Home আঞ্চলিক ১৯ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী মুক্ত দিবস

১৯ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী মুক্ত দিবস

8

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

আজ ১৯ ডিসেম্বর কাশিয়ানী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। মিত্র মুক্তি বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমনে পাক বাহিনীর দখলে থাকা কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া ওয়্যারলেস ষ্টেশনের ক্যান্টনমেন্টের পতন ঘটে। দীর্ঘ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হলেও  কশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ওড়ে ১৯ ডিসেম্বর সকালে।

গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর-নড়াইল জেলার সীমান্তে অবস্থিত এবং ভৌগলিক যুদ্ধের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ন রেল ষ্টেশন নদী বন্দর ভাটিয়াপাড়া দখল নিয়ে পাক হানাদার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই হয় কয়েক দফা। পাক বাহিনীর ভাটিয়াপাড়া মিনি ক্যান্টনমেন্টটি গোপালগঞ্জ জেলার অন্তর্ভূক্ত হলেও ফরিদপুর-নড়াইল-গোপালগঞ্জ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য বস্তু ছিলো ভাটিয়াপাড়ার ওই মিনি ক্যান্টনমেন্টটি।

পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী ৭১ সালের মে মাসে এখানে ওই অয়্যারলেস ষ্টেশনে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। দীর্ঘ মাস ব্যাপী ৬৫ পাক সেনার শক্তিশালী একটি গ্রুপ এখানে অবস্থান করে এলাকার নিরীহ মুক্তিকামী মানুষের উপর নির্যতন, নিপীড়ন গনহত্যাযজ্ঞ চালায়। অনেক মুক্তিকামী মানুষকে হত্যাকরে পাক বাহিনী লাশ ভাটিয়াড়ার দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে ভাসিয়ে দিতো। পাক বাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সংলগ্ন জয়বাংলা পুকুরপাড়ের মিনি ক্যান্টনমেন্টন থেকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডিসেম্বর রাতে পালিয়ে গিয়ে ভাটিয়াপাড়ার ওই ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। ভাটিয়াপাড়ার পাক বাহিনীর মিনি ক্যন্টনমেন্টটি দখলে নিয়ে নভেম্বর দু’টি মারাত্মক যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে  টানা ১৫ ঘন্টা পাক বাহিনীর যুদ্ধ হয়। সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘায়েল করতে পাক বাহিনী আকাশ পথে বিমান থেকে গুলি বোমা বর্ষন করতে থাকে। কিন্তু সেদিন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটেনি। যুদ্ধে পাক বাহিনী যথেষ্ট ঘায়েল হয়। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা মীর মহিউল হক মিন্টু , সাধুহাটির কিউএম জয়নুল অবেদীন শহীদ হন। ওই অয়্যারলেস ক্যাম্প দখল নিয়ে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধ হয় ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিনে। দিন যুদ্ধের পর ১৯ ডিসেম্বর খুব ভোরে নড়াইল  গোপালগঞ্জ ফরিদপুরের দিক থেকে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডারগন সম্মিলিতভাবে ভাটিয়াপাড়া ক্যান্টনমেন্টে আক্রমন চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাতœহামলা বীরোচিত সাহসী যুদ্ধে অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে মুক্তি মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে ৬৫ জন পাক সেনা আতœসমার্পন করে। যুদ্ধে পাক সেনা নিহত হয়। অপর দিকে মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান সিকদার, অনিল কুমার বিশ্বাস,মজিবর রহমান,মোহাম্মদ হান্নান শেখ নিহত হয়। এর পর ভাটিয়াপাড়ার ওয়্যারলেস ষ্টেশনের মিনি ক্যান্টনমেন্টে উড়ানো হয় বাংলা দেশের মানচিত্র  লাল সূর্য খচিত গাঢ় সবুজ জমিনের বিজয় পতাকা। হানাদার মুক্ত হয় কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া সহ সমগ্র গোপালগঞ্জ অঞ্চল। মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দে আতœহারা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিজয় মিছিল বের করেন। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে অনন্দ উলাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।