স্টাফ রিপোর্টার ।।
নাম ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’। এই যন্ত্র দিয়ে আলাদা করা যায় রক্তের উপাদান। রক্তের জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় লাগে যন্ত্রটি। ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীর রক্তে ‘প্লাটিলেট’ নামের উপাদান কমে যায়। তখন ওই যন্ত্রের সহায়তা নিয়ে রোগীর শরীরে প্লাটিলেট দেওয়া যায়। খুলনা মেডিকেল কলেজ ছাড়া বিভাগের আর কোনো সরকারি সেবাকেন্দ্রে নেই এই যন্ত্র। সেই যন্ত্রও ১১ মাস ধরে বিকল। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়লে খুলনা অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানতে চাইলে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) খুলনা শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল কাদির বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভাগের পাশাপাশি বাইরের বিভিন্ন এলাকার গুরুতর অসুস্থ রোগীরাও চিকিৎসা নেন। সেই হাসপাতালে এ রকম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র দীর্ঘ সময় বিকল থাকার বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও যন্ত্রটি আসছে না বলে তিনি জানতে পেরেছেন উল্লেখ করে আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের এ ধরনের সমন্বয়হীনতা আমরা কোনোমতেই মেনে নিতে পারি না। যন্ত্রটি চালু করতে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বা অজুহাত খুলনাবাসী শুনতে চাইছে না।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৫ মার্চ খুলনা মেডিকেল কলেজে স্থাপন করা হয় একটি ব্লাড সেল সেপারেটর। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন একটি যন্ত্র আনা হয়। চালুর ছয় মাসের মধ্যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের নিজস্ব অর্থায়নে সেটি ঠিক করা হয়। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ওই যন্ত্রের মাধ্যমে পুনরায় সেবা দেওয়া শুরু হয়। এরপর আরও কয়েক দফায় বিকল ও চালুর মধ্যে ছিল যন্ত্রটি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। রক্তের বিভিন্ন উপাদান আলাদা করতে হয় রক্তরোগের চিকিৎসায়। ফলে যন্ত্রটির চাহিদা থাকে সারা বছরই।
চিকিৎসকেরা বলছেন, রক্তের বিভিন্ন উপাদান আলাদা করার প্রয়োজন পড়ে নানা ধরনের রক্তরোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে। এর মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, লিউকেমিয়া ও লিভার সিরোসিস। ফলে যন্ত্রটির চাহিদা থাকে সারা বছরই। যন্ত্রটি যখন চালু ছিল, তখন প্রতিদিন এই অঞ্চলের ৩০-৪০ জন সেবা নিতেন। এখন ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম। ফলে রোগীর প্লাটিলেট দেওয়ার জন্য যন্ত্রটির খুবই দরকার। এমন সময়ে যন্ত্রটি বিকল থাকায় চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
যে কারণে জরুরি যন্ত্রটি
ব্লাড সেল সেপারেটর যন্ত্রটি ‘রেফ্রিজারেটেড সেন্ট্রিফিউজার’ নামেও পরিচিত। এটির কাজ হচ্ছে রক্তের বিভিন্ন উপাদানকে আলাদা করা। রোগীর জন্য রক্ত নেওয়া হয় সুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে। সেই রক্তে থাকে লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট ও প্লাজমা। সব উপাদান সব রোগীর বেলায় লাগে না। যেমন ডেঙ্গু রোগীর জন্য লাগে শুধু প্লাটিলেট। যন্ত্রটির মাধ্যমে ওই উপাদান আলাদা করে রোগীর দেহে দেওয়া হয়। অন্য উপাদানগুলো পৃথক করে রাখা হয়। প্রয়োজনে সেই উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে ভিন্ন কোনো রোগীর জন্য। এ কারণে রক্তসংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসায় খুবই জরুরি একটা যন্ত্র ব্লাড সেল সেপারেটর।
হাসপাতালের পরিচালক রবিউল হাসান বলেন, বিকল যন্ত্রটি মেরামত এবং নতুন একটি যন্ত্র আনার জন্য চেষ্টা চলছে। মেরামতের জন্য চিঠির পাশাপাশি নতুন যন্ত্রের জন্য চাহিদাপত্রও দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া নিজেদের অর্থায়নে কী করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিষয়টির দ্রুত সুরাহা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
শনিবার চালু ২০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট চালু হচ্ছে। আজ শনিবার থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিটের কার্যক্রম চলবে। আপাতত হাসপাতালের চতুর্থ তলার দুটি কক্ষে পুরুষ ও নারী রোগীদের জন্য পৃথক ১০টি করে শয্যা রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু ইউনিটের দায়িত্ব হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডকে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক-শিক্ষকের সমন্বয়ে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় বলছে, খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।










































