স্টাফ রিপোর্টার।।
শনিবার দুপুর পৌনে একটা। খুলনা নগরীর ব্যস্ততম পিটিআই মোড়। পাশের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তখন রোগীদের ভিড়। অসংখ্য মানুষের সামনে চাইনিজ কুড়াল হাতে সেখানে প্রবেশ করলেন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কাঁচের দরজা, জানালা, এসি, টিভিসহ সামনে যা পেয়েছে কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করে ফেলে। এ সময় হামলাকারীদের একজন ঘটনাটিকে মুঠোফোনে ভিডিও করে। এরপর সবার সামনে দিয়ে বীরের মতোই বের হয়ে যায়।
গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা ও ভাঙচুরের চতুর্থ ঘটনা এটি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে পঞ্চম। আগের প্রতিটি ঘটনার মতো এবারও মালিকপক্ষ ‘বোবা’ হয়ে গেছেন। পুলিশও কিছু বলতে পারছে না।
তবে ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠান এবং ভুক্তভোগীরা জানান, পিটিআই মোড় কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পাওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দিন দিন সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাঁচজন যুবক খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে প্রবেশ করেন। তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দু’টি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার গ্লাস, রিসিপশনের কাউন্টারসহ সামনে যা পেয়েছে সব কিছু ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। ভাঙচুর শেষ হলে তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য আমাকে ফোন দেয়। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিকে হতে ফোন কেটে দেয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চেয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’ আগের ঘটনাগুলোর মতোই দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে সকলকে শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে অবস্থিত সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮-১০ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে।
সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত ‘চাইনিজ প্যালেস’রেস্তোরাঁ য় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকে। মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবকেরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেনি। সন্ধানীতে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।











































