বাবুল আক্তার।।
পাইকগাছার গদাইপুরের গাছের চারা হাট দেশের বিভিন্ন জেলায় চারার চাহিদা মিটাচ্ছে। হাটে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ-বনজ, ফুল ও ঔষধী গাছের চারা পাইকারী ও খুচরা বিক্রি হয়। ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সমাগমে নার্সারী চারার হাট জমে উঠে। ভোরের হাট সকাল ১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য বিকাল বেলাও আংশিক এলাকায় চারার হাট বসে। উপজেলার বৃত্তিগোপালপুর গ্রামের পাইকারী চারা ব্যবসায়ী ও ভাই ভাই নার্সারীর মালিক আকবর আলী জানান, আমার নার্সারী ও গদাইপুরের হাট থেকে চারা কিনে সিলেট, চট্রগ্রাম, সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিক্রি করে থাকি। এর পাশাপাশি শুক্রবার ও সোমবার চারা কিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজার গুলোতে বিক্রি করি। আমি প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুই লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিকি কিনি করি। গদাইপুরের সকালের হাটে প্রতিদিন প্রায় ৩লক্ষ টাকার চারা বিকিকিনি হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন নার্সারীতে বহিরাগত পাইকারী ক্রেতারা ট্রাক ভর্তিকরে আরো ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার চারা প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি, দাকোপ উপজেলাসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতারা হাট থেকে পছন্দমত বিভিন্ন প্রজাতির চারা ক্রয় করছে। এ চারা হাটটি দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সাড়া ফেলেছে। চারা ব্যবসায়ী নজরুল মোড়ল জানিয়েছেন, বর্ষাকাল বৃক্ষরোপনের উপযুক্ত সময়। পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। বৃক্ষ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা অসম্ভব। তবে এ বছরও বাঁধ ভেঙ্গে উপকূল এলাকা লবন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সব জায়গায় চারা রোপন করার পরিবেশ তৈরি হয়নি। সে কারনে চারা রোপন করার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। তারপরও এ হাটে ফলজ, বনজ, ঔষধী, ফুল সহ নানা প্রজাতির বৃক্ষের চারা পাইকারী ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে। গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ৪শ থেকে ৫শ নার্সারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ সকল নার্সারীতে উৎপাদিত বিভিন্ন চারা ও কলম নার্সারী মালিকরা ভোরবেলার হাটে তুলছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা খুব ভোরে এসে পছন্দমত চারা ক্রয় করে দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন হাটে বিক্রয় করছে। হাটে আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, কদবেল, বিভিন্ন জাতের কুল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, কমলা লেবু, দেশী, বিদেশী নারিকেল চারা, সুপারী, মেহগনি, সিরিশ, লম্বু, আকাশমনি, বিভিন্ন প্রজাতির দেশী বিদেশী ফুলের চারা হাটে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ক্রেতারা বাজার ঘুরে পছন্দমত গাছ কিনছে। সর্বনিন্মে ২০ টাকা থেকে ৬শ টাকা দরে কলম বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা ও বিদেশী নারিকেলের চারা দাম সব থেকে বেশী। বিদেশী ক্যারেলা নারিকেলের চারা ৫শ টাকা, বড় মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা প্রায় ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া চারা বড় ও মানের উপরে বিভিন্ন দামে চারা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রচুর পরিমানে গাছের চারা উঠে। কয়রা উপজেলার উত্তরবেদকাশী গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন জানান, সোহবান,রহিম,রাশেদসহ আটজন রাত দুইটায় রওনা দিয়ে সকালে বাজারে এসেছে। তিনি চারা কিনে কাশী হাটে বিক্র করেন। তবে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে লবন পানিতে এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় চারারোপন করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ জন্য চারার চাহিদা কিছুটা কম। ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গার শেখ সাফায়েত হোসেন হাটে চারা কিনতে এসেছেন তিনি বলেন, কুল, কদবেল, সুপারির রেনু চারা কিনে তার নার্সারীতে বড় করে বিক্রি করবেন। চারা ব্যবসায়ী জাহান আলী মোড়ল জানান, বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ফলে এলাকা লবন পানিতে তলিয়ে ছিলো। এ কারনে চারার চাহিদা ও দাম কিছুটা কম। গত বছর সকাল ৮ টার মধ্যে সব চারা বিক্রি হয়ে যেত। এ বছর চারা অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। বিক্রি না হওয়ায় ক্ষেত ভরা চারা রয়েছে। এর ফলে নার্সারী মালিকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলা নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি আক্কার হোসেন জানান, গদাইপুর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪শ নার্সারী রয়েছে। এ সকল নার্সারী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় চারা সরবরাহ করা হয়। তবে গদাইপুর বাজারে ভোরবেলার হাটে প্রচুর পরিমাণ চারা উঠছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দমত চারা ক্রয় করতে পারছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিবেশ সু-রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে সরকারি ভাবে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপন করা হচ্ছে। তাই সবাইকে বৃক্ষরোপন করতে হবে। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরনে বাড়ির আঙ্গিনায় চার-পাঁচটি ফলদ বৃক্ষ রোপন করার জন্য কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। গদাইপুরে ভোরবেলা হাট থেকে ক্রেতারা চারা ক্রয় করে সূর্যের তাপ ছাড়াই চারা গন্তব্যস্থানে নিয়ে যেতে পারে। এতে চারার মান ভাল থাকে। ভোরবেলা ক্রেতারা চারা ক্রয় করে সূর্যের তাপ ছাড়াই সুস্থ্য ও সবল চারা বাড়ি নিতে পারছে। এ কারণে ক্রেতাদের ভোরবেলার হাটে চারা ক্রয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
পাইকগাছায় আবারো অচেতন করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় আবারো পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনাটি ঘটেছে। একের পর এক একই ঘটায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে অপরাধীরা দ্রুতই আটক হবে।জানাগেছে,বুধবার রাতে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বোয়ালিয়া রোডের পাশে সন্তোষ বিশ্বাসের বাড়িতে সন্তোষ বিশ্বস (৬৫) পল্লী চিকিৎসক দীপঙ্কর বিশ্বস (৩৫) স্ত্রী স্মৃতি বিশ্বাস (২৮)ও ৯মাসের শিশু কন্যা দিবীশাকে চেতনানাশক স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান করে। এসয় দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে নগত সাড়ে ৬২ হাজার টাকা, ৪ভরি সোনারগহনা, পিতল-কাঁশার পাত্র লুটে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেছে।পাইকগাছা থানার ওসি তদন্ত জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাইকগাছায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় মিজানুর আটক পাইকগাছা প্রতিনিধিপাইকগাছায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় মিজানুর রহমান(৪৫) নামে একজন আটক হয়েছে। মামলার তদন্তকরী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক এমরান হোসেন জানান, ১৫ সেপ্টম্বর রাত ১১ টার সময় উপজেলার কপিলমুনির নাসিরপুর আমির আলী শেখের সুপারি বাগানে ১২-১৩ জন লোক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থি টের পেয়ে পালানোর সময় নড়াইল জেলার কালিয়া থানার কালডাংগা গ্রামের মৃত উকিল বেগের ছেলে মিলন বেগ( ৪১) আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। আটক মিলনের স্বীকারক্তিতে মিজানুরকে(৪৫) আটক করা হয়েছে। সে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড গোপালপুরের শামসুদ্দীন গাজীর ছেলে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে গোপালপুর বাজারের পাঁকা রাস্থার উপর থেকে আটক করা হয়। ওসি এজাজ শফী জানান, মিজানুর ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় পালাতক আসামী ছিলো। তার সিডিএমএস যাচই করলে তার নামে থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, সহ ৯ টি মামলা রয়েছ। আইনে প্রক্রিয়ায় তাকে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পাইকগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৯ প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিভিন্ন প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তার মধ্যে ১৯ জন প্রার্থীর জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন। ২ নং কপিলমুনি ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে চারজন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ২০হাজার ৯৩ ভোট। তার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছাদুল বিশ্বাস (ঘোড়া ২৫৩), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রব (হাতপাখা ১৭৮২), জাকের পার্টির প্রার্থী শেখ ইফতেখার আল মামুন সুমন (গোলাপ ফুল ৩০২) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ নাজমুল হোসেন (মোটরসাইকেল ৫০৮)। ৩ নং লতা ইউনিয়নের ৩ প্রার্থীর মধ্যে একজন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ৭হাজার ১শ ৮ ভোট। তিনি হলেন মোঃ অলি সরদার ( হাতপাখা ৪২৪)৪ নং দেলুটি ইউনিয়নের ৩ প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১০হাজার ১শ ৭০ভোট। তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোলটন মণ্ডল (ঘোড়া ৭৩৪)। ৫ নং সোলাদানা ইউনিয়নে ৪ প্রার্থীর মধ্যে দুইজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১৩হাজার ৬শ ৬ ভোট। তারা হলেন ইয়াসির আরাফাত (গোলাপ ফুল ৬২) ও নূরুল ইসলাম গাজী(হাত পাখা ৯১) ভোট।৬ নং লস্কর ইউনিয়নের চার প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১২হাজার ৩শ ১১ভোট। তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ননী গোপাল মন্ডল (ঘোড়া ৪৫)।৭ নং গদাইপুর ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১৩হাজার ২শ ৮৫ ভোট তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী আব্দুস সালাম (আনারস ৪৫), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ জাকির হোসেন (ঘোড়া১৪১০) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সোহরাওয়ার্দ্দী (মোটরসাইকেল১০৬)।৮ নং রাড়ুলী ইউনিয়নের ৩প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১৮হাজার ১শ ২২ভোট তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মজিদ গোলদার (আনারস ৩৫৭) ভোট।৯ নং চাঁদখালী ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ২৪হাজার ২শ ৭৮ ভোট। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তা গাউছল হক (মোটরসাইকেল ৩৩২), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসান উল্লাহ (আনারস ৭৩৪) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম গাইন (হাতপাখা ৩৭১) ভোট।১০ নং গড়ইখালী ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১৪হাজার ৪শ ২৮ ভোট। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম এনামুল হক (মোটরসাইকেল২৩৭), স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মোস্তফা কামাল (ঘোড়া ১২) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফারুক হোসেন মোড়ল (হাতপাখা১০৯)ভোট। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, যারা কমভোট পেয়ে জামানাত হরাচ্ছেন তাদের তালিকা অতিদ্রুত জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠনো হবে









































