Home আঞ্চলিক সুপেয় পানি সংকট নিরসনে দাকোপের সুতারখালী ইউনিয়নে ২৮০টি টিউবওয়েল স্থাপন

সুপেয় পানি সংকট নিরসনে দাকোপের সুতারখালী ইউনিয়নে ২৮০টি টিউবওয়েল স্থাপন

77

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি।।

খুলনার দাকোপের সুতারখালী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবৎ সুপেয় পানীয়জলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। এখানে প্রায় সারা বছরই লবন পানির প্রভাব থাকে। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুর, ডোবা-নালার পানি খেয়ে ডায়রিয়াসহ নানা পানি বাহিত রোগে ভূগে থাকেন। সুপেয় এই পানি সংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছেন বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা আল্লামা আবুল খাইর ফাউন্ডেশন।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের কোলঘেঁষা অবস্থিত এই ইউনিয়নে বাস করেন প্রায় সাড়ে হাজার পরিবার। এখানে প্রায় সারা বছরই চলে সুপেয় পানির সংকট। এই সংকট নিরসনে ইতি মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আল্লামা আবুল খাইর ফাউন্ডেশনটি স্থাপন করেছেন ২৮০টি টিউবওয়েল। টিউবওয়েলগুলো থেকে প্রতিদিন আশে পাশের অসংখ্য পরিবার সুপেয় পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন বলে এলাকার অনেকেই জানান। এছাড়া ২০টি মসজিদে মুসল্লিদের জন্য নির্মান করেছেন অজুখানা।

কালাবগি এলাকার সুফলভোগি জামাল হোসেন সরদার, দক্ষিণ নলিয়ান এলাকার আব্দুল হাকিম মোড়ল, ছহিলউদ্দিন ঢালীসহ আরো অনেকে জানান, ইউনিয়নটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সুপেয় খাবার পানির সংকট চলে আসছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এই সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করে থাকে। দুরের পুকুর থেকে অবিশুদ্ধ পানি এনে খেয়ে তাদের জীবন বাচাঁতে হয়। তাও আবার গরমের সময়ে শুকিয়ে যায়। আল্লামা আবুল খাইর ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন করায় এখন তাঁরা নিকটে আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ পানি পেয়ে অনেক খুশি বলে জানান।

কালাবগি গাজীপাড়া বায়তুল মে‘রাজ জামে মসজিদের সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস সরদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মসজিদে মুসল্লিদের অজু করার সমস্যা চলে আসছিল। অনেক সময়ে পুকুর থেকে অজু করে ওঠানামা করতে গিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিরা পড়ে যেতেন। এখন ফাউন্ডেশনের অজুখানা পেয়ে বয়স্ক মুসল্লিরা খুব সহজে অজু করতে পেরে খুশি।

এবিষয়ে আল্লামা আবুল খাইর ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক আবু মুছা সরদার জানান, খাবার পানির সংকট নিরসনে সুতারখালী ইউনিয়নে এপর্যন্ত ২৮০টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া চালনা পৌরসভার সবুজ পল্লী জামে মসজিদে ১টি এবং ওই ইউনিয়নে ১৯টি মোট ২০টি মসজিদে অজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া ৭২টি অসহায় পরিবারে খাদ্য সহায়তা এবং ৫০টি পরিবারে শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত ফাউন্ডেশনটি চতুর্থ ধাপে আরো অনেক টিউবওয়েল অজুখানা নির্মানের কাজ শুরু করবেন বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, অবহেলিত এই ইউনিয়নে ফাউন্ডেশনটি অনেক টিউবওয়েল স্থাপন পরিবেশ সম্মত অজুখানা নির্মান করেছেন। এতে অনেক লোক সুফল পাচ্ছেন বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে পারছেন। আর এতে অধিকাংশ লোক নানা পানি বাহিত রোগ থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তাছাড়া ইউনিয়নটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগি নিয়ে যেতে অনেক সময়ে লাগে। অনেক সময়ে পথি মধ্যে রোগি মারাও যায়। যে কারণে তিনি ফাউন্ডেশনটির কাছে একটি হাসপাতাল নির্মানের দাবি জানিয়েছেন এবং হাসপাতালটি হবে বলে তিনি আশা করছেন।