সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ।।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালিতে ১,৩২০ বিঘা (৪৩৯.২০ একর) জমি ও মৎস্য ঘের অবৈধভাবে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জামির মালিকদের দাবি, সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি শস্ত্র নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে এই সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। সম্পত্তি উদ্ধার করতে প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিকরা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে ধর্না দিয়েও এখনও সম্পত্তি বুঝে না পাননি।
জবরদখলকারী রাখা নামধারী এসব ভূমিহীনরা ওই সম্পত্তি খাস বলে দাবী করলেও জেলা প্রশাসক বলছেন, এই সম্পত্তি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং এখানে কোনো খাস জমি নেই। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে, সাংবাদিকরা সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে সেখানে বাঁশ ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয় নামধারী এসব ভূমিহীনরা। খলিশাখালী সড়কের উপর নির্মিত একটি ব্রিজের উপর শতাধিক নারী একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের পক্ষে রিপোর্ট করার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা সাংবাদিকদের সেখানে মাইক্রোবাসটি রেখে পায়ে হেটে যাওয়ার অনুমতি দেন। নিজেদের রক্ষা করতে এসব নামধারী ভূমিহীন ইতিমধ্যে ওই স্থানকে “শেখ মুজিবনগর খলিশাখালী আবাসন কেন্দ্র” নাম ঘোষণা করে সেখানে লাল পতাকা তুলে দিয়েছেন।

জমির মালিক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম মোরশেদ ও আলহাজ্ব মোঃ আনছার আলীসহ কয়েকজন জানান, খলিশাখালিতে রেকর্ডীয় ও লীজকৃত ৩০টি খণ্ডে বিভক্ত তাদের বিস্তীর্ণ মৎস্য ঘের ও জমি স্থানীয় কিছু ভূমিহীন নামধারী এবং জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাত শতাধিক সন্ত্রাসী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত্র আনুমানিক ২টার দিকে দখল করে নেয়। এই সময় তারা মৎস্য ঘেরের কর্মচারীদের মারধর করেন।

দখলের পর তারা মৎস্য ঘের থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকার মাছ লুট এবং ঘেরের বাসাবাড়ি ভাংচুর করে আনুমানিক ৩৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিকার চেয়ে দেবহাটা থানা কর্তৃপক্ষকে জানালে থানা কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে জানান তারা। এমনকি উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমির মালিকরা দেবহাটা থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা গ্রহণ না করে তাদের ফিরিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে তারা গত ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা কোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
নামধারী ভূমিহীন রবিউল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, হাসিনা বেগম, মাজেদা বেগম, আনোয়ারা বেগম, শাহিনা পারভীনসহ অনেকেই জানান, এই সম্পত্তি পুরাটাই খাস জমি। তাদের কোনো জায়গা জমি না থাকায় তারা এই খাস জমি দখল করে সেখানে বসবাস করছেন। এই সময় তাদের কাছে মাছ লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তার বলেন, লুট করা হয়েছে এমন কথা বলবেন না। মাছগুলো যে যার মত ধরে নিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ জানান, ইতিমধ্যে খলিশাখালীতে জমি দখলে নেতৃত্বদানকারী নামধারী ভূমিহীনদের ভূমিহীন সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এই সময় তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
সাতক্ষীরা জেলা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ভূমিহীন নেতা আলীনুর খান বাবুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীনদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। কিন্তু বর্তমানে যে নামধারী কিছু বহিরাগত ভূমিহীন সন্ত্রাসী খলিশাখালীতে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খাস বলে সন্ত্রাসী স্টাইলে দখল করেছেন এর তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। তিনি আরও জানান, প্রকৃত ভূমিহীনদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করার জন্য বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির জানান, খলিশাখালীতে চর শতাধিক একর জমি জবরদখলের খবর আমাদের নজরে এসেছে। এক পক্ষ আবেদনও করেছেন। আমরা নথি ও কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করে দেখলাম এই সম্পত্তি পুরোটাই ব্যক্তি মালিকানাধীন। তবে, চার শতাধিক একর এর মধ্যে ১০/১২ একর জমি খাস রয়েছে সেটি খালের মধ্যে, আর বাকিটা সম্পূর্ণই ব্যক্তিমালিকানাধীন।
তিনি জানান, ইতিপূর্বে এই জমি নিয়ে যে মামলা চলছিলো তার সকল কাগজপত্র জিপি সাহেবকে দেওয়া হয়েছে। তিনি একটি প্রতিবেদন আমাদেরকে দেবেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে দ্রুতই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।-বাংলাভিশন ২৪










































