Home জাতীয় রমজান শুরুর আগেই নিত্যপণ্যের চড়া দাম

রমজান শুরুর আগেই নিত্যপণ্যের চড়া দাম

9

বিশেষ প্রতিনিধি

রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে শুক্রবার সন্ধায়। পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে। করোনা মহামরির প্রতিরোধে চলমান অচলাবস্থায় রোজার মাস শুরুর আগেই গত একসপ্তাহে দফায় দফায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে চাল থেকে শুরু রোজার প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজ, আদা, চিনি, ছোলা, খেসারি ডাল, ভোজ্য তেল ও খেজুরের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা অবশ্য রমজান মাসে বাড়তি লাভে পণ্য বিক্রির অভিযোগট অস্বীকার করে করোনায় সরবরাহ কমে যাওয়াকে নিত্যপণ্যে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট, শান্তিনগর, যাত্রাবাড়ি, খিঁলগাও ও বাড্ডার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখে রোজার মাসে প্রয়োজনীয় অন্তত ১৫ ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েক দফায় অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা, চিনি, ছোলা, খেসারি ডাল ও সয়াবিন তেলের। নিত্যপণ্যে দাম বেড়ে যাওয়া বিপদে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। করোনা ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষিত হওয়ার পর ক্রেতা কমে যাওয়ায় শাকসবজির দাম খানিকটা কমলেও শুক্রবার থেকে আবারও দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে ডিম, ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দামও। ডিমের ডজন ৭৫ থেকে ৯০ টাকায় ওঠেঝে। ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় কিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চিকন মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৫ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫-৬২ টাকা। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬০ টাকা কেজি দরে, যা আগে ছিল ৫০-৫৫ টাকা। স্বর্ণা, বিআর-২৮, চায়না ইরি ইত্যাদি মোটা চালের দাম ৪০-৫০ টাকা।

গত একসপ্তাহ ধরে (খোলা) সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত। আর এক লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। পাম অয়েলের দাম বেড়েছে লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত। ৫০ টাকা কেজির চিনি এখনই ক্রেতাদের ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পেঁয়াজ-আদা ও রসুনের দামও অস্বাভাবিক বেড়েছে। ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার নিচে । অনেককে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। আদার দাম ১২০ টাকা থেকে একলাফে ৩৫০ টাকা কেজি হয়েছে। ৮০ টাকার দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ছোলার দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মোটা মসুর ডালের দাম আরেক দফা বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। আর ছোট দানার মসুর ডাল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১২ থেকে ১২০ টাকা। তুলনামূল বেশি বেড়েছে খেসারি ডালের দাম ।৬০ টাকা কেজির খেসারি এখন ৮০ নিচে পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হয়েছে ৩০০০-৪০০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩০০ টাকয়। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ভাবিক থাকার পরও প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান ঘিরে ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে রমজানকে সামনে রেখে এক মাস ধরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে একাধিক পণ্যের দাম। তাদের মতে, সাধারণত রমজান এলেই মানুষের মধ্যে একটু বেশি পরিমাণে নিত্যপণ্য কেনার প্রবণতা দেখা যায়।

করোনা ঠেকাতে ঘরে থাকার নির্দেশনায়অন্য বছরের তুলনায় এবারের রমজানে কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম হলেও গত কয়েকদিনের তুলায় বেশ ভিড় দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতি ও রমজানে নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তা সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্টদের বারবার নজর রাখতে বলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক সংস্থা বাজার তদারকিতেও নেমেছে। এরপরও এসব কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসাধুরা ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়েই চলছে।

এদিকে পুরো রমজান মাসে সামনে রেখে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল, সরবরাহ নিশ্চিত ও ক্রেতা-বিক্রেতার সচেতনতা বাড়াতে অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুম আরেফিন জানান, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যৌক্তিক, স্বাভাবিক, স্থিতিশীল এবং সরবারহ নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান চালানো হেেব। এরই মধ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে।