ঢাকা অফিস।।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধান শুরু হওয়া অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপ-সচিব (যুব-১) মো. মাসুম আহমেদ।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক চার সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম ছাড়াও এই অনুসন্ধান টিমে আছেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার মন্ত্রণাষয়ের বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি করেছেন। এছাড়াও অভিযুক্তরা ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশ করিয়ে ৭৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১.৫ কোটি টাকা এবং পদোন্নতিপূর্বক পছন্দের জায়গায় পদায়ন করার জন্য সর্বমোট ২ কোটি টাকার দুর্নীতি করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যুব উন্নয়নের সচিব মো. মাহবুব-উল আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) ও আলী হোসেনদের (নরসিংদী) নিয়ে গড়া একটি সিন্ডিকেট চক্র ছায়া যুব উন্নয়নের সব ধরনের টেন্ডারবাজি, কেনাকাটাসহ দুর্নীতিলব্ধ অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দুর্নীতির মহোৎসব চালান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে ওই সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন আসিফ মাহমুদ। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম দিকে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তার ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলান।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছাড়েন আসিফ মাহমুদ। একই মাসের শেষ দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। দলটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।









































