Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

16

প্রধানমন্ত্রী কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রীও বরাদ্দ করেছেন: সিটি মেয়র
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, কারোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিশ্বের সকল দেশ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বৈশ্বিক এ সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়ার পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রীও বরাদ্দ করেছেন। বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী সঠিকভাবে শ্রমজীবীদের হাতে পৌছে দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবেনা বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। সিটি মেয়র বুধবার সকালে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস চত্বরে কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে চাল, ডাল, আলু, পেয়াজ ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সিটি মেয়র আরও বলেন, সরকার গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। করোনাভাইরাস সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। দেশের কোন জনগণ না খেয়ে থাকবে না। করোনা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সবাইকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রয়োজনে সকলের ঘরে ঘরে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
সিটি মেয়র ২৩নং ওয়ার্ড সহ দিনব্যাপী ১২, ৮, ১১, ১৬ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ২ হাজার ৫’শ ৬৮ টি কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, কেসিসি’র কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না, মো: ডালিম হাওলাদার, মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ, মো: মনিরুজ্জামান, মো: আনিছুর রহমান বিশ্বাষ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর কনিকা সাহা, পারভীন আক্তার, শেখ আমেনা হালিম বেবী সহ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সিটি মেয়র দিনব্যাপী নগরীর ২, ৩, ৪, ৫, ১৩, ১৭, ১৮, ১৯, ২৩ ও ২৫ নং ওয়ার্ডের কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতি ওয়ার্ডের ৪২৮টি করে ১০টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ২’শ ৮০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে থাকছে নৌবাহিনী
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে টহল, জীবাণুনাশক ছিটানো, অসহায় ও দরিদ্রের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছানোসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়ার তত্ত্বাবধানে নৌ ঘাঁটি তিতুমীর কর্তৃক জেলখানা গেইট, ৪ নং ঘাট ও পোর্ট মোড়ে বস্তি এলাকায় বাড়ির দরজায় দরজায় গিয়ে ২০০ টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অপরদিকে নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। ষ্টুডিও ও চায়ের দোকান খোলা রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এক হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট ২১৩ টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা করে। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে ১০ সেট পিপিই বিতরণ করা হয় এবং জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, জরুরী প্রয়োজনে বাড়ীর বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য বাধ্য করা হয়। জেলার বিভিনস্থানে ১০০ টি জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরন করা হয়।একই সাথে অনুমোদিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকান ব্যতিত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। অন্যদিকে নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বজার, মিতাখালী, আপাবাড়ী, বুড়িরডাঙ্গা এবং মংলা বন্দর এলাকায় টহল পরিচালনা করে ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। বিভিন্ন দোকান ও মটরসাইকেল চালক এর নিকট হতে চার হাজার তিনশত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নৌ ঘাঁটি মংলা দিগরাজ বাজার, মংলা ফেরিঘাট এবং আশেপাশের এলাকায় টহল পরিচালনার পাশাপাশি জীবাণুনাশক স্প্রে করাসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে চলছে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল। জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন শৃখংলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন জেলা শহর এবং উপজেলা গুলোতে টহল অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অহেতুক ঘোরাঘুরি ও সরকারি আদেশ অমান্য করে সন্ধ্যা ৬ টার পর দোকান খোলা রাখার অপরাধে জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে চালিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১ টি মামলায় ৪১ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

শরণখোলার রায়েন্দা বাজার করোনা প্রতিরোধে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষনা: চলবে সামাজিক হাট
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
করোনা প্রতিরোধে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার অনির্দিষ্টকালে জন্য লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বুধবার দুপুরে রায়েন্দা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য সকল দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি কাঁচামাল ও মাছের বাজার মূল বাজার থেকে আলাদা করে রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সেখানে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সামাজিক হাট চলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন, ওসি এস.কে আব্দুল্লাহ আল সাঈদ, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
অপরদিকে, ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম টিপু নেতৃত্বে আমড়াগাছিয়া বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গত ৮ এপ্রিল এবং রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৪ এপ্রিল থেকে সামাজিক হাট বসানো হয়েছে। রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লকডাউনের এ সময়ে বাজারে শুধুমাত্র ওষুধের ফার্মেসী খোলা থাকবে। পাশাপাশি বুধবার সকাল থেকে রায়েন্দা সরকারি পাইলট মাঠে সামাজিক হাট বসবে। সেখানে তরিতরকারি, মাছ, ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্রি করা হবে। জরুরী সেবার বাইরে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে লোকসমাগম ঠেকাতে এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই। উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলো আপাতত সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে সেগুলোর ব্যাপারেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কয়রায় দুটি ইউনিয়নে নদী ভাঙন পরিদর্শনসহ ত্রাণ বিতরণ করেছেন এমপি বাবু
কয়রা প্রতিনিধি
কয়রা পাইকগাছার জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু কয়রায় দুটি ইউনিয়নে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনসহ চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি বুধবার উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশি দুটি ইউনিয়নের কাটমারচর, গাজীপাড়া, পদ্দপুকুর, গাববুনিয়া, হরিহরপুর লঞ্চঘাট, চরামুখা, ঘড়িলাল, গোলখালী এবং আংটিহারা ওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এসময় তার সাথে ছিলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দ। সাংসদ দুপুরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান খোকার দেওয়া ২০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী ঘড়িলাল বাজারে এবং বিকেলে আংটিহারা স¦াধীন সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আবু সাইদ খানের দেওয়া খাদ্র সামগ্রী দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেন। এর আগে সাংসদ দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদে সকল ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে করোনা সংকট নিরসনে সরকারের দেওয়া দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান কবি শামছুর রহমান ও কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এমপি বাবু দিনভর দুটি ইউনিয়নের নদী ভাঙন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে চলমান করোনা ভাইরাস এবং নদী ভাঙনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এসময় সাংসদ দলীয় নেতাকর্মীদের বলেন, দেশের এই দূর্যোগ মহুর্তে দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবারে সহযোগিতা করুন। এছাড়া আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে দূর্বল বেঁড়িবাঁধ সহ ভাঙন কবলিত এলাকা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

চিতলমারীতে জেলার প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত; ১৬ বাড়ি লক ডাউন
চিতলমারী প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে জেলার প্রথম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাটরপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি দেহে করোনা ভাইরাস পজেটিভ হওয়ায় ওই ব্যক্তির বাড়িসহ আশ-পাশের ১৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বুধবার বেলা-৩ টার দিকে বাগেরহাটের মাননীয় জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ, জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, জেলা সিভিল সার্জন মোঃ কে এম হুমায়ুন কবির, চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মামুন হাসান, থানা অফিসার ইনচার্জ মীর শরিফুল হক, সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে করোনা আক্রান্ত বাড়িসহ ওই গ্রামের ১৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা পাটরপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তি (৩৫) গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর থেকে পাটরপাড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে অবহিত করে। এ সময় ওই ব্যক্তির হালকা জ্বর-কাশির লক্ষন দেখা দিলে ১১ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি মাদারী পুরে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মানুম হাসান জানান, প্রাথমিক ভাবে ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারের অন্য ৬ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারসহ ওই গ্রামের ১৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

মণিমারপুরে বোরো ধানে ব্লাস্ট, হতাশ কৃষক
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
সপ্তাহ পেরুলেই ঘরে উঠবে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। এরইমধ্যে যশোরের মণিরামপুরের পশ্চিমাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের মুখের হাসি মলিন হতে শুরু করেছে, উঠছে মাথায় হাত। ওই এলাকার শতশত জমির বোরো ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। কীটনাশকের দোকানে ছুটেও মুক্তি পাচ্ছেন না কৃষক। ফলে হতাশায় ভুগছেন তারা। করোনা আতঙ্কের মধ্যে ধানের রোগ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
গত ৮-১০ দিন ধরে কৃষকের এই দুর্দশা হলেও তার কোন খোঁজ রাখেন না কৃষি অফিসের কেউ। আবার কৃষকদের অনেকে নামও জানেন না সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার। যদিও কৃষি অফিসের দাবি, একমাস আগে কিছু জমিতে হালকা লিপ ব্লাস্ট দেখা দিয়েছিল। যা ত্রখন নিয়ন্ত্রণে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কোদলাপাড়া, রঘুনাথপুর, মাহমুদকাটি ও টেংরামারী, দোঁদাড়িয়া, হানুয়ার ডায়ের বিল, ঝোঁকা, দীঘিরপাড়, কোমলপুর মাঠের অধিকাংশ জমির ধান গিট ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। সাথে রয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। ধানগাছের মাঝামাঝি স্থান থেকে শীষ পর্যন্ত শুকিয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে ধান পেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা নিজের বুদ্ধিতে বিষ স্প্রে করেও ফল পাচ্ছেন না।
উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বর্গা নেওয়া এক বিঘা জমিতে ব্রি-৮১ ধান লাগিয়েছি। ধানের কেবল শীষ বেরিয়েছে। তারমধ্যি বেশিরভাগ শীষের গোড়া ফুটো করে দিচ্ছে পোকা। দেখলে মনে হচ্ছে ধান পেকে গেছে। স্প্রে করিছি; কাজ হচ্ছে না। এই মাঠের রাজআলী, শেরআলী, রেজাউল, আমিনুল ইসলামসহ অনেকের ধান নষ্ট হচ্ছে।
একই গ্রামের চাষি নিজামউদ্দিন বলেন, আমাদের মাঠে ধানের রোগ মহামারি আকারে ধারণ করেছে। ১০ দিন ধরে আমার ছয় বিঘা জমির ধান ব্লাস্ট ও মাজরা পোকায় আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে দেড়বিঘা জমির অবস্থা খুব খারাপ। যেটা পাকারমত হচ্ছে, সেটা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আশপাশের প্রায় ৪০-৫০ বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে।
কোদলাপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের অভিযোগ, ধানের রোগ নিয়ে হতাশায় ভুগলেও এই পর্যন্ত কোন কৃষি কর্মকর্তা তাদের খোঁজ নেননি।
রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ১৫ কাঠা জমির ধান শেষ হয়ে গেছে। জমিতে গেলে কান্না আসে। টেংরামারী বিলের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, বিলে প্রথম ফারুক নামে এক কৃষকরে ৪০ শতক জমি আক্রান্ত হয়। সেখান থেকে পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে। আমার নিজের ৫০ শতক জমির ধান চারদিন ধরে আক্রান্ত হয়েছে। ওষুধে কাজ হচ্ছে না। কৃষি অফিসার আমাদের খোঁজও নেননি। আমি এই এলাকার দায়িত্বে কে আছেন তার নামও কোনদিন শুনিনি।
রঘুনাথপুর শেখপাড়া মাঠের চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, ৪-৫ দিন আগে হালকা ঝড় হয়েছে। তারপর আমার একবিঘা জমি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মাঠের অনেক ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে।
খেদাপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, কিছু জমির বোরো ধানে ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কুয়াশা পড়লে এই সমস্যাটা বেশি হয়। আমরা কৃষকদের ট্রুপার স্প্রে করতে বলছি। এখন আর সমস্যা নেই।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তারমধ্যে একমাস আগে সবমিলিয়ে বিঘা দুই জমিতে লিপ ব্লাস্ট দেখা দিয়েছিল। স্প্রে করার পর সেটা এখন নিয়ন্ত্রণে। এসময় কয়েকটি মাঠের ধান গিট ব্লাস্টে আক্রান্ত হওয়ার খবর দিলে তিনি বলেন, আমি এখনি সরেজমিন মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছি।

মোংলায় ১৬ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার, আটক হয়নি কেউ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় ১৬ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ সময় কেউ আটক হয়নি। মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে পৌর শহরের মাদ্রাসা রোড সংলগ্ন বাগেরহাট জেটি থেকে ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। চাল ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় এর সাথে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আপতত মামলা নয়, জিডি করা হবে। কে বা কাহারা এর সাথে জড়িত তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে সরকারী চাল উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাহাত মান্নান বলেন, ভাবমূতি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক কেউ এটা করেছে কিনা! কারণ খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তা ঠিকই আছে, কিন্তু বস্তার মুখের সেলাই ঢিলেঢালা। তাই বিষয়টি এই মূহুর্তে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছেনা, কিভাবে চালের বস্তা এখানে এলো এবং কারাই আনলো। যেহেতু কেউকে তো আটক বা গ্রেফতার করা যায়নি। মোংলা সরকারী খাদ্য গুদাম ইনচার্জ (ওসিএলএসডি) মো: মমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

পাইকগাছার হরিঢালীতে ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য সমগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার, কপিলমুনি ঃ

খুলনার পাইকগাছার উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা নির্ম্মল মজুমদার ও সাবেক মেম্বর হারুন অর রশীদের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২ টায় হরিঢালীর বিভিন্ন এলাকায় হোমকোয়ারেন্টিনে থাকা হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, আলু তেল ও ডাল বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেম্বর হারুন অর রশীদ, হরিঢালী পুলিশ ক্যাম্পের এ এস আই মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমূখ।

বটিয়াঘাটায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রনোদনার সার ও বীজ বিতরণ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি

বটিয়াঘাটা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় খরিপ-১ মৌসুমে আউশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয় ডিএই মিলনায়তনে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রনোদনার সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। বীজ বিতরণী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা প্রেসকাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন বাবু, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইমান আলী মল্লিক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা যথাক্রমে কৃষ্ণপদ বিশ^াস, কমলেশ বালা, দিপন কুমার হালদার, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। এ সময় প্রত্যেক কৃষককে ২০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি ও ৫ কেজি উফশী বীজ পর্যায়ক্রমে ২২০ জন কৃষককে প্রদান করা হয়।

ফকিরহাটে ত্রান সামগ্রী স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিতরনের লক্ষে আলোচনা

ফকিরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাটে প্রকৃত খানার সংখ্যা প্রস্তুত ও ত্রান সামগ্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিতরনের লক্ষে ডিলার ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সভা বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় লখপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। লখপুর গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ট ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ। ইউপি সচিব প্রসুন কুমার দাশ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এমডি সেলিম রেজা. প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শেখ আহম্মদ আলী, ইউপি সদস্য মোঃ বজলুল রহমান মোড়ল, মোঃ হুমায়ুন কবির, মোঃ রেজাউল করিম, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও ডিলার মোঃ সেলিম শেখ, বাজার কমিটির কোষাধক্ষ ও ডিলার মধুসুধন ঘোষ। এর আগে পিলজংগ ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান সাধন কুমার দে এর সভাপতিত্বে ও ইউপি সচিব মোঃ শরিফুদৌলা পলাশ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য মোঃ মোশারেফ হোসেন, আব্দুল খালেক খান ও মহিলা সদস্যা সাজেদা বেগম সহ বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ প্রমুখ।

লবণাক্ত জমিতে মুগডালে চাষে স্বপ্ন দেখছে কয়রার কৃষকরা

শাহজাহান সিরাজ (কয়রা)

পরিশ্রমে আছে আনন্দ। আছে সফলতা। এর দৃষ্টান্ত রয়েছে ব্যবসা-বানিজ্য কিংবা ক্ষেত খামারে। এমনই এক সাফল্যের প্রমাণ মিলেছে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় লবণাক্ত পতিত জমিতে মুগ ডাল চাষে সফলতা এনেছে। লবণাক্ত ভূমিতে উৎপাদনশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নানামুখী গবেষণার অংশ হিসেবে ৫০ বিঘা জমিতে মুগডাল চাষ করা হয়। পরিক্ষামূলকভাবে এ চাষে ভালো ফলন দেখে এলাকার কৃষকদের মধ্যে মুগডাল চাষে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কয়রায় বাম্পার ফলনে ভরে উঠেছে মুগডালের ক্ষেত, যা ভুলিয়ে দিয়েছে কৃষকের ঘাম ঝরা শ্রমের কষ্ট। ছোট ছোট মুগ ডাল গাছের প্রতিটি ডগাতেই ফুটেছে কৃষকের হাসি। সময়মতো বীজ, সার, ওষুধের সহায়তা ও সময়মতো পরিচর্যা সরেজমিনে কৃষি গবেষণা ইনন্সটিউটের সেবা পরামর্শ পাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে বলে মনে করছেন চাষিরা। খুলনার দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত কৃষি জমিতে মুগডালের বাম্পার ফলন দেখে এই এলাকার কৃষকদের মাঝে আগ্রহী বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই সুন্দরবন ঘেরা কয়রা উপজেলার আমাদী, মহারাজপুর,কয়রা ও বেদকাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রাথমিক ভাবে মুগডালের চাষ করেন কয়েকজন কৃষক এবং ডাল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনন্সটিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ  কয়রা উপজেলা এমএলটি সাইট। সরেজমিনে কয়েকটি মুগডাল ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, যে সমস্ত কৃষি জমি আমন ধান কাটার পর বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহত হতো। সেই জমিতে এখন মুগডালের গাছে সবুজের সমারোহ। মঙ্গলবার চন্ডিপুর গ্রামে ৩ একর জমিতে মুগডালের আবাদ হয়েছে এমন একটি খেতে ফসল তোলার সময় কৃষক সুভাস মন্ডলের সাথে কথা হয়। এসময় তিনি বলেন, এই এলাকায় সমগ্র মাঠে শুধুমাত্র আমন চাষ হয় এবং বাকী সময় গরু ছাগল চরে। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতেই কয়রা কৃষি গবেষণা বিভাগের জাহিদ হাসান আমাদের এলাকায় এসে মুগডাল, ভুট্রা, সূর্যমুখী, তরমুজ চাষ করতে বলেন এবং আমাদেরকে সার বীজ দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে জানান। কিন্তু এলাকার অনেকেই তার কথায় অবিশ্বাস করে বলেন, লবণমাটিতে ঐসব ফসল লাগালে পরিশ্রমই বৃথা যাবে। তবে আমি এবং আমার প্রতিবেশি মিলন ও রাজ প্রাথমিকভাবে ১০ বিঘা জমিতে মুগডালের চাষ করি। বর্তমানে এই পতিত জমিতে মুগডালের ফলন দেখে এলাকার অনেকেই আগামীতে ডাল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, এই পতিত জমিতে এমন ফসল হবে তা আমি ভাবতে পারেনি। জানা গেছে, কৃষি গবেষণা বিভাগের এমএলটি সাইট কয়রায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জাহিদ হাসান বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের এক ফসলের জমিতে ২ ফসল আবাদের জন্য এবং শুষ্ক মৌসুমে অন্যান্য ফসল চাষে আগ্রহী করে তোলেন। অতঃপর তিনি বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট আগ্রহী কৃষকদের একটি তালিকা দিলে সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশীদ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শাহাদাৎ কয়রার বিভিন্ন কৃষকের মাঠ পরিদর্শন করেন। এসময় কৃষকদের আশ্বস্ত করে তারা বলেন, আমরা বেড প্লানন্টার যন্ত্র দিয়ে মুগডাল বপন সহ সার,বীজ ও কীটনাশকের ব্যবস্থা করে দেব। এছাড়া উৎপাদিত ফসল সবই আপনাদের থাকবে এবং আপনারা এই ফসলের খেত দেখাশুনা করবেন। সূত্র জানায় মুগডাল সহ অন্যান্য ফসল চাষ শেষে সম্প্রতি এসব কৃষকের মাঠ পরিদর্শন আসেন ড. হারুনর রশীদের নেতৃত্বে অষ্ট্রেলিয়ার কৃষি বিজ্ঞানী ড. এলিক হার্টনার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ইনচার্জ ড. আক্কাস আলী ও এমজি নিয়োগিসহ অনেকেই।

এ বিষয় খুলনা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারনর রশীদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা দিনদিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা, খরা এবং অনাকাঙ্খিত বৃষ্টিপাত। এ কারনে কৃষকরা শুকনো মৌসুমে চাষাবাদ করে কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারছে না। ফলে উপকূলীয় বেশিরভাগ কৃষক এ সময়ে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। সারা বছর শুধু বৃষ্টির মৌসুমে একটি ফসল আমন ধান করেই কৃষকদের সন্তুষ্ঠ থাকতে হচ্ছে। বাকি সময় অথ্যাৎপুরো শুকনো মৌসুম হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকছে। আমি কৃষিবিদ হয়ে স্বপ্ন দেখতাম দেশের অন্যান্য এলাকার মতো আমার জন্মভূমি কয়রার মাটিতে দুইটি ফসল হবে। সে কারনে আমি আইলা পরবর্তী মহারাজপুর বিলের বোরো ধানের আবাদ চাষে সফল হয়েছি এবং দ্বিতীয় বার একই লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমখী, মুগ, তরমুজ, চীনাবাদাম , ভুট্রার আবাদ সফল হওয়াই কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৩০% জমি লবণাক্ত, এখানে পানিও লবণাক্ত থাকায় মাঠে দুইটি ফসল করা কঠিন,অথচ আমার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সেখানে উল্লেখিত ফসল চাষ সম্ভব হয়েছে।

মুখ্য বৈজ্ঞানিক ড. আক্কাস আলী জানান, বারি মুগ-৬ অল্প সময়ে বাম্পার ফলন দেয়। মুগডাল তোলার পর মুগের গাছ ও পাতা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে জমিতে জৈব সার তৈরি হয়। আগামীতে কয়রায় এর চেয়ে আরও বেশি চাষ করা হবে।

দাকোপে সমাজ সেবকের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ উপলক্ষে খুলনার দাকোপে বানিশান্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৩৬১ জন অসহায় দরিদ্র কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল ১০৮৩ কেজি, আলু ৩৬১ কেজি, তেল ১৮০ কেজি, লবণ ১৮০ কেজি, ডাল ৯০ কেজি ও ৩৬১ পিচ সাবান বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বেলা ১০টায় বানিশান্তা আমতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন ব্রিজের উপর খুলনা জেলা আ‘লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ‘র পৃষ্ঠ পোষকতায় এবং বানিশান্তা ইউনিয়নের সমাজ সেবক বিনয় কৃষ্ণ সরদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ ত্রান খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা ৩০ আসনের এমপি অ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, বানিশান্তা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকলেছুর রহমান, আ‘লীগনেতা পংকোজ মন্ডল, ফিরোজ খাঁ, সুনিত রায়, সুকল্যান মন্ডল, বিষ্ণুপদ মন্ডল, মৃনাল মন্ডল, কার্তিক মন্ডল, মলয় মন্ডল, জয়দেব প্রকাশ গাইন, জুয়েল বাড়–ইসহ আরো অনেকে।

দাকোপে কর্মহীন বনজীবিদের মাঝে প্রধান মন্ত্রীর খাদ্য বিতরন।

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি 

করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল খুলনার দাকোপের লাউডোব ও কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ১০০ জন কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে প্রধান মন্ত্রীর দেয়া খাদ্য সামগ্রী হিসেবে ১০ কেজি চাউল, ১ কেজি ডাউল, ২ কেজি আলু, ১টি সাবান বিতরন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় বুড়িরডাবর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্না সরকার, খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হেসেন, জেলা পুলিশ সুপার এস এম, শফিউল্লাহ পিপিএম, উজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম চৌধরী, ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আক্তার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের, ট্যাগ অফিসার শেখ মাহাবুব রহমান, লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান সরোজিত কুমার রায়, কৈলাশগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কুমার মন্ডল, দাকোপ প্রেস কাবের সভাপতি শচীন্দ্র নাথ মন্ডলসহ অনেকে।

কেশবপুরে ৩৬৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৩৬৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রনোদনা কর্মসূচী হিসাবে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মুখে বুধবার সকালে প্রধান অতিথি হিসাবে ৩৬৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মনির হোসেন। উল্লেখ্য ৩৬৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রনোদনা কর্মসূচী হিসাবে বিনামূল্যে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএমপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

কেশবপুরে ৭ শত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ তার নিজস্ব তহবিল থেকে যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পক্ষে কেশবপুর সদর ইউনিয়নে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে কর্মহীন ও অসহায় ৭ শত পরিবারের মাঝে চাউল, ডাউল ও আলূ-সহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজের সভাপতিত্বে  মঙ্গলবার বিকালে মধ্যকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসাবে কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ৭ শত পরিবারের মাঝে চাউল, ডাউল ও আলূ-সহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অংশ নেন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার মুখার্জী, কেশবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ মনিমোহন, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন প্রমুখ। এসময় কেশবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ কেশবপুর সদর ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের হাতে বিতরণের জন্য খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

কেশবপুরে রাতের আধারে খাদ্যসামগ্রী পৌছিয়ে দিলেন ব্যাবসায়ী ওয়াহিদুজ্জামান বিশ্বাস

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকের বাড়িতে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে।  গত রাতে পৌরসভার ৫ নং আলতাপোল ওয়ার্ডের ৪ শত ৪০ বাড়িতে  নিজস্ব অর্থায়নে চাউল, ডাউল, আলু, পেয়াজ, তৈল-সহ খাদ্য সামগ্রী পৌছিয়ে দিয়েছেন মনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ ও আইস ফ্যাক্টরীর স্বত্তাধিকারী বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ওয়াহিদুজ্জামান বিশ্বাস। ইতিপূর্বে তিনি করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতনামূলক লিফলেট, মাস্ক ও সাবান বিতরণ করেছিলেন।

কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ডিগ্রী কলেজ মাঠে বাজার উদ্বোধন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে কেশবপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে তরকারী, মাছ ও মাংস বাজার উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৬ টা হতে বেলা ১১ টা পর্যন্ত উক্ত বাজার বসবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে বুধবার সকাল ৭ টায় প্রধান অতিথি হিসাবে উক্ত বাজার উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা, উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প অফিসার রিজিবুল ইসলাম প্রমুখ।

চিতলমারীতে পুলিশের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

চিতলমারী প্রতিনিধি:

চিতলমারীতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় সহায়-সম্বলহারা লোকদের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন চিতলমারী থানার ওসি মীর শরিফুল হক।

 এ সময় ত্রাণ বিতরণ কালে ওসি মীর শরিফুল হক জানান, মানুষ এই মুহূর্তে খুব কষ্টে আছে। আমরা অসহায় লোকদের পাশে থাকার সর্বাত্তক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধ্য অনুযায়ী তাদের কষ্ট লাঘব করারও চেষ্টা করছি। পশাপাশি এলাকার মানুষকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনাতা বৃদ্ধি ও ঘরে থাকার পরামর্শ প্রদান করছি।

এদিকে উপজেলার আমবাড়ি গ্রামে শেখ নাজমুল হক টিপু ৫শতাধিক সুস্থদের মধ্যে খাদ্য সহায়াতা প্রদান করেছে।

পাইকগাছার চিংড়ি ঘের দখলের পায়তারা করার অভিযোগে থানায় জিডি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছার সোনাখালী মৌজায় চিংড়ি ঘের দখলের পায়তারা করার অভিযোগে থানায় জিডি হয়েছে। উপজেলার মাঝেরআবাদ গ্রামের মৃত অমূল্য সানার ছেলে সরজিৎ সানা ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে প্রায় ৬ বিঘা জমি কিনে স্থানীয় অমল কৃষ্ণ মন্ডলের কাছে চিংড়ি চাষের হারী চুক্তিতে ডিড করে দেয়। দখলে থাকাবস্থায় একই এলাকার দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল, কিরণ সানা, বিদ্যুৎ মন্ডল, বিনয় কৃষ্ণ গত সোমবার দলবল নিয়ে জোরপূর্বক ঘের দখল করতে যেয়ে ব্যর্থ হয়ে সরজিৎ ও তার পরিবারকে নানাভাবে খুন-জখমের ও হুমকি দেয়। এ বিষয়ে সরজিৎ বাদী হয়ে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে। যার নং- ৫৯৩, তাং- ১৩/০৪/২০২০ইং।

পাইকগাছায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

পাইকগাছায় করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং লকডাউন কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার সকালে পৌর সদরে সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে দোকান খোলার অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিসেট্রট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না এবং নির্বাহী ম্যাজিসেট্রট ও সহকারী কমিশনার ভূমি মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম ভ্রাম্যমান অদালতে এ জরিমানা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পেশকার দিপংকর প্রসাদ মল্লিক, প্রতুল জোয়াদ্দার সহ থানা পুলিশ।

পাইকগাছার সোলাদানা ইউপিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

পাইকগাছায় সোলাদানা ইউনিয়নে প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিলের বরাদ্ধকৃত ৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক ৫শ হত দরিদ্র, ১’শ মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ৫ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার দিবাশীষ দাস সহ ইউপি সদস্যবৃন্দ। সোলাদানা ইউনিয়নে ৭ হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার পরিবারে ব্যক্তিগত ও সরকারী অনুদান বিতরণ করেছেন।

উল্লেখ্য, তিনি সোলাদানা ইউনিয়নবাসীকে সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেদন করে বলেছেন সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও মহামারী করোনা ভাইরাস আক্রান্তের স্বীকার। যে কারেন সরকার প্রত্যেককে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। সরকারের নিদ্দের্শনা অনুযায়ী যার যার ঘরে অবস্থান করছেন। সে কারণে অনেকে খাদ্যর অভাবে ভূগছেন অথচ লোক লজ্জার ভয়ে অনুদান নিতে আসতে পারছেন না। তাদের দৃষ্টি আর্কাষণ করে তিনি বলেন আপনারা ০১৭১১-৩০৯০২৫, ০১৯১৬-৬৮২১৫৬, ০১৭১২-৩৬৪২৬৯ নং মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে আমরা আপনার পরিচয় গোপন রেখে বাড়ীতে খাদ্য পৌছয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।

পাইকগাছায় শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের অসহায় কর্মহীন মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

পাইকগাছায় শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এর উদ্যোগে করোনাভাইরাসে লকডাউনে অসহায় কর্মহীন মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে। বুধবার সকালে সরল ৪নং ওয়ার্ডে নবপল্লী শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না প্রধান অতিথি হিসাবে এ সকল দুঃস্থ কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ-সামগ্রী তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম, ওসি এজাজ শফী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, সাবেক অধ্যাপক রমেন্দ্র নাথ সরকার, আশ্রমের সভাপতি মনোহর সানা, সম্পাদক জগন্নাথ সানা, সহ-সভাপতি অরবিন্দু কুমার সানা, সহ-সম্পাদক সুনিল মন্ডল, হেমেন্দ্রনাথ গাইন, প্রভাষক উৎপল বাইন ও শংকর কর্মকার।

সাজ্জাদুর রহমান লিংকন এর পক্ষ থেকে ভ্যান রিক্সা ও ইজিবাইক চালকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও খানজাহান আলী থানার যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ সাজ্জাদুর রহমান লিংকন এর পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় যোগীপোল ইউনিয়ন এলাকার ২’শ রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের মাঝে ১৫ এপ্রিল বুধবার বেলা ১১টায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন, খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম, ৩৩নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী খলিফা, আবু হেনা বাবলু, তরিকুজ্জামান মনির, মোঃ মিজানুর রহমান রুপম,  মোঃ হানিফ মোল্যা, মোঃ রবিউল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, রুমা খন্দকার মুন্নি, রিজাউল ইসলাম, নাজমা আক্তার রতœা, মাসুম খন্দকার প্রমুখ। উল্লেখ্য,  প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে যোগীপোল ইউনিয়ন এলাকায় কর্মহীন অসহায় হত দরীদ্রদের মাঝে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও খানজাহান আলী থানার যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ সাজ্জাদুর রহমান লিংকন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের সকল স্থরের মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

মা’এর উপর অভিমান করে খানাবাড়ী গালর্স হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী রুমানার আত্মহত্যা

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

খানজাহান আলী থানার মীরেরডাঙ্গা টুটুল মোল্যার কন্যা খানাবাড়ী গালর্স হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী রুমানা পারভিন(১৫)মা’এর উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এব্যাপারে খানজাহান আলী থানার এস আই বিধান চন্দ্র সানা জানান ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় মা’এর উপর অভিমান করে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এব্যাপারে খানজাহান আলী থানা একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ফুলতলায় বিএনপির খাদ্য সহায়তা প্রদান

ফুলতলা প্রতিনিধি

দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ফুলতলা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন  আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বুধবার বিকালে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন, অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদার, যুগ্ন আহবায়ক মনির হাসান টিটো, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ, সরদার তাহেরুল ইসলাম, সদস্য জি এম শফিকুল ইসলাম, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনিছুর রহমান রনি, দামোদর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোঃ ইদ্রিস আলী মোল্যা, সচিব আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আকবর সরদার, বিল্লাল হোসেন, রুবেল বিশ্বাস, সিরাজ মোড়ল, মামুন হোসেন, জাহাঙ্গীর সিকদার প্রমুখ।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই সংবাদকর্মীদের মান বৃদ্ধি করে: এ্যাড.মিলন এমপি

মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে স্থানীয় সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন বলেছেন, স্বচ্ছ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই সংবাদকর্মীদের মান বৃদ্ধি করে। বর্তমান সময়ে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতায় সাংবাদিকবৃন্দরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। সংবাদ সংগ্রহে যথেষ্ট ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছেন।

তিনি এ আসনটিতে উপ-নির্বাচন ও বর্তমান সময়ে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণে সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের প্রসাংশা করে ধন্যবাদ জানান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সংসদ সদস্য’র বাস ভবনে মোড়েলগঞ্জ প্রেসকাবের কর্মরত সকল সাংবাদিকদের সাথে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসকাবের সভাপতি মেহেদী হাসান লিপন, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মাসুম, সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক পূর্বাঞ্চলের মোড়েলগঞ্জ অফিস প্রধান নজরুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি গনেশ পাল, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক এম.পলাশ শরীফ, কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাসুম, ফজলুল হক খোকন, রাজীব আহসান রাজু ও শাহ আলম তালুকদার, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শামীম আহ্সান মল্লিক, এইচএম মইনুল ইসলাম, মো. আবু সালেহ, এইচ এম শহিদুল ইসলাম, হেমায়েত হোসেন হিমু, আবুল কালাম খোকন, সাইফুল ইসলাম কবির প্রমুখ।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর রশীদ, আওয়ামী লীগ নেতা মাষ্টার সাইদুর রহমান, যুবলীগের আহ্বায়ক ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ, আওয়ামী লীগ নেতা ইকতিয়ার হোসেন দিলাল প্রমুখ।

মোড়েলগঞ্জে সাড়ে ১২শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হতদরিদ্র ১২৫০টি পরিবারে জরুরি খাদ্য সহয়তা প্রদান করেছেন খুলনা চিড়িং বনিক মৎস্য সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কেএম মহিউদ্দিন রিপন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তার ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় জিউধরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৬শ’৫০ পরিবারের মাঝে মাদ্রাসা বাজার এলাকায় তার পক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন সাইফুল ইসলাম বনি ও সাবেক ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ চুন্নু, স্বপন খান, এইচ এম রাসেল হাওলাদার ও মানিক হাওলাদার। এ ছাড়াও বহরবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া, হোগলাবুনিয়া, বহরবুনিয়া ইউনিয়নে সাইফুল ইসলাম সোহাগ ৬শ’ পরিবারের মাঝে চাল, আলু, পিয়াজ, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রীও বরাদ্দ করেছেন: সিটি মেয়র

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, কারোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিশ্বের সকল দেশ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বৈশ্বিক এ সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়ার পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রীও বরাদ্দ করেছেন। বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী সঠিকভাবে শ্রমজীবীদের হাতে পৌছে দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবেনা বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। সিটি মেয়র বুধবার সকালে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস চত্বরে কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে চাল, ডাল, আলু, পেয়াজ ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সিটি মেয়র আরও বলেন, সরকার গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। করোনাভাইরাস সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। দেশের কোন জনগণ না খেয়ে থাকবে না। করোনা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সবাইকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রয়োজনে সকলের ঘরে ঘরে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

সিটি মেয়র ২৩নং ওয়ার্ড সহ দিনব্যাপী ১২, ৮, ১১, ১৬ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ২ হাজার ৫’শ ৬৮ টি  কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, কেসিসি’র কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না, মো: ডালিম হাওলাদার, মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ, মো: মনিরুজ্জামান, মো: আনিছুর রহমান বিশ্বাষ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর কনিকা সাহা, পারভীন আক্তার, শেখ আমেনা হালিম বেবী সহ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সিটি মেয়র দিনব্যাপী নগরীর ২, ৩, ৪, ৫, ১৩, ১৭, ১৮, ১৯, ২৩ ও ২৫ নং ওয়ার্ডের কর্মহীন শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতি ওয়ার্ডের ৪২৮টি করে ১০টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ২’শ ৮০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে থাকছে নৌবাহিনী

খবর বিজ্ঞপ্তি

বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে টহল, জীবাণুনাশক ছিটানো, অসহায় ও দরিদ্রের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছানোসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়ার তত্ত্বাবধানে নৌ ঘাঁটি তিতুমীর কর্তৃক জেলখানা গেইট, ৪ নং ঘাট ও পোর্ট মোড়ে বস্তি এলাকায় বাড়ির দরজায় দরজায় গিয়ে ২০০ টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অপরদিকে নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। ষ্টুডিও ও চায়ের দোকান খোলা রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এক হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট ২১৩ টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা করে। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে ১০ সেট পিপিই বিতরণ করা হয় এবং জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, জরুরী প্রয়োজনে বাড়ীর বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য বাধ্য করা হয়। জেলার বিভিনস্থানে ১০০ টি জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরন করা হয়।একই সাথে অনুমোদিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকান ব্যতিত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। অন্যদিকে নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বজার, মিতাখালী, আপাবাড়ী, বুড়িরডাঙ্গা এবং মংলা বন্দর এলাকায় টহল পরিচালনা করে ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। বিভিন্ন দোকান ও মটরসাইকেল চালক এর নিকট হতে চার হাজার তিনশত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নৌ ঘাঁটি মংলা দিগরাজ বাজার, মংলা ফেরিঘাট এবং আশেপাশের এলাকায় টহল পরিচালনার পাশাপাশি জীবাণুনাশক স্প্রে করাসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে চলছে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল। জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন শৃখংলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন জেলা শহর এবং উপজেলা গুলোতে টহল অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অহেতুক ঘোরাঘুরি ও সরকারি আদেশ অমান্য করে সন্ধ্যা ৬ টার পর দোকান খোলা রাখার অপরাধে জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে চালিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১ টি মামলায় ৪১ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

শরণখোলার রায়েন্দা বাজার করোনা প্রতিরোধে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষনা: চলবে সামাজিক হাট

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

করোনা প্রতিরোধে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার অনির্দিষ্টকালে জন্য লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বুধবার দুপুরে রায়েন্দা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য সকল দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি কাঁচামাল ও মাছের বাজার মূল বাজার থেকে আলাদা করে রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সেখানে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সামাজিক হাট চলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন, ওসি এস.কে আব্দুল্লাহ আল সাঈদ, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

অপরদিকে, ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম টিপু নেতৃত্বে আমড়াগাছিয়া বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গত ৮ এপ্রিল এবং রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৪ এপ্রিল থেকে সামাজিক হাট বসানো হয়েছে। রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লকডাউনের এ সময়ে বাজারে শুধুমাত্র ওষুধের ফার্মেসী খোলা থাকবে। পাশাপাশি বুধবার সকাল থেকে রায়েন্দা সরকারি পাইলট মাঠে সামাজিক হাট বসবে। সেখানে তরিতরকারি, মাছ, ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্রি করা হবে। জরুরী সেবার বাইরে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে লোকসমাগম ঠেকাতে এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই। উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলো আপাতত সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে সেগুলোর ব্যাপারেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কয়রায় দুটি ইউনিয়নে নদী ভাঙন পরিদর্শনসহ ত্রাণ বিতরণ করেছেন এমপি বাবু

কয়রা প্রতিনিধি

কয়রা পাইকগাছার জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু কয়রায় দুটি ইউনিয়নে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনসহ চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি বুধবার উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশি দুটি ইউনিয়নের কাটমারচর, গাজীপাড়া, পদ্দপুকুর, গাববুনিয়া, হরিহরপুর লঞ্চঘাট, চরামুখা, ঘড়িলাল, গোলখালী এবং আংটিহারা ওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এসময় তার সাথে ছিলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দ। সাংসদ দুপুরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান খোকার দেওয়া ২০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী ঘড়িলাল বাজারে  এবং বিকেলে আংটিহারা স¦াধীন সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আবু সাইদ খানের দেওয়া খাদ্র সামগ্রী দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেন। এর আগে সাংসদ দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদে সকল ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে করোনা সংকট নিরসনে সরকারের দেওয়া দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান কবি শামছুর রহমান ও কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এমপি বাবু দিনভর দুটি ইউনিয়নের নদী ভাঙন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে চলমান করোনা ভাইরাস এবং নদী ভাঙনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এসময় সাংসদ দলীয় নেতাকর্মীদের বলেন, দেশের এই দূর্যোগ মহুর্তে দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবারে সহযোগিতা করুন। এছাড়া আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে দূর্বল বেঁড়িবাঁধ সহ ভাঙন কবলিত এলাকা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

চিতলমারীতে জেলার প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত; ১৬ বাড়ি লক ডাউন

চিতলমারী প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের চিতলমারীতে জেলার প্রথম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাটরপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি দেহে করোনা ভাইরাস পজেটিভ হওয়ায় ওই ব্যক্তির বাড়িসহ আশ-পাশের ১৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বুধবার বেলা-৩ টার দিকে বাগেরহাটের মাননীয় জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ, জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, জেলা সিভিল সার্জন মোঃ কে এম হুমায়ুন কবির, চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মামুন হাসান, থানা অফিসার ইনচার্জ মীর শরিফুল হক, সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে করোনা আক্রান্ত বাড়িসহ ওই গ্রামের ১৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা পাটরপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তি (৩৫)  গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর থেকে পাটরপাড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে অবহিত করে। এ সময় ওই ব্যক্তির হালকা জ্বর-কাশির লক্ষন দেখা দিলে  ১১ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি মাদারী পুরে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মানুম হাসান জানান, প্রাথমিক ভাবে ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ হয়েছে।  আক্রান্ত পরিবারের অন্য ৬ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারসহ ওই গ্রামের ১৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

মণিমারপুরে বোরো ধানে ব্লাস্ট, হতাশ কৃষক

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

সপ্তাহ পেরুলেই ঘরে উঠবে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। এরইমধ্যে যশোরের মণিরামপুরের পশ্চিমাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের মুখের হাসি মলিন হতে শুরু করেছে, উঠছে মাথায় হাত। ওই এলাকার শতশত জমির বোরো ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। কীটনাশকের দোকানে ছুটেও মুক্তি পাচ্ছেন না কৃষক। ফলে হতাশায় ভুগছেন তারা। করোনা আতঙ্কের মধ্যে ধানের রোগ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

গত ৮-১০ দিন ধরে কৃষকের এই দুর্দশা হলেও তার কোন খোঁজ রাখেন না কৃষি অফিসের কেউ। আবার কৃষকদের অনেকে নামও জানেন না সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার। যদিও কৃষি অফিসের দাবি, একমাস আগে কিছু জমিতে হালকা লিপ ব্লাস্ট দেখা দিয়েছিল। যা ত্রখন নিয়ন্ত্রণে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কোদলাপাড়া, রঘুনাথপুর, মাহমুদকাটি ও টেংরামারী, দোঁদাড়িয়া, হানুয়ার ডায়ের বিল, ঝোঁকা, দীঘিরপাড়, কোমলপুর মাঠের অধিকাংশ জমির ধান গিট ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। সাথে রয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। ধানগাছের মাঝামাঝি স্থান থেকে শীষ পর্যন্ত শুকিয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে ধান পেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা নিজের বুদ্ধিতে বিষ স্প্রে করেও ফল পাচ্ছেন না।

উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বর্গা নেওয়া এক বিঘা জমিতে ব্রি-৮১ ধান লাগিয়েছি। ধানের কেবল শীষ বেরিয়েছে। তারমধ্যি বেশিরভাগ শীষের গোড়া ফুটো করে দিচ্ছে পোকা। দেখলে মনে হচ্ছে ধান পেকে গেছে। স্প্রে করিছি; কাজ হচ্ছে না। এই মাঠের রাজআলী, শেরআলী, রেজাউল, আমিনুল ইসলামসহ অনেকের ধান নষ্ট হচ্ছে।

একই গ্রামের চাষি নিজামউদ্দিন বলেন, আমাদের মাঠে ধানের রোগ মহামারি আকারে ধারণ করেছে। ১০ দিন ধরে আমার ছয় বিঘা জমির ধান ব্লাস্ট ও মাজরা পোকায় আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে দেড়বিঘা জমির অবস্থা খুব খারাপ। যেটা পাকারমত হচ্ছে, সেটা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আশপাশের প্রায় ৪০-৫০ বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে।

কোদলাপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের অভিযোগ, ধানের রোগ নিয়ে হতাশায় ভুগলেও এই পর্যন্ত কোন কৃষি কর্মকর্তা তাদের খোঁজ নেননি।

রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ১৫ কাঠা জমির ধান শেষ হয়ে গেছে। জমিতে গেলে কান্না আসে। টেংরামারী বিলের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, বিলে প্রথম ফারুক নামে এক কৃষকরে ৪০ শতক জমি আক্রান্ত হয়। সেখান থেকে পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে। আমার নিজের ৫০ শতক জমির ধান চারদিন ধরে আক্রান্ত হয়েছে। ওষুধে কাজ হচ্ছে না। কৃষি অফিসার আমাদের খোঁজও নেননি। আমি এই এলাকার দায়িত্বে কে আছেন তার নামও কোনদিন শুনিনি।

রঘুনাথপুর শেখপাড়া মাঠের চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, ৪-৫ দিন আগে হালকা ঝড় হয়েছে। তারপর আমার একবিঘা জমি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মাঠের অনেক ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে।

খেদাপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, কিছু জমির বোরো ধানে ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কুয়াশা পড়লে এই সমস্যাটা বেশি হয়। আমরা কৃষকদের ট্রুপার স্প্রে করতে বলছি। এখন আর সমস্যা নেই।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তারমধ্যে একমাস আগে সবমিলিয়ে বিঘা দুই জমিতে লিপ ব্লাস্ট দেখা দিয়েছিল। স্প্রে করার পর সেটা এখন নিয়ন্ত্রণে। এসময় কয়েকটি মাঠের ধান গিট ব্লাস্টে আক্রান্ত হওয়ার খবর দিলে তিনি বলেন, আমি এখনি সরেজমিন মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছি।

মোংলায় ১৬ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার, আটক হয়নি কেউ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলায় ১৬ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ সময় কেউ আটক হয়নি। মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে পৌর শহরের মাদ্রাসা রোড সংলগ্ন বাগেরহাট জেটি থেকে ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। চাল ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় এর সাথে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আপতত মামলা নয়, জিডি করা হবে। কে বা কাহারা এর সাথে জড়িত তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে সরকারী চাল উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাহাত মান্নান বলেন, ভাবমূতি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক কেউ এটা করেছে কিনা! কারণ খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তা ঠিকই আছে, কিন্তু বস্তার মুখের সেলাই ঢিলেঢালা। তাই বিষয়টি এই মূহুর্তে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছেনা, কিভাবে চালের বস্তা এখানে এলো এবং কারাই আনলো। যেহেতু কেউকে তো আটক বা গ্রেফতার করা যায়নি। মোংলা সরকারী খাদ্য গুদাম ইনচার্জ (ওসিএলএসডি) মো: মমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

তুচ্ছ ঘটনায় পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম (২২) নামে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই পুলিশ সদস্যকে প্রথমে কালীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে তার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আহত ওই পুলিশ সদস্য কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

নলডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আলীম হোসেন জানান, শরিফুল ইসলাম কালীগঞ্জ ডাচবাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে ক্যাম্পে ফেরার পথে পাইকপাড়া গ্রামের মধ্যে পৌঁছালে একজন গ্রাম্য ডাক্তার চলন্ত মোটরসাইকেলে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। তাকে পুলিশ সদস্য শরিফুল কথা বলতে নিষেধ করায় তর্কবিতর্ক হয়। এতে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ডাক্তারের ভাই পাইকপাড়া গ্রামের শাওন তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। তার অবস্থা আশংকাজনক। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

কপোতাক্ষ নদের তীরে মিলল দুই নবজাতকের মরদেহ
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা মেলাবাজারস্থ কপোতাক্ষ নদের তীর হতে সদ্য জন্ম নেওয়া দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এলাকাবাসী নদের তীরে শিশু দু’টির মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে। তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এটা সম্ভবত ভ্রূণ, তবে নবজাতক দু’টি ছেলে নাকি মেয়ে সেটা শনাক্ত করার উপায় নেই। স্থানীয়রা জানান, বুধবার বেলা ১১ টার দিকে তালা মেলাবাজার হতে মাঝিয়াড়া রোডে কপোতাক্ষ নদে দুই জেলে মাছ ধরছিল। এ সময় তারা নদের তীরে দু’টি নবজাতকের লাশ দেখতে পায়। এরমধ্যে একটি লাশ নদের মধ্যে এবং অপরটি নদের পাড়ে (প্রায় ১ মিটার উপরে) ছিল। এ সময় জেলেরা স্থানীয় ক’জন যুবককে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে নবজাতক দু’টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, ৫-৬ মাস বয়সে গর্ভপাত করে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, নবজাতক দু’টি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তবে এটা সম্ভবত ভ্রূণ, তাই এটি ছেলে নাকি মেয়ে সেটা শনাক্ত করার উপায় নেই।

কালিয়ায় ভিজিডির চাল উদ্ধার, ২ ইউপি সদস্যের জেল
কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়ায় কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদকৃত ভিজিডির ৫ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে নড়াগাতি থানা পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নড়াগাতি বাজারের সুভাষ সাহার সিমেন্টের দোকান থেকে চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২ ইউপি সদস্যসহ ৩ জনকে জেল ও জরিমানার আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ওই থানা পুলিশ নড়াগাতি বাজারের সুভাষ সাহার সিমেন্টের দোকানে অভিযান চালিয়ে জয়নগর ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ মোশারেফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩ এর সদস্য রনি বেগমের লুকিয়ে রাখা ৫ বস্তা ভিজিডির চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার অপরাধে দোকান মালিকসহ দুই ইউপি সদস্যকে আটক করে পুলিশ। একইদিন দুপুরে কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদার ভ্রাম্যমান আদালতে আটককৃতদের হাজির করা হলে আদালত ইউপি সদস্য শেখ মোশারেফ হোসেন ও রনি বেগমকে ৩ মাস করে বিনাশ্রম জেলের আদেশ দেন। দোকান মালিক সুভাষ সাহাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
অসুস্থ বাবাকে দেখা হলো না মেয়ের
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে অসুস্থ বাবাকে দেখতে গিয়ে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে লাশ হয়ে ফিরলেন হালিমা খাতুন (৩০) নামের এক নারী। বুধবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার কোলা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হালিমার স্বামী ইজারুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর থেকে ইজারুল ইসলাম তার স্ত্রী হালিমা খাতুনকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে সদর উপজেলার রাইপুরে যাচ্ছিলেন। সদর উপজেলার কোলা গ্রামে পৌঁছলে অপরদিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই হালিমা খাতুনের মৃত্যু হয়। ইজারুলের ইসলামের একটি হাত ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। আহত ইজারুলকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ও মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠায় এবং আহত ইজারুলকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ দারা খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গোপালগঞ্জে বাসের ভেতর স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে ইমাদ পরিবহনের বাসের ভেতর সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এক ধর্ষক। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুর রহমানের আদালতে ধর্ষক রায়হান ভূঁইয়া (৩০) ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করে এ জবানবন্দি দেয়। পুলিশ জানায়, ১১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে শহরের মৌলভিপাড়া এলাকা থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে তুলে নেয়া হয়। পরে শহরের সুইমিংপুলের সামনে করোনা পরিস্থিতির কারণে পার্ক করে রাখা ইমাদ পরিবহনের বাসের ভেতর ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে রায়হান ও তার সহযোগী শাহাদাত। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের আবুল খায়ের ভূঁইয়ার ছেলে রায়হান ও তার সহযোগী শাহাদাতের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় শাহাদাতের ঠিকানা অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার পর সোমবার ধর্ষক রায়হানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুর রহমানের আদালতে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় রায়হান। মামলার অপর আসামি শাহাদাত পলাতক রয়েছে। এর আগে আদালতে উপস্থিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেয় স্কুলছাত্রী। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুর রহমান।