Home আলোচিত সংবাদ ৪৬ ঘণ্টা পর চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

৪৬ ঘণ্টা পর চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

2


ঢাকা অফিস।।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় ৪৬ ঘণ্টা পর পুনরায় চালু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টা ৭ মিনিট থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফেরে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তাপবিদুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বুধবার (২২ এপ্রিল রাত ১০ টা ২ মিনিটে) কয়লার সাথে বড় বড় পাথর এসে কয়লার মিলে পড়ে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ যায়। তারপর আমাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ৪৬ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে চালু করা সম্ভব হয়েছে। এই ইউনিটটি থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।’

জানা যায়, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ২ মিনিটে কেন্দ্রটির শেষ সক্রিয় ইউনিটটিও কয়লার সঙ্গে বড় বড় পাথর এসে বয়লারের টিউব ফেটে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায় ১ নম্বর ইউনিটটি। এই ইউনিটটি থেকে ৫০-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের সবকটির উৎপাদন স্থগিত হয়ে পড়ে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে শুরু হলেও ২০১৭ সালে আরেকটি ২৭৫ মেগাওয়াট ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। তবে নানা যান্ত্রিক জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনই একসঙ্গে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৩য় ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট) ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ। ২য় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। ১ম ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) গত ৩০ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে ১৪ জানুয়ারি চালু হলেও ২২ এপ্রিল পুনরায় বন্ধ হয়।