ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’, বঙ্গোপসাগর এবং তার আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। তবে তা যেকোনো মুহূর্তে তার গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলেও শঙ্কা আছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এ সব ঘূর্ণিঝড়ের গতি প্রকৃতি আসলে বোঝা খুবই মুশকিল। সেজন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ে প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ‘অশনি’ যেখানেই আঘাত হানুক না কেন, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ বেশিরভাগ এলাকায় ১১ মে থেকে বৃষ্টি হতে পারে। আজ পর্যন্ত এটা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই থাকবে। আজকের পর অশনির গতিপথ পরিবর্তন হবে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে যে গতিপথে আছে তাতে মঙ্গলবার ১০ মে এটি ভারতের উপকূলের আছড়ে পড়তে পারে। এ কারণে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় দেশের চার সমুদ্র বন্দরে আগের মতো ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নদী বন্দর গুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
সমুদ্র উপকূলের দেশ হওয়া বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি নেহাত কম নয়৷ ভোলা ট্র্যাজেডিসহ সাম্প্রতিক সময়ের সিডর-আইলা-আমফানের প্রভাবে লাখ লাখ মানুষের জানমালের ক্ষতির ইতিহাস আমাদের দেশের রয়েছে। প্রাণহানি ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়৷ দেশে দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত কয়েক দশক ধরে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা খুবই ইতিবাচক৷ এবারের ঘূর্ণিঝড়েও প্রয়োজন যথাযথ সতর্কতা।
ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে নিতে হয় নানান সাবধানতা। দেশের উপকুলীয় এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অর্ধলাখের বেশি সেচ্ছাসেবকের পরামর্শ ও নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয় বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে। জরুরি বিপদ সংকেত আসলেই সাইরেন বাজিয়ে কিংবা স্থানীয় স্কুল, মসজিদ ইত্যাদির মাইক ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবকরা, সেসময় জনগণকে প্রয়োজনীয় সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে। উপকূলের মানুষজনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, পরিচয় পত্র, রেডিও, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, দিয়াশলাই, টর্চ লাইট, মোমবাতি ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ নিজেদের সাথে রাখতে হবে দুর্যোগ কালীন ও পরবর্তী প্রয়োজনে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বেশি হলে উপকূলীয় দ্বীপ কিংবা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করবে সেচ্ছাসেবকরা, তাদের নির্দেশনায় জনগণকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে হবে। অতীতের বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেখা গেছে, যথাসময়ে উপদ্রুত এলাকার মানুষজন নিজ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে না যাওয়াতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট নানা কর্তৃপক্ষের যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন ঘূর্ণিঝড়সহ দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে। প্রকৃত তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেনো উপকূল এলাকায় যথাসময়ে পৌঁছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ খুবই জরুরি। যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ সর্বোচ্চ সতকর্তায় মোকাবিলা করতে পারবে বাংলাদেশের মানুষ।











































