Home জাতীয় করোনা নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কা যেখানে

করোনা নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কা যেখানে

6

বিশেষ প্রতিনিধি।।

গত প্রায় দুই সপ্তাহজুড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন জেলায় শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। তারা বলছেন, এমনটা চলতে থাকলে সংক্রমণের ধীরগতি অব্যাহত থাকবে না। আবার নতুন বা তৃতীয় ঢেউ আসাটাও বিচিত্র নয়। আর তা এলে শুধু স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নয়, আর্থসামাজিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়বে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শনাক্তের হার মৃত্যু বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। আমাদের দীর্ঘ সীমান্ত আছে। তাই সীমান্তে সাধারণ যে নজরদারি এখন আছে, তা বাড়াতে হবে। সীমান্ত এলাকায় অপ্রাতিষ্ঠানিক যাতায়াতের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের করোনা সংক্রমণ বাড়লেও বাংলাদেশে শনাক্তের হার এখন ২–এর মধ্যে আছে। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়, মৃত্যু হয় জনের। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল দশমিক ২৫। শনাক্তের নিম্নহার কিছু মানুষের মধ্যে উদাসীনতা তৈরি করেছে।

মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করছে বলে মনে করেন কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা। তিনি বলেন, কিছু মানুষ সংক্রমণের নিম্নহার দেখে উদাসীন হয়ে পড়ছে। নিজের চোখে দেখেছি, বিয়ে–জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠানে অনেক লোক হচ্ছে। আর সেখানে অনেকেই মাস্ক পরছে না। পড়লেও থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছে। ব্যক্তি পর্যায়ে উদাসীনতা বাড়ছে। এটা আমাদের জাতীয় কমিটির সদস্যদের পর্যবেক্ষণ। এর ফলে আগামী দিনে সংক্রমণ বাড়ার একটি আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

কম সংক্রমণ থেকে ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার অনেক উদাহরণ আছে। ভারতের কেরালা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া—এসবের উদাহরণ। তাই বাংলাদেশে করোনার নিম্নহারে কোনো স্বস্তির অবকাশ নেই বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণের নিম্নগতিতে আপ্লুত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাস তো আমাদের দেশ বা বিশ্বের কোনো অঞ্চল থেকেই নেই হয়ে যায়নি। টিকাদানের পাশাপাশি মাস্ক পরা, হাত ধোয়া বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম তো মানতে হবেই। কিন্তু এসব বিষয়ে ঢিলেমি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন পরিসরে।

করোনাকালে আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার খামতি যে হচ্ছে তা বিশেষজ্ঞদের গোচরে এসেছে।

অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, এসব বিষয় নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় কমিটি বসবে। আর তাদের এসব উদ্বেগের কথা সরকারকে জানাবে। যাতে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ির বিষয়টি আবারও প্রচার হয় এবং বাস্তবায়িত হয়।