Home Lead ”আমাদের বন্ধুকে শেষ বিদায় দিতে এসেছি” জানাজায় অপ্রতিমের সহপাঠীরা

”আমাদের বন্ধুকে শেষ বিদায় দিতে এসেছি” জানাজায় অপ্রতিমের সহপাঠীরা

3

খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।

”ক্লাসে ওর (অপ্রতিম) সঙ্গে পাশাপাশি বসতাম। যেখানে বসতো, সেখানে বেঞ্চে ও নাম লিখে রাখছে ‘অপ্রতিম’। আমরা কেউ তার জায়গায় বসতাম না। অনেক ভালো ছাত্র ছিল সে। স্যার যে পড়া দিতেন, তা ঠিকমতো করতো। আজ (২০ সেপ্টেম্বর) আমাদের বন্ধুকে শেষ বিদায় দিতে এসেছি। ”

কথাগুলো বলছিল অপ্রতিমের সহপাঠী সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. আরিফুল ইসলাম। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেয় সে। জানাজা শেষে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা হয় আরিফের। এসময় অপ্রতিমের ১৫-২০ জন সহপাঠী সেখানে উপস্থিত ছিল।

আরিফুল আরো জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেসবুকে যখন দেখলাম অপ্রতিম নিখোঁজ, তখন আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। অপ্রতিম হারিয়ে যাওয়ার মতো ছেলে না, নিশ্চয়ই ওকে কেউ কিছু করেছে।’ কথাগুলো বলার পর থেমে যায় আরিফ। কিছুক্ষণ নীরব থাকে। অপ্রতিমের সঙ্গে কাটানো শেষ সময়ের কথা মনে করে, তারপর বলে, ‘হারিয়ে যাওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা একসঙ্গে ফুটবল খেলেছি। তখন তো বুঝতেই পারিনি, এটাই ওর সঙ্গে আমাদের শেষ দেখা।’

আরিফ বলে যায়, ‘স্কুলে কোনো অনুষ্ঠান হলে আমরা একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম, হাসাহাসি করতাম। অপ্রতিম আর আমাদের মাঝে নেই- বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও মোবাইল এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী এ কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মো. সিয়াম নামে অপ্রতিমের অপর এক সহপাঠী কালের কণ্ঠকে বলে, ‘অপ্রতিমকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে এসে বুক কেঁপে উঠছে। এত তাড়াতাড়ি তাকে বিদায় দেব- এটা ভাবতেও পারেনি। ক্লাসে তার শূন্যতা কোনোদিনও পূরণ হবে না।’

সিয়াম আরো বলে, ‘আমাদের ক্লাসে প্রায় ৯০ জন সহপাঠী আছে, সবাই তার জন্য কেঁদেছি। অপ্রতিমকে যেভাবে যারা হত্যা করেছে, আমরা ঠিক সেভাবেই তার হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চাই।

এদিকে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার নূরজাহান ভিলায় অপ্রতিমের লাশবাহী গাড়ির সামনে ভিড় করছিল অপ্রতিমের সহপাঠীরা। তখনও বাড়ির তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট অপ্রতিমের মায়ের আহাজারি শোনা যাচ্ছিল। অপ্রতিমের শেষ বিদায় মুহূর্তে মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছিল পরিবেশ।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে অপ্রতিমের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের উদ্দেশে বাড়ি ছেড়ে যায়। ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গাড়িটি কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় আসে। গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে তার রক্তাক্ত মরদেহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।