স্পোর্টস ডেস্ক
২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হওয়ার জন্য চুক্তি করেছিলেন হোসে মরিনিও। তবে শেষ মুহূর্তে কান্নাভেজা অবস্থায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে চেলসিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস্য আধিপত্যে পর ১৩তম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার পর অবসরের ঘোষণা দেন ফার্গুসন। স্কটিশ এই কিংবদন্তির সেই সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ফার্গুসনের বিদায়ের পর আর সেই উচ্চতায় ফিরতে পারেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডেভিড ময়েসকে মাত্র ১০ মাসের মাথায় বরখাস্ত করা হয়।
২০১৬ সালে শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন মরিনিও এবং আড়াই বছর দলটির কোচ ছিলেন। তবে নতুন একটি প্রামাণ্যচিত্রে নিজের জীবনের নানা অজানা ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, এর তিন বছর আগেই ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করেছিলেন।
মরিনিও বলেন, ‘২০১৩ সালে আমি চেলসিতে যাই। কিন্তু সেই সময় এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা কেউ জানে না। আমি মনে করি এখন সত্যিটা বলতে পারি, কারণ এতে কারও ক্ষতি হবে না। আমরা যে কাজটি করছি, তার উদ্দেশ্যই হলো সত্য তুলে ধরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার সময় আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছিলাম। স্যার অ্যালেক্সের পর আমি ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেব।’
ইউনাইটেডের প্রস্তাবে তিনি যে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন, সেটিও জানান মরিনিও। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই আমি খুবই গর্বিত হয়েছিলাম, কারণ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আকর্ষণ অসাধারণ। আমি যখন বলি রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব, তখন আমাকে এটাও বলতে হয়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও তার খুব কাছাকাছি।’
তবে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা এক বিষয় নয় বলে মনে করেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় দ্বিতীয় বিষয়টি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার চেয়েও শক্তিশালী। রিয়াল মাদ্রিদের পর আমার প্রয়োজন ছিল এমন একটি জায়গা, যেখানে আমি অনুভব করব যে আমাকে ভালোবাসা হয়।’
প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ফার্গুসনও। তিনি জানান, শুরুতে তিনি নিশ্চিত ছিলেন মরিনিও ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
ফার্গুসন বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে সে আমাকে ফোন করল। তখন সে কাঁদছিল। সে বলল, অ্যালেক্স, আমি এটা করতে পারব না। আমি চেলসিকে কথা দিয়েছি এবং আমার কথা ভাঙব না।’
মরিনিওর দেওয়া কারণটি বুঝতে পারলেও তিনি হতাশ হয়েছিলেন বলে জানান ফার্গুসন।
চেলসির সঙ্গে মরিনিওর সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত গভীর। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে দলটির দায়িত্ব নিয়ে তিনি দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি এফএ কাপ ও দুটি লিগ কাপ জিতেছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর ক্লাবটির মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে মতপার্থক্য কাটিয়ে আবার চেলসিতে ফিরেছিলেন মরিনিও। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি আরও একটি লিগ শিরোপা ও একটি লিগ কাপ জেতেন। তবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মরিনিও বলেন, ‘স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হওয়ার সুযোগ হারানো আমার জন্য খুবই কষ্টের ছিল। কিন্তু আমি এ নিয়ে অনুতপ্ত নই। কারণ সিদ্ধান্তটি আমি হৃদয় দিয়ে নিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভালোবাসার জন্য কিছু করলে মানুষ কখনো ভুল কিছু করে না। এটাই স্বাভাবিক। আমি ভালোবাসার জন্যই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
মরিনিও জানান, চেলসিতে ফেরার সময় তার মনে হয়েছিল তিনি যেন নিজের ঘরেই ফিরছেন। তবে একই সঙ্গে আগের সাফল্যের কারণে তার ওপর বড় দায়িত্বও ছিল। তিনি বলেন, ‘আগের যা কিছু করেছি, সেগুলো ইতিহাস। আর আপনি চান না নিজের তৈরি উত্তরাধিকারকে নিজেই নষ্ট করতে।’
বর্তমানে আবার রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকা মরিনিও আগামী ২২ আগস্ট এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্পেনের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতায় নতুন মেয়াদ শুরু করবেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে কোনো শিরোপা না পাওয়া দলটিকে আবার সাফল্যের পথে ফেরানোর লক্ষ্যেই কাজ করবেন তিনি।











































