Home আঞ্চলিক পাটকলসহ সর্বস্তরে শ্রমিকদের সরকারি সহায়তায় চার প্রস্তাব খুলনা বিএনপি’র

পাটকলসহ সর্বস্তরে শ্রমিকদের সরকারি সহায়তায় চার প্রস্তাব খুলনা বিএনপি’র

10

স্টাফ রিপোর্টার:

নভেল করোনা ভাইরাসে তিন সপ্তাহ লকডাউনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে খুলনা অঞ্চলের নয়টি পাটকলের ৩০ সহ¯্রাধিক পাটকল শ্রমিক। অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। গতকাল রবিবার (১৯এপ্রিল) এক বিবৃতিতে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

প্রদত্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, করোনা ভাইরাসে ২৪ মার্চ সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ঘোষণার পূর্বে পাটকল শ্রমিকরা ১১সপ্তাহের বকেয়া পাওনার সাথে সন্ধ্যাকালীন তিন সপ্তাহ মোট ১৪ সপ্তাহ মজুর না পাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিন কাটচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বক্তব্যে সকল সেক্টরে প্রণোদনার আশ্বাস দিলেও পাটকল শ্রমিকদের ব্যাপারে কোন ঘোষণা না আসায় হতাশ হয়েছেন পাটকল শ্রমিকরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী বন্টন প্রক্রিয়ায় খালিশপুরের পাটকল এলাকা, আটরা শিল্প অঞ্চল, দিঘলিয়া ও নওয়াপাড়া পাটকল এলাকায় কোন ছোঁয়া লাগেনি। এসব এলাকায় কোন বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় এমনকি ১০টাকায় চাল বিক্রির ওএমএস বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা আরও বড়ধরণের সংকটে পড়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপি মনে করে দেশের এই বৃহৎ পাটকল শ্রমিকদের চলমান সমস্যা সমাধানে নি¤œ পদক্ষেপ নিতে হবে-

ক.) জেলা প্রশাসনকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বরাবর জরুরি বার্তা পাঠিয়ে পাটকল শ্রমিকদের বিদ্যমান সমস্যা অবহিত করার পদক্ষেপ নেয়া।

খ.) অতিদ্রুত পাটকল শ্রমিকদের ১৪সপ্তাহ বকেয়া মজুরী পরিশোধের ব্যবস্থা করা।

গ.) পাটশিল্প এলাকায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা। সেক্ষেত্রে ত্রাণ বন্টন প্রক্রিয়া সরকারী দলকে সম্পৃক্ত না করে সেনাবাহিনীর উপর দায়িত্ব দেয়া।

ঘ.) পাটকল শিল্প এলাকায় ১০টাকা কেজি ধরে ওএমএস’র চাল বিক্রির পদক্ষেপ গ্রহন করা।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বন্দর ও শিল্প নগরী সেক্টরভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য যেমন মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, ইজিবাইক ও রিকশা চালক, ফুটপাত হকার, দিনমজুর, হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের আলাদা আলাদাভাবে তালিকা করে ত্রাণ বন্টন করার জোর দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আব্দুল জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, মোঃ ইকবাল হোসেন, অধ্য তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

আমরা লড়াই করছি গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার এবং করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে: মঞ্জু

স্টাফ রিপোর্টার:

আজ রবিবার, ১৯ এপ্রিল দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপির মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নভেল করোনা ভাইরাসে কর্মহীন নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য খানজাহান আলী থানা বিএনপি, ওয়ার্ড, ইউনিয়নে ২৪ বস্তা চাল, ৪ বস্তা ডাল ও ৬ বস্তা আলুসহ মোট ৩৪ বস্তা ত্রাণ সামগ্রী ৩ শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মীর কায়সেদ আলী, আসাদুজ্জামার মুরাদ, ইউসুফ হারুন মজনু, হাসানুর রশিদ মিরাজ, আবু সাইদ আব্বাস, মিজানুর রহমান, জামাল হোসেন, আশরাফ হোসেন, মুরাদ হোসেন, মোল্যা সোলাইমান, রবিউল ইসলাম, সাজু শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

ত্রাণ বিতরণকালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা লড়াই করছি গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার এবং করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। এ লড়াইয়ে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে শরিক হতে হবে। বিশ^ব্যাপী যে করোনা ভাইরাস বিস্তার করেছে তা রোধ করা সম্ভবপর নয়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিদিন বাড়ছে। নিত্য নতুন জনপদে হানা দিচ্ছে। চীন থেকে শুরু করে ইউরোপ আমেরিকার গন্ডি পেরিয়ে এখন বাংলাদেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে করোনা যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বা চালাচ্ছে তা দেখে আমার দেশ কোন শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয় না।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ সরলপ্রাণ ধর্মভীরু। তারা হয়তো বিশ^াস করেছেন করোনা ভাইরাস আল্লাহ গজব। এটা পাপী-তাপীদের ওপর দিয়ে যাবে। যারা বেশি বেশি পাপ করে সৃষ্টি কর্তার অমান্য করে করোনা তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাবে। সৃষ্টি কর্তার উপর ভরসা রেখে সবাইকে চলতে হবে। পৃথিবীর মানুষ যদি করোনা ভাইরাস নামের বৈশি^ক গজব থেকে শিক্ষা নেয়, প্রকৃতি দূষণ থেকে ফিরে আসে, তবে আরও অনেকদিন আমরা সুস্থ, সবলভাবে বাঁচতে পারবো। অন্যথায় এমন আরও অনেক গজব, অনেক পাপের শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সকলকে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাড়াতে হবে এবং সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এই দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকলকে একসঙ্গে ত্রাণ সহায়তার জন্য কাজ করতে হবে। তাহলে প্রতিটা ঘরে ঘরে ত্রান পৌছে যাবে।