Home আঞ্চলিক চোর সন্দেহে মেস কর্মচারীকে ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতন

চোর সন্দেহে মেস কর্মচারীকে ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতন

2

পিরোজপুর প্রতিনিধি।।

পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে এক মেস কর্মচারীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মো. ইউনুস ফকির (৪০) নামের ওই ব্যক্তি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলামের কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির সন্দেহে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ইউনুসকে আটক করে নির্যাতন করা হয়। যদিও পরে অন্য এক কর্মচারীর কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, ‘ইউনুস ফকির পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা এবং ২০১৮ সাল থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি মেসে দেখভালের কাজ করতেন। ওই মেসের একটি কক্ষে বসবাস করতেন ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলাম। তার কক্ষের একটি চাবি ইউনুসের কাছেও ছিল।’

ইউনুসের অভিযোগ, ’সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ করেই ওসি আরিফুল ইসলাম তার কাছে থাকা চাবি ফেরত চান এবং কক্ষ থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।’

তিনি চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে আরো কয়েকজন ডিবি সদস্য যোগ দিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ’তাকে জোরপূর্বক টাকা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার পরিবার সুদে টাকা ধার করে তা পরিশোধ করলে নির্যাতন বন্ধ করা হয়।’

পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে মেসের অপর কর্মচারী শাকিল চুরির ঘটনা স্বীকার করে এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অসুস্থ ইউনুস চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে যেতে চাইলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত হুমায়ুন কবির তাকে পিরোজপুর শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে দায়সারাভাবে চিকিৎসা দেয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হবে এই আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে ইউনুসের সমস্যার বিষয়ে কিছুই বলতে দেয়নি হুমায়ুন।

পরের দিন মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ ইউনুসকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

সেখানে ইউনুসকে বলতে বাধ্য করা হয় যে, ’স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে সে নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ পুড়িয়েছে। এ ছাড়া সে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে।
তবে ডিবি পুলিশের দীর্ঘ ৫-৬ ঘণ্টা অমানবিক নির্যাতন ও চাপের মধ্যে ভেঙে পড়েছে ইউনুস। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠতে না পেরে বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। এ ছাড়া পায়ে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে হাঁটতেও পারছেন না। অন্যদিকে বিদুতের শকের কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ এখনো অবশ হয়ে রয়েছে।’

এদিকে পুলিশের সঙ্গে পেরে উঠবে না এই আশঙ্কায় কোথাও কোনো অভিযোগ দেয়নি ইউনুসের পরিবার। তবে বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের জন্য পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান ইউনুস। এ ছাড়া তাকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান নয়, নির্মম এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন ইউনুস এবং তার স্বজনেরা।

ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, ‘একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না যেভাবে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ইউনুসের ভগ্নিপতি আব্দুল লতিফ শেখ জানান, ’সোমবার তাদের জীবনে একটি দুর্বিষহ দিন ছিল। ইউনুসের ওপর যে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে কখনোই তারা তা ভুলবেন না। এ ছাড়া এ ঘটনায় ইউনুসের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে পুলিশ সুপারের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।