মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ।।
ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য যশোরের মণিরামপুরে ১৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ করে ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাজের অনুমোদন পাননি। তবে অনুমোদন বাদে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টুকিটাকি কাজ করিয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো কাজ শুরু হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ আগষ্ট) সরেজমিন যোগীপোল মাঝপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে ওই প্রতিষ্ঠানে কোন কাজ হয়নি। ভবন তালাবন্ধ পড়ে আছে। একই অবস্থা গোপিকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সেখানে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কোন কাজ হয়নি। কাজ হয়নি দোদাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।
গত ৯ মে উপজেলার হোগলাডাঙা, চন্ডিপুর, জোকা কোমলপুর, চাকলা, গোপিকান্তপুর, হালসা পাড়দিয়া, বালিয়াডাঙা খানপুর, যোগীপোল মাঝপাড়া, গোপমহল মদনপুর, দোদাড়িয়া, হানুয়ার কোমলপুর, হরিশপুর, আমিনপুর, চালকিডাঙা, হাজরাকাটি ও জামলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দুই লাখ করে ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে।
কমিটির চাহিদা অনুযায়ী কাজের প্রাক্কলন করার কথা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর। সেই অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে দেড় মাস পার হলেও এখনো কোন প্রাক্কলন তৈরি হয়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমোদন না পেলেও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
যোগীপোল মাঝপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীত দাস বলেন, এখনো কাজ শুরু করিনি। কমিটির সভা হয়েছে। ২-৫ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করব।
একই কথা বলছেন গোপিকান্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান অঞ্জনা রানী এবং দোদাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান আব্দুল লতিফ।
চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়ফুল আলম বলেন, প্রাক্কলন পাইনি। আমাদের তালিকার ভিত্তিতে শিক্ষা অফিস কাজ শুরু করতে বলেছেন। কিছু মাটি ও বারান্দার প্লাস্টারের কাজ করাইছি। দ্রুত অন্যকাজগুলো শুরু করব।
মনিরামপুর সদর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন বলেন, আমার ক্লাস্টারে হাজরাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। প্রধান শিক্ষক ভবনের গ্রিল ও ছাদের কিছু কাজ করিয়েছেন। এখনো কাজ শেষ হয়নি।
মণিরামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেহেলী ফেরদৌস বলেন, করোনার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ করানো সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী চুড়ান্তভাবে প্রাক্কলন দেননি।
নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার বলেছি তিনি লোকবলের সল্পতার কথা বলছেন। তবে তার খসড়া অনুমোদনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, হোগলাডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তিনটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে কাজ শেষ করেছে। তবে কাজ শেষ হওয়া বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে পারেননি তিনি।
এই বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল হককে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, প্রাক্কলন না পাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।










































