খুলনাঞ্চল রিপোর্ট||
পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। আগামী ২৫ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন ধরা দেবে যাপিত জীবনে। দক্ষিণ জনপদের জেলা ঝালকাঠিতে তাই সর্বমহলেই বইছে আনন্দের বন্যা। ব্যবসা-বণিজ্যসহ সর্ব ক্ষেত্রে উন্মোচন হবে এক নতুন দিগন্ত।
বাসন্ডা আর সুগন্ধা নদী পাড়ের প্রাচীন সভ্যতার জনপদ ঝালকাঠি। ব্রিটিশ আমলে কলকাতার সঙ্গে একযোগে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ায় দ্বিতীয় কোলকাতা নামেও জেলা শহর পরিচিত। ব্যবসা বাণিজ্য আর কৃষি নির্ভর অর্থনীতির এ জেলা পেয়ারা আর আমড়ার জন্যও বর্তমানে দেশ-বিদেশে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। এখানকার লবণ, আটা-ময়দা, সরিষার তেল আর পেয়ারা-আমড়ার উৎপাদন এতদিন নদী পথেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে আসছিল।
ঢাকাসহ অন্য জেলা থেকে বেশিরভাগ পণ্যও আসত নদী পথেই। সময়ক্ষেপণ, ফেরিতে আটকা পড়া, পণ্য পচে যাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও ঢাকার সঙ্গে যোগযোগ ছিল দীর্ঘ সময়ের। কিন্তু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে সব প্রতিবন্ধকতার অবসান ঘটবে বলে জেলাবাসীর মুখে এখন হাসি।
ঝালকাঠি বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পণ্য মজুত করে বাড়তি মুনাফা আয় যেমনি বন্ধ হবে, তেমনি সহজসাধ্য হবে পণ্য পরিবহন।
লবণ শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এখানে শিল্প কলকারখানা বাড়বে। ফলে শ্রমিকদের আর বেকার বসে থাকতে হবে না।
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ ঝালকাঠি জেলায় এক হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি পণ্য সরবরাহসহ নানা কাজে জেলাবাসীর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ প্রাচীনকাল থেকেই।
বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আল-আমীন বলেন, ঝালকাঠি বিসিকে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৭৯টি প্লট রয়েছে। এরমধ্য থেকে ইতোমধ্যেই ৭৬টি বরাদ্দ হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে ঝালকাঠি ছাড়াও বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারা এখানে শিল্প স্থাপনে প্লট বরাদ্দ চাইছেন। আর সে কারণে শিল্প নগরীর আয়োতন বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঝালকাঠি সদরের ভীমরুলি গ্রামে পেয়ারার ভাসমান বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পর্যটন স্পট। প্রতিবছর বাংলা আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস এখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভ্রমণ পিয়াসুরা এখানে বেড়াতে আসেন।
ভীমরুলি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিবর হালদার বলেন, যে মুহূর্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে, তার ক’দিন পরই পেয়ারা মৌসুম শুরু হচ্ছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে এ বছর তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে তিনি আশা করেন।
কৃষি আর ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও প্রাচীন এ জনপদ শিল্প-সংস্কৃতির জন্যও সারাদেশে পরিচিত। আঞ্চলিক ভাষায় গান কিংবা কবিতার জন্য অনেকেই পরিচিতি দেশব্যাপী।
ঝালকাঠি সাংস্কৃতির সংগঠক ড. শামীম আহসান বলেন, পদ্মা সেতু কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই নয়, সারা দেশের মানুষের যাতায়াতে শিল্প-সংস্কৃতির এক মেলবন্ধন তৈরি হবে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ফলে জেলার এ জেলার শীতলপাটি ও পেয়ারা সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। কর্মসংস্থান হবে নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে।








































