্টো তাদের হুমকিসহ গালাগাল করে।

একপর্যায়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সভাপতি জুলফিকার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ বিশ্বাসসহ সংগঠনের সদস্যরা সেখানে যান। তাঁরা অর্ধশতাধিক জীবিত ও মৃত ব্যাঙসহ শিকারিদের আটক করেন।

পরে ইউএনও প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এর আগে পুলিশ গিয়ে অর্ধশতাধিক কোলাব্যাঙ জব্দ করে। রাশেদ বিশ্বাস বলেন, একশ্রেণির মানুষ ভক্ষণের জন্য নির্বিচারে ব্যাঙ হত্যা করছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

ফুফুবাড়ি যাওয়ার সময় ছাত্রী অপহরণ, একজনের যাবজ্জীবন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আছাফুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জি আযম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আছাফুর পলাতক ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার খড়িয়াটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিত আছাফুর। এতে সাড়া না দেওয়ায় ওই ছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেয় আছাফুর।

একপর্যায়ে ২০১১ সালের ৭ নভেম্বর ওই ছাত্রী তার ফুফুর বাড়ি যাওয়ার সময় জনৈক আসাদুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে তাকে অপহরণ করে আছাফুর। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জজ কোর্টের বিশেষ পিপি জহুরুল হায়দার বাবু।

ফের ঢাকা যাচ্ছে তৈয়ব আলীর ‘কালো মানিক’
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
গত বছর ঢাকায় নিয়ে গেলেও কাঙ্খিত দাম না মেলায় কুষ্টিয়ার বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয় ষাঁড় ‘কালো মানিক’কে। এক বছর পর ফের তৈয়ব আলী তার প্রিয় ‘কালো মানিক’কে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। কালো মানিকের ওজন প্রায় ৩০ মণের ওপরে। গায়ের রং কালো কুচকুচে। লম্বায় আনুমানিক ১০ফুট।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা বামনগাড়ী এলাকার দরিদ্র কৃষক তৈয়ব আলী বেশ কয়েক বছর ধরে এই ষাঁড়টি লালন পালন করছেন । আদর করে ষাঁড়টির নাম দিয়েছেন কালো মানিক। বিশালাকৃতির ষাঁড়টি এরই মধ্যে এলাকায় বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। অনেকেই তার বাড়িতে ষাঁড়টি দেখতে আসছেন।

তৈয়ব আলী জানান, গত বছর ঢাকার গাবতালি বাজারে বিক্রির জন্য তিনি নিয়ে যান প্রিয় ‘কালো মানিক’কে। তখন ষাঁড়টির ওজন ছিল ৩১মণ। দাম চেয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা। কিন্তু কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় ষাঁড়টি বিক্রি না করে ফিরিয়ে নিয়ে যান বাড়িতে। এক বছর ধরে টাকা পয়সা ধার দেনা করে ষাঁড়টির যত্ন করছেন তৈয়ব আলী। তিনি আরও জানান, দু’একদিনের মধ্যে ঢাকায় নিয়ে যাবেন প্রিয় কালো মানিককে।

তৈয়ব আলী বলেন, গত বছর ১০ লাখ টাকায় বিক্রির ইচ্ছা ছিলো ষাঁড়টি। কিন্তু ৭ লাখ টাকার ওপরে দাম না ওঠায় হতাশ হয়ে ফিরে আসি। এক বছর ধার-দেনা করে ষাঁড়টি পালছি। আশা করছি কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে পারবো। তার আশা, এ বছর ১৫ লাখ টাকায় ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারবেন।

তবে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা হওয়ায় কারণে গরুর বাজার পড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তৈয়ব আলী। কাঙ্খিত দাম না পেলে লোকসান হলেও কালো মানিককে এবার আর ফিরিয়ে আনবেন না বলেও জানান তিনি।

নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত: পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে প্রত্যাহার
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হেনস্তার ঘটনায় স্থানীয় মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোরসালিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি অধ্যক্ষ হেনস্তা মামলার বাদী।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়। তিনি বলেন, যেহেতু মোরসালিন মামলার বাদী, সেহেতু তাকে যেকোনো সময়ে লাগতে পারে। এজন্য তাকে নড়াইল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, অধ্যক্ষ হেনস্তার মামলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক নূর নবী (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সদরের কলোড়া ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের মৃত ফয়েজ চৌকিদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মনিহার সিনেমা হলের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহামুদুর রহমান জানান, এ মামলায় এ পর্যন্ত নূর নবীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ৪ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত এ রিমান্ড কার্যকর হবে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখেন, প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম। এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসে রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও সে পোস্ট মোছেনি।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন।

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনার দিন (১৮ জুন) বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।

কালের সাক্ষী: তাসুকুজ্জামানের সংগ্রহশালা
মাগুরা প্রতিনিধি

যে কোনো পুরোনো তথ্য বা প্রকাশনার প্রয়োজন হলেই মাগুরার লোকে খোঁজ করে কাজী তাসুকুজ্জামানের। আর তাঁর সন্ধান করবেই-বা-না কেন? ১৯২০ সালে প্রকাশিত মাগুরার প্রথম নিবন্ধিত সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘আনন্দ’ রয়েছে তাসুকুজ্জামানের সংগ্রহশালায়। এ ছাড়া স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে প্রকাশিত নানা সংবাদপত্র, বই, সাময়িকী, ডাকটিকিট ও মুদ্রার বিপুল সংগ্রহ রয়েছে তাঁর। শহরের হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা কাজী তাসুকুজ্জামানের বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ যেন কালের সাক্ষী।
স্কুলে পড়ার সময়ই ১৯৭০ সালে সংবাদপত্র, পুরোনো বই, ডাকটিকিট ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জমাতে শুরু করেন তাসুকুজ্জামান। ছবি তোলায়ও রয়েছে আগ্রহ। ১০ হাজার ছবি আছে সংগ্রহে।
তার রয়েছে দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেহাদ, দৈনিক পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের সাক্ষী নানা পত্রপত্রিকা। এর মোট সংখ্যা কত, তা জানেন না তাসুক নিজেই। তবে বললেন, ওজন হিসেবে পত্রিকাগুলো দুই শতাধিক মণের বেশি হবে। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে পাঁচ সহস্রাধিক বই। সমপরিমাণ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ডাকটিকিটও রয়েছে।

তাসুকুজ্জামান বলেন, ১৯২০ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আনন্দ’-এর একটি সংখ্যা সংগ্রহ করতে তাঁকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। এটি প্রকাশিত হতো ভগনানন্দ চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির প্রেস থেকে। ওই প্রেসের এক কর্মচারীর কাছ থেকে সংখ্যাটি সংগ্রহ করতে হয়েছে দিনাজপুর থেকে। তারকব্রহ্ম শিকদার সম্পাদিত পত্রিকার সংখ্যাটি ১৯৮৬ সালে হাতে আসে তাঁর।

এ ছাড়া মাগুরা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দীপক রায় চৌধুরী সম্পাদিত ‘বাংলার ডাক’-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন সংখ্যা সংগ্রহ করতেও খরচ হয়েছে সমপরিমাণ টাকা। মাগুরার ভূষণা রাজ্যের রাজা সীতারাম রায়কে নিয়ে লেখা বইয়ের একটি সংখ্যা সংগ্রহ করতে ১৯৮৭ সালে ভারতের কলকাতা সাহিত্য পরিষদে যান তাসুকুজ্জামান। সৈয়দ আলী আহসান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশ’ নামের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্মারকগ্রন্থ সংগ্রহ করতে তাঁকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থটির সংখ্যা মোটা টাকা ব্যয় করে ময়মনসিংহ থেকে সংগ্রহ করেন।

এসব সংগ্রহের কাজে শুরু থেকেই পারিবারিক সহায়তা পেয়েছেন তাসুকুজ্জামান। জানান, দাদা কাজী আব্দুল হকের পাশাপাশি বড় চাচা কাজী জনাব আলী ও কাজী আকবর হোসেন, মা আকলিমা খাতুন, অপর চাচা কাজী মোশারফ হোসেনসহ পরিবারের অন্যদের সহযোগিতা পেয়েছেন। বর্তমানে তাঁর সহযোগী স্ত্রী কাজী হিনুকা পারভীন, ছেলে কাজী সাব্বির ও মেয়ে সামিয়া সিদ্দিকা। এই ‘পাগলামি’র জন্য বিক্রি করতে হয়েছে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অন্তত আট বিঘা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

কাজী আব্দুল হক মেমোরিয়াল কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পদে থাকা কাজী তাসুকুজ্জামান বর্তমানে ইতিহাস নিয়ে একাধিক গবেষণামূলক বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। যার কাজ প্রায় শেষের দিকে বলেও জানান তিনি।

খালে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার
মাগুরা প্রতিনিধি
মহম্মদপুর উপজেলা থেকে মাগুরা জেলা সদরে প্রবেশের একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা বরুণাতৈল গ্রামের ভেতর দিয়ে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বরুণাতৈল গ্রামে কুমার ও নবগঙ্গা নদীর সংযোগ খালের ওপর নির্মিত সেতুর রেলিং ভেঙে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সেতুটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন আলোকদিয়া, বালিয়াডাঙা, পাতুরিয়া, বাকবাড়িয়া, বড়ৈই, গৃহকগ্রাম ও বারাশিয়া গ্রামসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছোট-বড় সবধরনের যানবাহনের চালকদের। বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন সড়কটি ব্যবহারকারীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুটি সংকীর্ণ হওয়ায় একটি গাড়ি উঠলে অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অন্য গাড়িকে। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় হেঁটে চলা মানুষদের। দুই বছর ধরে সেতুটির এই হাল। এখনো মেরামত করেনি কর্তৃপক্ষ। রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে সেতু নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বরুণাতৈল গ্রামের ছবেদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেতুটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। এক পাশ দিয়ে একটা গাড়ি উঠলে আরেক পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেতুর মাঝখানে ভেঙে গেছে। যখন তখন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত এটি ঠিক করা দরকার।’
পথচারী খালেক শেখ বলেন, ‘সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও এ সেতুর ওপর দিয়ে সাধারণ গাড়ির পাশাপাশি ১০ চাকার বালুবোঝাই গাড়িও চলছে। যে কোনো সময় সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বরুণাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিফা বলে, ‘আমরা প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যাই। ব্রিজ পার হতে খুব ভয় করে।’
অটোচালক হাবিব জানান, কয়েকদিন আগে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান রেলিংয়ের ভাঙা জায়গা দিয়ে উল্টে নিচে পড়ে যায়। তবে খারাপ কিছু ঘটেনি। তিনি বলেন, সেতুটি খুবই ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা ঠিক করা দরকার।

এ বিষয়ে মাগুরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশিকুল ইসলাম বলেন, মাগুরা-মহম্মদপুর উপজেলা সড়কের বরুণাতৈলে অবস্থিত সেতুর কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে। চলতি অর্থবছরে মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।

মোরেলগঞ্জে মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে জখম
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪০) নামের এক মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।

সোমবার (৪ জুলাই) বেলা ২টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীদের আঘাতে নিহত জাহাঙ্গীরের কলেজ পড়ুয়া ছেলে আজিজুর রহমান সাকিবও (১৮) গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আজিজুর রহমান সাকিবকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিহত জাহাঙ্গীর হাওলাদার বারইখালী-নিকারিপাড়া এলাকার মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে। জাহাঙ্গীরের ছেলে আহত আজিজুর রহমান সাকিব সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, সম্প্রতি মোটরসাইকেল চালক ফরিদের সাথে মোটরসাইকেল চালানোর সিরিয়াল নিয়ে আমার স্বামী জাহাঙ্গীরের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই জেরেই দুপুরে ফরিদ আমার স্বামী ও ছেলেকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ফরিদের কোপে আমার স্বামী মারা গেছে। স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই নারী।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাজাহান আহমেদ বলেন, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে জাহাঙ্গীর মারা যায়। আমরা হামলাকারী ফরিদকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া এই ঘটনায় অন্যকেউ জড়িত আছে কি না সেই বিষয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

গ্যাসের উদগিরণস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসন: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় চিংড়ি ঘের থেকে উঠা গ্যাসের উদগিরণস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেলে মিঠাখালী গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার শেখের চিংড়ি ঘেরের গ্যাসের উদগিরণ সরেজমিন পরিদর্শন করেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার মোঃ রেজাউল করিম ও জেলা এলজিআরডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুজ্জামান।
গ্যাসের উদগিরণস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার মোঃ রেজাউল করিম বলেন, সেখানে আপতত খুব বেশি একটা ভয়ের কিছু নেই, তবে যদি উদগিরণ বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে। তাই উদগিরণস্থল থেকে লাইন টেনে যে রান্নাবান্না করা হচ্ছে সেটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কারণ এ থেকে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, পর্যবেক্ষণে সেখানে গ্যাসের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয়েছে, কারণ বের হওয়া দাহ্য পদার্থে আগুন জ্বলছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এ গ্যাসের ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার সকালেই ওই মন্ত্রনালয়ে লিখিত প্রতিবেদনও পাঠানো হবে। বাগেরহাট এলজিআরডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাসের অস্তিত্ব আছে। এখন বিশেষজ্ঞরা মাইনিং করে দেখবেন কত নিচে এবং কি পরিমাণ অর্থাৎ কত কিউসেক-মিউসেক গ্যাস রয়েছে। এবং তা লাভজনক হবে কিনা, লাভজনক হলে উত্তোলনের উদ্যোগ নিবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এছাড়া এ গ্যাসের উদগিরণ ফোর্স বাড়লে তাতে ঝুঁকিও থাকছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৬ বছর ধরেই মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ার দেলোয়ার শেখের পৌনে তিন বিঘার চিংড়ি ঘের থেকে এই গ্যাসের উদগিরণ হয়ে আসছে। ৬ বছর আগে ঘের মালিক ওই জমি থেকে বালু-মাটি উত্তোলনের জন্য ৬০ ফুট গভীরতার পাইপ বসালেই সেখান থেকে গ্যাস উঠতে থাকে। তখন তা কম হলেও গত সপ্তাহ থেকে তার উদগিরণ বেড়ে গেছে। আগে দুই এক জায়গা থেকে বের হলেও এখন তা সাত আট জায়গা থেকে বের হচ্ছে। বেশি পরিমাণ বের হওয়ায় গত সোমবারে সেখান থেকে লাইন টেনে তা দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে চুলায় রান্না করছেন দেলোয়ার পরিবার।

গাওঘরা বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
বটিয়াঘাটার গাওঘরা বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ দিন ব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা গতকাল সোমবার থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিযোগীতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এসএম ফরিদ রানা।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪ নং সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কে জাকির হোসেন লিটু। প্রধান অতিথি ছিলেন বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের হুইপ তণয় পল্লব বিশ^াস রিটু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অনুপম বিশ^াস, যুগ্ম আহবায়ক শেখ মোঃ ওয়াহিদুর রহমান, বারোআড়িয়া শহীদ স্মরণী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভপতি আমিরুল মোমেনীন রানা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সাহেব আলী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী শিক্ষক মুনিয়া ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য যথাক্রমে প্রসাদ চন্দ্র রায়, আবুল কালাম হাওলাদার, রুহুল আমিন মোল্লা, সুজয় রায়, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হাফিজা বেগম, রত্না অধিকারী, রুনা বেগম, শিক্ষক রুনু গোলদার, এসএম সোবহান, ডিএম মোজাফ্ফার, মৃত্যুঞ্জয় কবিরাজ, দেবদাস মন্ডল, ক্রিড়া শিক্ষক অহিদুল ইসলাম, আ’লীগনেতা আতিয়ার রহমান বিশ^াস, আরশাব আলী শেখ, এসএম ইউনুস আলী, গাজী আজাদুর রহমান মিন্টু, ইদ্রিস বিশ^াস, যুবলীগনেতা জিএম জিল্লুর রহমান, ছাত্রলীগনেতা জহিরুল ইসলাম বাবু, সুমন শেখ প্রমূখ। আজ মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পিরোজপুরে
পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে নদীবেষ্টিত নেসারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার বাসিন্দারা। জেলা সদরে যেতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পাড়ি দিতে হচ্ছে কালিগঙ্গা নদী। ২০১৮ সালে এলজিইডি নদীর কলাখালী-চাঁদকাঠী পয়েন্টে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও বাতিল হয় সেই চুক্তি। এতে অনিশ্চয়তায় সেতুর নির্মাণ কাজ।
কলাখালী-চাঁদকাঠী পয়েন্টে খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে দিনের পর দিন কালীগঙ্গা নদী পাড়ি দেন নেসারাবাদ ও কাউখালীর বাসিন্দারা। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখাপড়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজে এ পথে জেলা সদরে যেতে দুর্ভোগের শেষ নেই এই দুই উপজেলার বাসিন্দাদের।

বর্ষা মৌসুমে ঝড়-তুফানের মধ্যেই পাড়ি দিতে হয় বাসিন্দাদের। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নেছারাবাদের ৬টি ইউনিয়ন থেকে নৌপথ ছাড়া সরাসরি পণ্য পরিবহনে নেই অন্য কোনো উপায়।
নাসির উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই ব্রিজটার কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। জেলা সদরে প্রয়োজনীয় কাজে যাওয়া-আসাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

২০১৮ সালে কালিগঙ্গা নদীর কলাখালী-চাঁদকাঠী পয়েন্টে ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণে নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে দায়িত্ব দেয় এলজিইডি। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রায় এক বছর পরমও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫ ভাগ হওয়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রটি মন্ত্রণালয়ে মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী।
দুই উপজেলার মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সময়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি এলাকাবাসীর।
প্রতিদিন এই দুই উপজেলা ও সদর উপজেলার ৭ হাজারের বেশি মানুষ ও প্রায় ১ হাজার মোটর সাইকেল নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে।