মিলি রহমান।।
থাইরয়েড যে কাউকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এই সমস্যায় সাধারণত নারীরা বেশি ভোগেন। পুরুষের তুলনায় নারীরা ৫-৮ গুণ বেশি ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে একজন পুরুষ থাইরয়েডে আক্রান্ত হন, তবে নারীদের আক্রান্তের সংখ্যা ৫-৮ জন।
নারীদের থাইরয়েডের সমস্যার মূল কারণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন এই দুধরনের হরমোন নারীদের শরীরে বিদ্যমান। এই দুই হরমোন ক্ষরণে তারতম্য হলে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা যায়।
থাইরয়েড রোগের লক্ষণ হলো– খুব বেশি থাইরয়েড হরমোন (হাইপারথাইরয়েডিজম) এবং খুব কম থাইরয়েড হরমোন (হাইপোথাইরয়েডিজম)। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলেছে, ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ যদি বেশি মাত্রায় হয়, তা হলে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং সমস্যার সূত্রপাত হয়।
থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের দিকে, স্বরযন্ত্র বা এডামাস অ্যাপেলের মতো ঠিক নিচে এবং শ্বাসনালীর ওপর অবস্থিত। এটি দেখতে প্রজাপতি আকৃতির, দুটি লতি বা রোব গলার দুপাশে থাকে এবং মাঝখানে একটি সরু অংশ দিয়ে যুক্ত থাকে। থাইরয়েড গ্রন্থি হরমোন তৈরির মাধ্যমে দেহের প্রায় সব বিপাকীয় প্রকিয়াকে প্রভাবিত করে। এছাড়া বুদ্ধির বিকাশ, শরীরের বৃদ্ধি, নারীদের ঋতুচক্র ও গর্ভধারণ ইত্যাদিকেও প্রভাবিত করে।
নারীদের থাইরয়েডের সমস্যার মূল কারণ হলো- তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিন্নতা, শরীরের হরমোন ঘন ঘন পরিবর্তন এবং জিন বা বংশগত প্রভাব।
কারা ঝুঁকিতে আছেন————————————————————
- মা ও গর্ভবতী নারী। সন্তান প্রসবের ঠিক আগের ও পরের সময়টাতে ঝুঁকি বাড়ে।
- মধ্যবয়সী ও বয়স্করা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে মেনোপজের পর ও ৬০ বছর বয়সের পর সমস্যা বেশি দেখা যায়।
- বংশগত বা পারিবারিক ইতিহাস। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোনের এই রোগ থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এই সমস্যা দেখা যায়।
এজন্য থাইরয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তাদের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।











































