স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার ভৈরব নদের জেলখানাঘাট এলাকায় ফেরি ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষের পর রাকিব নামে এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাকিবের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে জেলখানাঘাট এলাকা।
রাকিবের এক বন্ধু জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত তারা কয়েকজন একসঙ্গে ছিলেন। পরে রাকিবকে বিদায় দেওয়ার পর সে ঘাটের দিকে চলে যায়। রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘাটে আসার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে রাকিবের মা তার বন্ধুদের ফোন করে জানান, রাকিব এখনো বাড়ি ফেরেনি। তবে সে ডুবে যাওয়া ট্রলারে উঠেছিল কি না, তা নিশ্চিত নন তারা।
ছেলেকে হারানোর শঙ্কায় ঘটনাস্থলে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন রাকিবের মা। তিনি বলেন, ‘বাপ চইলা গ্যাছে, পোলায় তো আমারে পাইত না।’ স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসার সামলাতে রাকিব অনেক পরিশ্রম করছিল বলেও জানান তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাপ মইরা গেছে, মারে ভালো রাখার জন্য চোয়ালের ঘাম পায়ে ফেলা খাটিছে।’
রাকিবের মায়ের অভিযোগ, ছেলেকে হারানোর পেছনে নৌযান চলাচলের অব্যবস্থাপনা ও চালকের গাফিলতি দায়ী।
এদিকে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ৩০-৩৫ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো নিখোঁজের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রাকিবের পরিবার তার সন্ধান না পাওয়ায় নদীতে নৌপুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
খুলনা বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. মাসুদ সরদার বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নৌপুলিশের কেএমপি সদর নৌ থানার সাব-ইনস্পেক্টর রবিউল ইসলাম বলেন, ভাটির দিকে তীব্র স্রোত থাকায় নৌপুলিশ স্পিডবোট নিয়ে নজরদারি করছে। কারও স্বজন নিখোঁজ থাকলে দ্রুত নৌপুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।










































